আহকামে যিন্দেগী লেখকঃমাওলানা মুহম্মাদ হেমায়েত উদ্দিন
Link will be apear in 15 seconds.
Well done! you have successfully gained access to Decrypted Link.
বই: আহকামে যিন্দেগী
লেখক: মাওলানা মুহম্মাদ হেমায়েত উদ্দিন
প্রকাশনায়: মাকতাবাতুল আবরার।
ইসলাম মানব জীবনের একটি মুকাম্মাল হেদায়াত ও পূর্ণ দিক নির্দেশনা। মানব জীবনের সর্ব বৃহৎ বিষয় থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ের ব্যাপারেও ইসলামের দিক নির্দেশনা ও
নীতিমালা রয়েছে।জীবনের এমন কোন
বিষয় নেই যেখানে ইসলাম নিরব; এমন কোন
ক্ষেত্র নেই যেখানে ইসলামের নীতি
ও দিক নির্দেশনা অনুপস্থিত। উম্মতের
ফুকাহা, উলামা, বুযুর্গানে দ্বীন ও
মনীষীগণ কুরআন এবং হাদীছ থেকে চয়ন
করে এসব নীতিমালা ও দিক
নির্দেশনাবলী বিভিন্ন গ্রন্থে লিপিবদ্ধ
করেছেন, মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন,
যেন প্রত্যেকে সেগুলো জেনে সে অনুযায়ী
তার পূর্ণ জীবন ঢেলে সাজাতে পারে
এবং যেন প্রত্যকে এভাবে পূর্ণ মুসলমান হতে
পারে। যার মধ্যে পূর্ণ মান্যতা থাকে সেই তো পূর্ণ মুসলমান।
মানব জীবনের বিভিন্ন দিক ও বিষয়
সম্পর্কে উম্মতের এসব লেখনী শত শত
গ্রন্থে এবং বিভিন্ন ভাষায় রচিত গ্রন্থে
ছড়িয়ে রয়েছে; যার সবটা বোঝা এবং
সবটা সংগ্রহ করা সকলের পক্ষে দুঃসাধ্যও
বটে।
এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, ব্যাপক প্রচার – প্রসারের ক্ষেত্রে জ্ঞানগর্ভ রচনা এবং বই পুস্তকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৷ এ ব্যাপারে মুসলিম মনীষীদের অবদান তুলনাহীন ৷ সর্বযুগে সর্ব বিষয়ে বিভিন্ন ভাষায় ইসলামী বিষায়াদীর উপর ছোট বড় এত অধিক পরিমাণ কিতাব এবং বই – পুস্তক রচিত হয়েছে যার নজির অন্য কোনে ধর্মে বিরল ৷
তবে একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে ইসলাম মোতাবেক স্বীয় জীবন গড়ে তোলার জন্য এতসব ঘাটাঘটি করা অতি সহজ ব্যাপার নয় ৷ জ্ঞানের এবং সময়ের স্বল্পতার সাথে সাথে ভাষাগত জটিলতাও অনেক ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় ৷ আমাদের দেশে বাংলা ভাষায় বেহেশতি জেওরসহ অনেক কিতাব ও বই – পুস্তক এ ব্যাপারে যথেষ্ট অবদান রাখছে এতে কোনো সন্দেহ নেই ৷ কিন্তু দেশের প্রেক্ষাপট, তাহযীব – তামাদ্দুন, সংস্কৃতি ও সভ্যতার চাহিদা আর বিশেষত আধুনিক বিষয়াদির নিরিখে আকায়েদ, ইবাদাত মুআমালাত, মুআশারাত এবং আখলাকিয়াতের উপর একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব নাই বললেই চলে ৷
এই শুন্যতা পূরণের লক্ষেই গ্রন্থকার এ গ্রন্থটি রচনা করেছেন ৷
গ্রন্থটিতে সহজ সরল ভাষায় সব ধরণের তথ্য
এবং জীবনের সব আহকাম যথাসাধ্যভাবে
একত্রিত করেছেন ।
একটি গ্রন্থেই জীবনের সব কিছু নিয়ে
আলোচনা করা ও যাবতীয় হুকুম-আহকাম
বিশদ ব্যাখ্যা সহকারে বয়ান করা সম্ভব
নয় তা সকলেরই বোধগম্য। তাই এ গ্রন্থে
বিরল বিষয়াদি বাদ দিয়ে নিত্য
প্রয়োজনীয় বিষয়ের মধ্যেই আলোচনাকে
সীমাবদ্ধ রেখেছেন এবং আলোচনা
সংক্ষিপ্ত ভাবে করেছেন , দার্শনিক
ও বিবরণ মূলক আলোচনার বাহুল্য বর্জন
পূর্বক ব্যবহারিক ও আমলের সাথে
সংশ্লিষ্ট বিষয়কেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
মানব জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট
বিষয়াদিকে সাধারণতঃ পাঁচ ভাগে
বিভক্ত করা হয়-কিছু ঈমান আকীদার
সাথে সম্পর্কিত, কিছু ইবাদাতের সাথে
সম্পর্কিত, কিছু মুআমালাত তথা লেন-দেন
ও কায়-কারবারের সাথে সম্পর্কিত, কিছু
মুআশারাত তথা পারস্পরিক আচার ব্যবহার,
পাস্পরিক অধিকার ও সমাজ
সামাজিকতার সাথে সম্পর্কিত, আর কিছু
আখলাকিয়াত তথা তাযকিয়া বা
আধ্যাত্মিক সংশোধন ও চরিত্রের সাথে
সম্পর্কিত। আলোচ্য গ্রন্থে জীবনের
যাবতীয় হুকুম আহকামের বর্ণনাকে এ
ভাবেই বিন্যস্ত করা হয়েছে। প্রত্যেকটা
ক্ষেত্রেই দুআ-দুরূদ এবং যিকির-আযকারও
সংশ্লিষ্ট স্থানে উল্লেখ করে দেয়া
হয়েছে। গ্রন্থটির ভাষা ও বর্ণনা ভঙ্গি
সহজ সাবলীল রেখেছেন যাতে
সর্বস্তরের মানুষ এ থেকে সহজে উপকৃত
হতে পারেন।
ঈমান – আক্বীদা থেকে শুরু করে ইবাদাত, মুআমালাত, মুআশারাত, ও আখলাক – চরিত্র তথা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের যাবতীয় অত্যাবশ্যকীয় বিধি – বিধান, মাসলা – মাসায়েল ও দোয়া – দুরূদ সম্বলিত এটি একটি অনবদ্য গ্রন্থ ৷ একজন মুসলমানের ইসলামী যিন্দেগী পরিচালনার জন্য যা কিছু জানা প্রয়োজন, সংক্ষিপ্তভাবে সে সব কিছু এ গ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে ৷
গ্রন্থকার এ গ্রন্থে আকায়েদ, ইবাদাত, মুআমালাত, মুআশারাত, এবং আখলাকিয়াতের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়াদি সংযুক্ত করেছেন ৷ আধুনিক মাসলা – মাসায়েল এবং সমসাময়িক বিষয়াদির উপর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেছেন ৷ সহজ সরল ভাষায় অত্যন্ত সুন্দর সঠিক ও সাবলীলভাবে মাসলা – মাসায়েল উপস্থাপন করেছেন ৷ তুলনামূলক অপ্রসিদ্ধ মাসলা – মাসায়েলের বরাত উল্লেখ করেছেন, যাতে প্রয়োজনে কেউ মূল কিতাব দেখে নিতে পারেন ৷ প্রত্যেকটা ক্ষেত্রের দুআ – দুরূদও সংশ্লিষ্ট স্থানে উল্লেখ করেছেন ৷ প্রত্যেকটা ক্ষেত্রের ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত, মোস্তাহাব, ও আদাব সবধরনের আহকাম বর্ণনা করেছেন, যেন মানুষ সবগুলো জেনে নিজেদের জীবনকে পূর্ণভাবে ইসলামের আলোকে ঢেলে সাজাতে পারে ৷
গ্রন্থটি সম্পর্কে যাত্রাবাড়ী মাদরাসার প্রিন্সপাল আল্লামা মাহমুদুল হাসান (দা: বা:) বলেন; “আহকামে যিন্দেগী” নামক এ গ্রন্থখানির ন্যায় বড় বড় বিষয়সহ জীবনের বহু খুটিনাটি ব্যবহারিক বিষয় নিয়ে সমৃদ্ধ ও ব্যাপক ভিত্তিক কোনো একক গ্রন্থ আমার দৃষ্টিতে পড়েনি ৷ তাই উপমহাদেশসহ বিশ্বের সর্বত্র প্রচার প্রসারের উদ্দেশ্যে গ্রন্থখানির উর্দু, আরবী ও ইংরেজী অনুবাদ হওয়া আবশ্যক মনে করি ৷ কোনো আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ কাজে এগিয়ে আসলে ইসলামের একটা বড় খেদমত হবে নিঃসন্দেহে” ৷
ইসলামের সর্ব বিষয়ে, বিশেষ করে বর্তমান আধুনিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট সমস্যাবলীর সমাধানে এ গ্রন্থখানি বিশেষ অবদান রাখবে ৷ অতএব ইসলামের সব বিধান জানার জন্য বইটি নিজে পড়ুন এবং বন্ধু – বান্ধবকে পড়তে উৎসাহিত করুন ৷ রব্বুল ইযযতের দরবারে আরজু যেন তিনি গ্রন্থখানি কবুল করেন , লেখককে হায়াতে তয়্যিবা দান করেন এবং সমস্ত মুসলিম উম্মাহকে এর দ্বারা উপকৃত করেন ৷ আমিন ৷






