ই-কমার্সের জনপ্রিয় তিনটি বই – যা প্রত্যেক উদ্যোক্তার পড়া উচিত



ই-কমার্সের জনপ্রিয় তিনটি বই – যা প্রত্যেক উদ্যোক্তার পড়া উচিত

বই-০১: ফান্ডামেন্টাল অব ই-কমার্স 
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩৫০

বর্তমানে ব্যবসার আধুনিক এবং প্রযুক্তিগত সংস্করণ হচ্ছে ই-কমার্স। প্রচলিত ব্যবসাকে ডিজিটালাইজড করার নামই ই-কমার্স। বর্তমানে সম্ভাবনাময় ই-কমার্স সেক্টরে প্রচুর উদ্যোক্তার সৃষ্টি হচ্ছে। যারা ই-কমার্স শুরু করেছেন বা করবেন বলে ভাবছেন এবং যারা এখনাে ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা করছেন তাদের জন্য একটি প্রাথমিক গাইড লাইন হিসেবে এই বই কাজে আসবে। তরুণ ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের শুরুর জন্য বইটি হবে পথপ্রদর্শক।

আমাদের দেশে ই-কমার্স একদিকে নতুন অন্যদিকে পুরােটাই তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর। একদিকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা উদ্যোক্তা নির্ভর নয় অন্যদিকে ইন্টারনেটেও তথ্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে তরুণ ই-কমার্স উদ্যোক্তারা কিছুটা সমস্যায় পড়েন। আর গ্রামীণ পর্যায় থেকে যারা ই-কমার্স করার কথা ভাবছেন তাদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ধারণা লাভ করা আরাে কঠিন। এছাড়া রয়েছেন নারী উদ্যোক্তাগণ, তারাও অনেক সময় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযােগ পান না। তরুণ ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের সহায়ক গাইড হিসেবেও এই বইটি কাজ করবে।

ই-কমার্স ব্যবসায়ের শুরুর দিকের বেসিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই বই। অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন যারা শুরুতে হোঁচট খেয়ে মুলধারা থেকে সরে যায়। ফলে তারা ব্যর্থতায় বা হতাশায় ভােগেন। তাদের পাশে দাঁড়ানাের জন্যই এই বই। কমার্স এবং ই-কমার্স, ইন্টারনেট ও ই-কমার্স, ই-কমার্স ব্যবসায় মানসিক প্রস্তুতি, ই-কমার্স ব্যবসায় ডকুমেন্টেশন, ই-কমার্স বিজনেস মডেল, ই-কমার্স বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, বিজনেস প্লান এ্যান্ড রেভিনিউ মডেল, ই-কমার্স টেকনােলজি, ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম, প্রােডাক্ট অ্যান্ড সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট, অর্ডার এন্ড কাস্টমার ম্যানেজমেন্ট, কন্টেন্ট ইন ই-কমার্স , ই-কমার্স মার্কেটিং, ই-কমার্স কুরিয়ার এবং ক্রস বর্ডার ই-কমার্স সহ প্রস্তুতিমূলক বিষয়সমূহ তুলে ধরা হয়েছে এই বইতে।

আশা করি তরুণদের ই-কমার্স সংক্রান্ত বিভিন্ন জিজ্ঞাসার জবাব মিলবে এই বইতে যা প্রচলিত ভাষায় সহজ করে উপস্থাপন করা হয়েছে বিষয়গুলাে।
__________
বই-০২: ট্রান্সফরমেশন অব বিজনেস টু ই-বিজনেস
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩৩০

বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আমরা সবাই এগিয়ে যাচ্ছি প্রযুক্তির সাথে। সবকিছুই হয়ে উঠছে প্রযুক্তিনির্ভর । বিশ্বের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে ক্রমশ বদলে যাচ্ছে সবকিছু। বদলে যাচ্ছে আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য, লেনদেন ও প্রচার-প্রচারণার কৌশল । যার পরিপূর্ণ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির সাথে আমাদের তরুণদের সামিল করা আজ সময়ের দাবি। প্রচলিত বিজনেসকে ডিজিটাল তথা ই-বিজনেসে রূপান্তরের জন্য আমাদের কিছু প্রস্তুতি দরকার হয়। আমরা অনেক সময় ইন্টারনেট ঘেঁটে এসব কাজ করার চেষ্টা করি যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের সাথে সামঞ্জস্য না। এসব বিষয় বিবেচনা করে তরুণ উদ্যোক্তা এবং যারা নিজের ট্রেডিশনাল বিজনেসকে অনলাইনে নিয়ে আসতে চান তাদের জন্য এই বই লেখা হয়েছে।

এই বইতে ইন্টারনেট ও ই-বিজনেস, ই-বিজনেসে রূপান্তর, ই-বিজনেস টেকনােলজি, পারফরমেন্স মেজারমেন্ট, রেভিনিউ মডেল, প্রােডাক্ট ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই চেইন, লজিস্টিক, অর্ডার ম্যানেজমেন্ট, কাস্টমার সাপাের্ট, রেপুটেশন ম্যানেজমেন্ট ও ই-বিজনেস মার্কেটিংসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলােচনা করা হয়েছে ।

তরুণ উদ্যোক্তা ও অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি অনলাইন বিজনেস গাইড হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লেখা বইটিতে বর্তমান সময়ের অনলাইন ব্যবসার প্রয়ােজনীয় তথ্য ও জ্ঞানের সমন্বয় করা হয়েছে । বিজনেস প্রযুক্তির বিষয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে সকলের বুঝতে সুবিধা হয়। ধারাবাহিক আলােচনা ও সাবহেড দিয়ে প্রতিটি বিষয়কে অর্থবহ করে তুলেছেন লেখক। আশাকরি বইটি পাঠক সমাজে আদৃত হবে।
____________________
বই-০৩: ডিজিটাল মার্কেটিং ফর ই-কমার্স
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩৩০

ই-কমার্স ও ডিজিটাল মার্কেটিং একটি অন্যটির সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। ই-কমার্স নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের যে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর দক্ষতার অভাবে তা কখনো কখনো ফিকে হয়ে যায়।
ই-কমার্স ব্যবসার প্রধান প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে ব্র্যান্ডিং , মার্কেটিং এবং সেলস। এবং সেটা হতে হবে অবশ্যই অনলাইন এ। আপনি খুব সুন্দর একটি ওয়েবসাইট করলেন কিংবা আপনার এফ-কমার্স পেজ টি চমৎকার ভাবে সাজালেন এবং সেই সাথে আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস টি খুব-ই ভালো অথবা চমৎকার চমৎকার অফার নিয়ে আপনি বসে আছেন কিন্তু ডিজিটাললি আপনার কোনো প্রমোশন নেই তাহলে আপনার পুরো কষ্টটাই বৃথা হয়ে যাবে। আর সে জন্যই আপনার অনলাইন ব্যবসার ডিজিটাল মার্কেটিং এর কার্যকরী সব টেকনিক নিয়েই এই বইটি।

বর্তমান সময়ের সোস্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন, পিন্টারেস্ট, ইনস্টাগ্রাম. ইউটিউবসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করে অনলাইন উদ্যোক্তাগণ যেন তাদের পন্যের প্রচার প্রসার করতে পারে সে আলোকে বইটির বিষয়বস্তু সাজানো হয়েছে। এছাড়া গুগল অ্যাড, গুগল এনালিটিক্স, কনটেন্ট মার্কেটিং, ই-মেইল মার্কেটিং, এসএমএস মার্কেটিং সহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ছবি ও ফিচারের সাথে কৌশলগত দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

একজন অনলাইন উদ্যোক্তা অথবা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও বইটি অবশ্যপাঠ। আজকের ছাত্র এবং ভবিষ্যতের উদ্যোক্তারাও এর থেকে দিক নির্দেশনা পাবে। আর যারা তাদের প্রচলিত ব্যবসায়ের অনলাইন মার্কেটিং করতে চান তারাও এক থেকে নির্দেশনা পাবেন বলে আশা করি। আগামী দিনের ডিজিটাল মার্কেটারদের জন্যও এটি একটি গাইড বই। আশা করি তরুন পাঠক ও উদ্যোক্তারা বইটি থেকে উপকৃত হবেন।

প্যাকেজ মূল্যঃ ৮০৮ টাকা 

বই তিনটি পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন এই ফেইসবুক পেজ এ – অর্ডার লিস্কঃ m.me/Boighorshop



এডসেন্স আবেদন করার পূর্বে যে বিষয়গুলো স্মরণ রাখতে হবে।


এডসেন্স আবেদন করার পূর্বে যে বিষয়গুলো স্মরণ রাখতে হবে।
যারা নতুন, কেবল তাদের জন্য এই পোস্ট। অভিজ্ঞরা ইগনোর করতে পারেন কিংবা আরও তথ্য দিয়ে নতুনদের সাহায্য করতে পারেন।

১. কোন প্লাটফর্ম বা সিএমএস নিবেন?
ওয়ার্ডপ্রেস, ব্লগার, দ্রুপাল, জুমলা কিংবা অন্য যেকোন CMS ব্যবহার করেন না কেন; গুগলের তা যায় আসে না। সুতরাং আপনার সুবিধা অনুযায়ী যেকোন একটি সিএমএস বেছে নিন। তবে এডসেন্স পাবলিশারদের কাছে ওয়ার্ডপ্রেস ও ব্লগার সবচেয়ে জনপ্রিয়। আমি দুটোতেই কাজ করেছি।

২. ১০০% ইউনিক আর্টিকেল লিখুনঃ
১০০% ইউনিক আর্টিকেল লিখুন। আর্টিক্যাল কপি হলে এডসেন্স কখনও পাবেন না। আর্টিকেল গুলো ২৫০+ ওয়ার্ডে লিখুন। তবে আমি ৫০০+ বা ১,০০০+ ওয়ার্ডের উপরে আর্টিক্যাল রাখার পরামর্শ দিবো। অনেকে বলে সাইটে ২০/২৫টি আর্টিক্যাল রাখতে হবে। এইটা সব ক্ষেত্রে ঠিক নয়। এইটা ডিপেন্ড করে আপনি কি ধরনের সাইট নিয়ে কাজ করছেন তার উপর। আর্টিকেলের কোয়ালিটি ঠিক থাকলে ১০/১৫টিই যথেষ্ট।

৩. সাইটে কপিরাইট মুক্ত ছবি ব্যবহার করুনঃ
সাইটে কপিরাইট মুক্ত ছবি ব্যবহার করুন। যদি গুগল থেকে কোন ছবি ব্যবহার করতে চান। তাহলে ব্যবহারের পূর্বে তা সঠিক নিয়মে ইউনিক করে তোলন।

৪. প্রয়োজনীয় পেইজ তৈরী করুনঃ
আপনি যদি এডসেন্স পেতে চান; তাহলে আপনার সাইটে About, Contact, Sitemap ও Privacy নামক পেইজগুলো তৈরী করতেই হবে।

৫. কম্পক্ষে ৫টি লেবেল বা ক্যাটাগরি তৈরী করুনঃ
এই পয়েন্ট-টা নিয়ে হয় তো অনেকেই দ্বিমত পোষণ করতে পারে। তবে এক সময় এইটাকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হতো। তবে যারা নতুন তাদের বলবো, আপনারা কোন মতে না গিয়ে অন্যান্য পয়েন্ট গুলোর মতো এইটাকেও গুরুত্ব দিন। এতে আপনাদেরই লাভ হবে।

যাইহোক, আবেদন করার পূর্বে আপনার সাইটে কম্পক্ষে ৫টি লেবেল বা ক্যাটাগরি তৈরী করুন। এবং প্রতিটি লেবেল বা ক্যাটাগরিতে যেন কয়েকটা আর্টিক্যাল থাকে। আপনি একটি আর্টিক্যাল; একাধিক লেবেল বা ক্যাটাগরিতে রাখতে পারেন কোন সমস্যা নেই।

৬. Google-এ Sitemap সাবমিট করুন।
Google Search Console (পূর্ব নাম- Google Webmaster Tool)-এ আপনার সাইটের Sitemap সঠিক ভাবে সাবমিট করুন। এডসেন্সের আবেদনের পূর্বে নিশ্চিত করুন যে, আপনার সাইটের Sitemap ঠিক মতো সাবমিট হয়েছে কিনা। 

৭. Simple Web Design নির্নয় করুনঃ
এডসেন্সে আবেদন করার পূর্বে আপনার ওয়েব সাইটের Simple Web Design/Theme/Template নির্বাচর্ন করুন। যাতে পেইজ তাড়াতাড়ি লোড হয়। বেশি Gorgeous Web Design সাইটকে ভারি করে তোলে। অতিরিক্ত ভারি সাইটে এডসেন্স পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এই জন্য আপনারা ডিফল্ট থীম বা ট্যাম্প্লেটগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

৮. বাংলা নাকি ইংরেজি ভাষাতে এডসেন্স দেয়?
এখন পর্যন্ত গুগল মোট ৪৫টি (উপ-ভাষাসহ) ভাষাতে এডসেন্স দিয়ে থাকে। এই ৪৫টির মধ্যে বাংলাও অন্তর্ভূক্ত। ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ থেকে বাংলা ভাষায় লিখা ব্লগ বা সাইটগুলোতে এডসেন্স পাওয়া যাচ্ছে। সুতরাং আপনার বাংলা ভাষার ব্লগ/সাইট থাকলেও আপনি এডসেন্স পাবেন কোন সমস্যা নেই।

৯. ডোমেইন/সাইটের বয়স কত হতে হবে?
শুধু ব্লগস্পট সাব ডোমেইনের জন্য একটা সাইটের বয়স মিনিমাম এক মাস হতে হয়। তবে টপলেবের ডোমেইন হইলে কোন সীমা নাই। যেদিন ডোমেন কিনবেন, ঐদিনই এপলাই করতে পারবেন যদি এডসেন্স-এর সকল শর্ত পুরণ হয়।

১০. সাইটের জন্য ফ্রি নাকি পেইড হোস্টিং নিতে হবে?
সাইটের জন্য অবশ্যই পেইড হোস্টিং নিতে হবে। যারা ফ্রি হোস্টিং সর্বরাহ করে তাদের হোস্টিং নেওয়া যাবে না। ফ্রি হোস্টিং-এ কখনও এডসেন্স পাওয়া যায় না। তবে হোস্টিং প্রভাইডারদের কাছ থেকে যদি কোন ভাবে হোস্টিং ফ্রি বা অফারে পেয়ে থাকেন, সেটা ভিন্ন বিষয়। গুগল কর্তৃক ব্লগারের ফ্রি হোস্টিং ব্যবহার করতে পারেন। এডসেন্স এইটা সাপোর্ট করে।

১১. ব্লগস্পটের সাব-ডোমেইনে কি এডসেন্স দেয়?
নিয়ম অনুযয়ী ব্লগস্পটের সাব ডোমেইনে এখনও এডসেন্স দেয়। এই সাব-ডোমেইন ব্যবহার করে কেউ এডসেন্স পায়, আবার কেউ এডসেন্স পায় না। মোট কথা, ব্লগস্পটের সাব ডোমেইন দিয়ে এডসেন্স পাওয়াটা তুলনা মূলক একটু কঠিন; তবে অসম্ভব নয়। সুতরাং আমার পরামর্শ হলো ব্লগস্পটের সাব ডোমেইন নিয়ে কাজ না করে, টপলেবেল ডোমেইন কিনে কাজ শুরু করেন।

১২. সাইটে মিনিমাম কত ভিজিটর থাকতে হবে?
আপনি যদি এডসেন্সের সকল শর্ত ১০০% পুরন করে থাকেন, তাহলে সাইটে যদি শূণ্য ভিজিটর থাকে... তবুও আপনি এডসেন্স পাবেন। সুতরাং এডসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে ভিজিটর কোন ফ্যাক্ট নয়।

উপরের বিষয় গুলো যদি আপনি ঠিক মতো অনুসরণ করেন। তাহলে এডসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রকার সমস্যা হবে না। যাইহোক, যদি আরও কোন কিছু জানতে প্রয়োজন হয়, তাহলে কমেন্ট করতে পারেন। 

বিঃদ্রঃ বানান কিংবা অসর্তকতাবশত যদি কোন ভুল তথ্য দিয়ে থাকি, তাহলে ক্ষ
মা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ সকলকে!

সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে যা বলছে ইসলাম গর্ভবতী মহিলাদের উপর চন্দ্র ও সূর্য গ্রহনের প্রভাব কি?




সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে যা বলছে ইসলাম গর্ভবতী মহিলাদের উপর চন্দ্র ও সূর্য গ্রহনের প্রভাব কি?


💥সূর্যগ্রহণ : চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোন দর্শকের কাছে সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায় (কিছু সময়ের জন্য)। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়। আমাবশ্যার পরে নতুন চাঁদ উঠার সময় এ ঘটনা বেশি ঘটে। পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত দুই থেকে পাচঁটি সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে শূন্য থেকে দুইটি সূর্যগ্রহণ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়। আরবিতে এর নাম কুসুফ। ইংরেজীতে একে Solar eclipse বলে।

🌘চন্দ্রগ্রহণ : পৃথিবী তার পরিভ্রমণ অবস্থায় চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এলে কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করতে থাকে। তখন পৃথিবী পৃষ্ঠের মানুষ/প্রাণীদের থেকে চাঁদ কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। এটাকে চন্দ্রগ্রহণ বলে। আরবিতে খুসুফ এবং ইংরেজীতে Lunar eclipse বলে।

🌍🌕কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সূর্য গ্রহন ও চন্দ্র গ্রহনের কোন প্রভাব গর্ভবতী মা, বা তার গর্ভস্থ ভ্রুনের উপর পড়ে না। গর্ভবতী মা কোন কিছু কাটলে, ছিঁড়লে বাচ্চা ঠোঁট কাটা জন্মাবে, কোন কিছু ভাঙলে, বাঁকা করলে সন্তান বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেবে – এধরনের যত কথা প্রচলিত আছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা, যার সাথে কুরআন ও সুন্নাহর কোন সম্পর্ক নেই।
চন্দ্র, সূর্য বা অন্য কোন সৃষ্ট বস্তু অদৃশ্য ভাবে কারও উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে এধরনের বিশ্বাস রাখা তাওহীদের পরিপন্থী।
যে আল্লাহ তা’য়ালা ও শেষ দিবসে বিশ্বাস রাখে তার মনে রাখা উচিত যে, আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে চন্দ্র, সূর্যের গ্রহণও একেকটি নিদর্শন। কেউ যদি চন্দ্র বা সূর্য গ্রহন দেখে, তার উচিত হবে রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করা ও বেশী বেশী করে সে সময় আল্লাহকে স্মরণ করা।

🌘🌗🌖🌔বস্তুত সূর্য গ্রহণের সময় গর্ভবতী মহিলাদের বা কারো জন্যই জাগতিক কোন কাজ করা বা না করা নিয়ে কোনরকম বিধি-নিষেধ নেই। এ ব্যাপারে যা প্রচলিত আছে, তা কেবলই কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাস। সে ধরনের কোন নিয়ম মানলে বা বিশ্বাস করলে মারাত্মক গুনাহ হবে। বরং সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণকে মহান আল্লাহর কুদরতী নিদর্শন বলে বিশ্বাস করতে হাদীসে বলা হয়েছে এবং তখন পুরুষগণকে মসজিদে জামা‘আতের সাথে সালাতুল কুসূফ (সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রে) ও সালাতুল খুসূফ (চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে) নামায পড়ার জন্য বলা হয়েছে। এর বাইরে এতে কোনরূপ বিধি-নিষেধ নেই।
[ সূরাহ মায়িদা, ২/ সূরাহ হাশর-৭]

☀রাসূল (সাঃ) বলেছেন •►
“চন্দ্র এবং সূর্য এ দুটি আল্লাহর নিদর্শনের অন্যতম। কারও জন্ম বা মৃত্যুর কারণে এদের গ্রহন হয় না। তাই তোমরা যখন প্রথম গ্রহণ দেখতে পাও, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর।”
[সহিহ বুখারী ৪৮১৮; ইফা]

☀অন্য বর্ণনায় রাসূল (সাঃ) বলেছেন •►
“চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণ কারও জন্ম বা মৃত্যুর কারণে লাগেনা বরং এদুটো আল্লাহর নিদর্শন, যা দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সতর্ক করেন। অতএব তোমরা যখন গ্রহণ লাগতে দেখ, আল্লাহর জিকিরে মশগুল হও যতক্ষণ তা আলোকিত না হয়ে যায়।” [সহীহ মুসলিম ১৯৭২; ইফা]

🌞আমাদের উচিত যা কিছু কুরআন ও রাসূল (সাঃ) এর সহীহ হাদিসে রয়েছে সে সম্পর্কে জানা ও সে অনুযায়ী আমল করা।


লেখক : https://www.facebook.com/abdulhimd.saifullah/

Report Abuse

About Me

Tags

Search This Blog

Categories

Categories

Advertisement

40% Off

Popular Posts