দেশকে কিভাবে বেইমান মুক্ত করতে হয় তা হিটলারের কাছ থেকে শেখা উচিত।



দেশকে কিভাবে বেইমান মুক্ত করতে হয় তা হিটলারের কাছ থেকে শেখা উচিত।

 হিটলার যুবক বয়সে জার্মানির হয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লড়াই করেছেন। সেই যুদ্ধে অটোমান ও জার্মান জোটের পরাজয় হলে মুসলিমদের শেষ খেলাফত অটোমান সম্রাজ্যের পতন ঘটে ও জার্মানি ব্যাপক অর্থনৈতিক দুর্দশায় পতিত হয়। 

জার্মানির পরাজয়ের অন্যতম একটি কারন ছিলো যুদ্ধ চলাকালীন সময় জার্মানি আত্মসমর্পণ করেছে বলে জার্মানির ভেতরে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। এর জন্য জার্মান সমরাস্ত্র কারখানাগুলোর শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেয়। এতে করে ফ্রন্টলাইনে জার্মান সেনারা মারাত্মক অস্ত্র, খাদ্য ও ওষুধ ঘাটতির সম্মুখীন হয়। অটোমানরাও বিপাকে পড়ে যায় কারন সেই সময় নতুন আবিষ্কার হওয়া বিমান ও আধুনিক সব আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তুরস্ককে সাহায্য করতে মিত্র জার্মানি। এই গুজবটি ছড়িয়েছিলো ইহুদিরা। যুদ্ধের পর হিটলার দেখতে পান কীভাবে একসময় বিদেশ থেকে আসা রিফিউজি ইহুদিরা জার্মানির সব সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে দেশের অর্থনিতীকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। নিজের সাহস ও যোগ্যতায় মাটির তলা থেকে উঠে এসে জার্মানির রাষ্ট্রনায়ক হন তিনি। তারপর প্রথমে জার্মানিকে ইহুদি প্রভাবমুক্ত করে পরে ২য় বিশ্বযুদ্ধ লাগিয়ে পুরো ইউরোপে ইহুদি নিধন চালান। 

হিটলারের ইহুদি নিধনের জন্য সবাই তাকে গালাগাল করলেও আমি ব্যাক্তিগতভাবে তার প্রতি কৃতজ্ঞ। হিটলার তখন ৬০ লাখ ইহুদি না মারলে আজ কমপক্ষে ৫ কোটি ইহুদি থাকতো পৃথিবীতে। সামান্য দেড় কোটি ইহুদি আজকে ৭০০ কোটি মানুষের জীবন নরক বানিয়ে রেখেছে সেখানে ৫-৬ কোটি ইহুদি থাকলে কেমন অবস্থা হতো চিন্তা করে দেখেছেন? এছাড়াও মুসলমানদের একদিন সকল ইহুদিদের হত্যা করতে হবে একথা কুরআনেই লেখা আছে। সেই একই কাজ এগিয়ে রাখার জন্য হিটলারকে কেন ঘৃণা করা হবে? 

 হিটলারের সময় জার্মানির মতো অবস্থা এখন বাংলাদেশে বিদ্যমান। দেশের অধিকাংশ প্রশাসনিক পদ হিন্দুদের দখলে। প্রত্যেকটা ক্রিটিকাল পদে হিসাব করে করে হিন্দু আর নাস্তিকদের বসানো হয়েছে। যার ফল আজকে ৯০% মুসলমানদের দেশে মাত্র ৮% হিন্দুর অবাধ ইসলাম অবমাননার মাধ্যমে দেখতে পাই। শাপলা চত্বরে রাতের আধারে হাজার হাজার আলেমদের উপর গণহত্যা চালানো হয়। দেশটা ভারতের হাতে তুলে দিতে চেষ্টার কোন ঘাটতি রাখছেনা এই বেইমান সম্প্রদায়টি। বাংলাদেশেও তাই এখন একজন হিটলার প্রয়োজন।
collected Facebook.com

Oppo A9 (2020) Full Review in Bangla | অপু এ9 (২০২০) রিভিউ



Oppo A9 (2020) Full Review in Bangla | অপু এ9 (২০২০) রিভিউ


রিয়েল মি মোবাইলের 19 সাল টা খুবই সুন্দর গেল বেশ কিছু অসাধারণ ডিভাইস উপহার দিয়েছিল তারা আমাদেরকে 2016 চালু আছে বাজেট এবং মির্জাগঞ্জে আমাদের সাথে আছি সারাদিন টো-টো করে ঘুরে আশিকুর রহমান তুষার ভেরি ইন্টারেস্টিং ফোন যারা বাজে ফোন করার কথা চিন্তাও করেন না তারা বাদে বাকি কেউ ভিডিও স্কিপ করবেন না প্লিজ দেশের বাজারে শুধুমাত্র 3gb রম 32gb রম বেরিয়ে এসেছে 10990 টাকা প্রাইস ইন দিয়ে খুবই কম বিডি প্রথম

দুটি ভার্সন আছে ইন্ডিয়ান এবং গ্লোবাল আমাদের দেশের আনঅফিসিয়াল মার্কেটে পাওয়া যেত ইন্ডিয়ান ভার্সন ছিল সেটা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ছিল না পিছনের ক্যামেরা ছিল দুইটা তিনটা ক্যামেরা দুটি গ্যালারি পেয়ে যাবেন লাল এবং নীল আমার কাছে লালটা বেশি একটিভ লাগছিল কারন সেখানে আমরা পাইনি বেশ বাল ভিতরে বিশাল ব্যাটারি তাই নিল কাটার মত একটা জিনিস থাকে না ওইটার মত 736121 কিভাবে বুঝতেছিনা

বেশ ভালো কোয়ালিটি যথেষ্ট শক্ত করুন গৃপিং বেশ ভালোই কাটছে ডেডিকেটেড এসডিকার্ড অপশনে রেখেছে যা 256gb পর্যন্ত সাপোর্ট করে ওজন 195 গ্রামের দাম 29.50 ব্যাপারটা দেখতেছি না এখানে নিয়ে যাচ্ছে ড্যান্স পারফরমেন্স সব সমস্যা ঠিক হয়ে গিয়েছে সেসব নিয়ে কথা হবে আরেকদিন বিচারটা হচ্ছে এটা যে চিপসেটের দিতে পারফরম্যান্স কোড এগুলো কর্টেক্স a7 মার্কেট চ্যানেল

এবারের চিপ এর সাথে ভালো পরিমাণ ফ্রিডম অ্যান্ড স্টোরেজ থাকলেই হয় তবে গেমিং এর জন্য প্রসেসরটা মূল বিষয় মাথায় রাখবেন রিয়েল মিস ইউ থেকে এখন পর্যন্ত এ বছরের সেরা বাজেট গেমিং ডিভাইস এর টাইটেল দিয়ে দেয়া যায় পাবজি মোবাইল গেমস মুড অপশন পাচ্ছেন মানিকপুর ডিপিএস মোটামুটি কন্টিনিয়াসলি 4ps ধরে রাখতে পারছিল অ্যাকশন মোমেন্ট বাদে অ্যাকশন মোমেন্ট স্ক্রীন ফিক্স করে সামান্য একটু রেস্ট করতে পারছিল দেখলাম এরকম প্রাইস আগে দেখিনি ব্রিলিয়ান্ট বেটার পারফর্ম করেছে যারা পাবজি পাগলা এন্ড অফিশিয়াল ফোন কিনবেন এটাই সুযোগ দোকানে গিয়ে বলবেন 60 819 মানি পাবজি ইমেজ গেম এত স্লো চলে বুঝতেই পারতেছেন বাকি দিনগুলোতেও কোন সমস্যা হবেনা ইভেন্ট যারা ফ্রি ফায়ার এন্ড প্লেয়ার আছে বলে আমার মনে হচ্ছে আর স্নাপড্রাগণ 665 দামি ফোন থেকে ওইটা গেমিং পারফর্মেন্স পেয়েছি

ব্রাউজিং সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং একটু পিছিয়ে থাকবে যারা এই ফোনটা কিনবেন চেষ্টা করবেন বেছে-বেছে অ্যাপস ইনস্টল করতে এন্ড রংটা ফ্রি ইন্টারনেট ফ্রি হয়ে যাচ্ছে এটা একটা বাজে ফোন নষ্ট হয়ে গেছে প্যানেল নজরুলের প্যানেল খুবই স্বাভাবিক রিয়েল মিনিট পর্যন্ত খুবই অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না একচুয়ালি আউটডোর ভিসিবিলিটি মধ্যে নানা কর্নিং গরিল্লা গ্লাস 3 প্রটেকশন দেয়া multi-touch নিয়ে কোনো ইস্যু নেই এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া


বুঝা যাচ্ছে কষ্ট কাটিং এর শিকার ডিসপ্লে সামান্য করে যদিও 10 হাজার টাকার ফোন এসব দেখার কোন মানে নেই ডিসপ্লে আমি মেনে নিতে পারি একে কালারস থেকে সরে এসেছে তারা নতুন কিছু না কিছু তৈরী কর তারপর এসে জ্ঞান স্ক্রিন রেকর্ডার আছে আর হাবিজাবি সেকশনে কিছু ছোট ছোট তবে মূল্যবান তথ্য দিবস স্মৃতি নিয়ে কোয়ালিটি সাউন্ড ভালো আমি বেশি টেস্ট করিনি দুইবার দেখলাম দুইবারই ঠিকঠাক ছিল বোরিং পা

ফাইভ থাউজেন্ড এমএইচ এর ব্যাটারি থাকা সুফল হচ্ছে টানা 7 ঘন্টা পাবজি খেলতে পারবেন 7 থেকে 8 ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ নিঃসন্দেহে না থাকাই স্বাভাবিক 10 ওয়াট এর চার্জার দিয়ে বক্সে মিডিয়াটেক পাচ্ছেন না লোক আছে তবে আমার জানান তো এই দুনিয়ায় কেউ ইউজ করে এখন লুডু দরকার উপস্থিত থাকবেন আমাদের বলেছেন এইটা আর ওইটা ভিতরে cm10 বায়োলজি বডি আউটলুক চেন্জ সবশেষে ক্যামেরা 2 মেগাপিক্সেল সেন্সর এবং এখানেই ফোনের মতোই প্রাইমারি ক্যামেরা ভালো ভালো পেলে ভালো ছবি তোলে স্বাভাবিকভাবেই ডিটেইলস এর ঘাটতি আছে স্পেশাল

ভিডিও হয় থাউজেন্ড থার্টি আজ পর্যন্ত কিছু স্যাম্পল দিলাম দেখলে আপনাদের আইডি হয়ে যাবে দেখে নিও চালিয়ে দেয়ার মত আর কি হয় না এটা সবাই জানেন সবচেয়ে ভালো ব্যবহার হচ্ছে এতদিন যে বাজেট গেমাররা যে কষ্টে ছিলেন সেটা কিছুটা হলেও লাঘব করবে রিয়েল মি প্রাইস ইন ভালভিল কোয়ালিটি অসাধারণ গেমিং পারফর্মেন্স এবং ব্যাটারি লাইফের পজিটিভ পয়েন্ট কমতির দিকে ক্যামেরাটাকে ধরব আমি সাথে long-term এক্সপ্লোরের উল্লেখ করে রাখছে যেহেতু গেম খেলা হবে এই ডিভাইসে প্রেসার পড়বে আশা করি এই অধমের পক্ষে সম্ভব হয়েছে আপনাদের সকল মূল্যবান তথ্য দিয়ে উপকৃত করিবারিয়া ভিডিওটি লাইক দিয়ে বাধিত করিবেন

সানিয়া রোমার বিদায় হবার কারণে নাম্বার ওয়ান betasia1 কিরকম দুইটা পাশাপাশি রেখে বুঝেছি এবং রামরাম ভালো থাকবে না বলে আমার মনে হচ্ছে বেশি প্রাচীন ফাইতে ওভারঅল ক্যামেরা পারফরমেন্সে কিছুটা বিএনসিসি থেকে ভালো থাকবেন আসসালামু আলাইকুম

কদরের রাতে কি কি যিকর আযকার করতে পারি ? (রমদানের শেষ ১০ রাত বা বিজোড় রাতগুলোতে)





কদরের রাতে কি কি যিকর আযকার করতে পারি ? (রমদানের শেষ ১০ রাত বা বিজোড় রাতগুলোতে)


১। আস্তাগফিরুল্লাহ (কমপক্ষে ৫০০ বার, যত বেশি সম্ভব হয়)


২। বেশী বেশী দুরুদ পড়া। 


اللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ، اللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ 


হে আল্লাহ! আপনি (আপনার নিকটস্থ উচ্চসভায়) মুহাম্মাদকে সম্মানের সাথে স্মরণ করুন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে, যেমন আপনি সম্মানের সাথে স্মরণ করেছেন ইবরাহীমকে ও তাঁর পরিবার-পরিজনদেরকে। নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহামহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার পরিজনের উপর বরকত নাযিল করুন যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছিলেন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহামহিমান্বিত


আল্লা-হুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিউওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আ-লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিউওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা বা-রাকতা ‘আলা ইব্রাহীমা ওয়া ‘আলা আ-লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ


বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ৬/৪০৮, নং ৩৩৭০; মুসলিম, নং ৪০৬।


৩। সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি (কমপক্ষে ১০০ বার)


৪। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (কমপক্ষে ১০০ বার)


৫। "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আ'লা কুল্লি শাইয়্যিন কদির" (কমপক্ষে ১০০ বার)


৬। আল্লাহুম্মা ইন্নাকা 'আফুউন তুহিব্বুল 'আফওয়া ফা'ফু 'আন্নী। (‎‏(اللهم إنك عفو تحب العفو فاعفُ عني‏ উক্ত দোয়াটি বেশি বেশি পড়বেন।


৭। দুয়া ইউনুস - "লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায্ যলিমীন" ।


৮। "সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি ওয়া সুবহানাল্লাহিল 'আযীম।" (কমপক্ষে ১০০ বার) ।


৯। "সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার" (কমপক্ষে ১০০ বার) ।


১০। "লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ" বেশি বেশি পড়তে পারেন।


১১। "সুবহানাল্লাহিল 'আযিমি ওয়াবি হামদিহ" (যত বেশি পড়া যায়)


১২। সূরা ইখলাস যত বেশি পড়া যায়।


১৩। সুবহানআল্লাহ ,আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহু আকবর (১০০ বার বা তার চেয়ে বেশি) 


১৪। প্রতি ওয়াক্ত এ নামাজ শেষে তিনবার এই দুআ পড়া :


اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ النَّارِ 


হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ‘উযু বিকা মিনান্নার


আবূ দাউদ, নং ৭৯২; ইবন মাজাহ্‌ নং ৯১০। আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ, ২/৩২৮।


যিকর আযকারের পাশাপাশি আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দুয়া মুনাজাত করব। ক্ষমা চাইব। 


.


আল্লাহ এর কাছে কি দুয়া করবেন.. [ চলুন জেনে নেই ]


☛ নিজের গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করবেন !

☛ গুনাহ থেকে বেঁছে থাকার জন্য দোয়া করবেন !

☛ আল্লাহর অনুগত বান্দা হওয়ার জন্য দোয়া করবেন !

☛ সুন্নাহ মেনে চলা সহজ হওয়ার জন্য দোয়া করবেন !

☛ অন্যের কাছে অপদস্থ না হওয়ার দোয়া করবেন !

☛ বদ নজর থাকে বাঁচার জন্য দোয়া করবেন !

☛ বিপদ বালা মছিবত থেকে বেচে থাকার জন্য দোয়া করবেন !

☛ নিজের হেদায়েতের জন্য দোয়া করবেন !

☛ ইসলামের উপর টিকে থাকার জন্য দোয়া করবেন !

☛ মুনাফিকি থেকে মুক্ত থাকার জন্য দোয়া করবেন !

☛ নিজের পরিবারবর্গের জন্য দোয়া করবেন !

☛ পিতামাতার জন্য দোয়া করবেন !

☛ সন্তান সন্ততির জন্য দোয়া করবেন !

☛ সন্তান সন্ততি স্বামী স্ত্রী-নিজের জন্য নয়ন তৃপ্তিকর হওয়ার জন্য দোয়া করবেন !

☛ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য দোয়া করবেন !

☛ সমস্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করবেন !

☛ ছেলে মেয়েদের ইসলামী শিক্ষা দেওয়া সহজ হওয়ার জন্য দোয়া করবেন !

☛ ছেলে মেয়েরা যাতে ইসলামের উপর থাকে সেজন্য দোয়া করবেন !

☛ আত্মীয় স্বজনদের জন্য দোয়া করবেন !

☛ যারা আপনার কাছে দোয়া চেয়েছেন তাদের জন্য দোয়া করবেন !

☛ যে সমস্ত আত্মীয় স্বজন মারা গেছেন তাদের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করবেন !

☛ ইসলামের পথে থাকা সহজ হওয়ার জন্য দোয়া করবেন !

☛ ইসলাম সম্প্রসারণের জন্য দোয়া করবেন !

☛ ইসলামের জন্য বুককে সম্প্রসারণ করার জন্য দোয়া করবেন !

☛ আপনার প্রয়োজন পূরণের জন্য দোয়া করবেন !

☛ রোগ মুক্তির জন্য দোয়া করবেন !

☛ হালাল রিজিক সহজ হওয়ার জন্য দোয়া করবেন !

☛ হারাম কাজ থেকে বেচে থাকার জন্য দোয়া করবেন !

☛ সহজে ঋণ পরিশোধ হওয়ার জন্য দোয়া করবেন !

☛ কাফেরদের উতপীড়ন থেকে নিরাপদ থাকার দোয়া করবেন !

☛ অন্যের উপর বোঝা স্বরূপ না হওয়ার জন্য দোয়া করবেন !

☛ বিদাত থেকে বেচে থাকার জন্য দোয়া করবেন !

☛ শির্ক থেকে বেচে থাকার জন্য দোয়া করবেন !

☛ লোক দেখানো ইবাদত থেকে মুক্ত থাকার জন্য দোয়া করবেন !

☛ ঈমান বৃদ্ধির জন্য দোয়া করবেন !

☛ সকল অবস্থায় খাটি ঈমানদার হয়ে থাকার জন্য দোয়া করবেন !

☛ বদ অভ্যাস থেকে মুক্ত থাকার জন্য দোয়া করবেন !

☛ জান্নাতুল ফেরদৌস এর জন্য দোয়া করবেন !

☛ জাহান্নাম থেকে মুক্ত থাকার জন্য দোয়া করবেন !

☛ কবরের আযাব থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করবেন !

☛ সকল বিকাল জিকির করা সহজ হওয়ার জন্য দোয়া করবেন !

☛ প্রতিদিন কুরআন তিলওয়াত করা সহজ হওয়ার জন্য দোয়া করবেন !

☛ নবীজির শাফায়াত নসীব হওয়ার জন্য দোয়া করবেন ।

☛ দাজ্জালের ফেতনা থেকে বেচে থাকার জন্য দোয়া করবেন !

☛ সকল রকম ফেতনা থেকে মুক্ত থাকার জন্য দোয়া করবেন !

☛ মনে যাতে মুমিনদের প্রতি হিংসা উৎপাদন না হয় সে জন্য দোয়া করবেন।


.


মাসজিদুল হারামের ইমাম শাইখ মাহির রমাদানের শেষ দশ রাতের জন্য এক চমৎকার আমলের ফর্মুলা দিয়েছেন


১) প্রতিরাতে এক দিরহাম (এক টাকা) দান করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর (১০০০ মাস) পর্যন্ত প্রতিদিন এক টাকা দান করার সাওয়াব পাবেন।

.

২) প্রতিরাতে দু' রাকা'আত নফল সালাত আদায় করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে তবে আপনি ৮৪ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন দু' রাকা'আত সালাতের সাওয়াব পাবেন।

.

৩) প্রতিরাতে তিন বার সূরা ইখলাস পাঠ করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন এক খতম ক্বুর'আন পাঠের সাওয়াব পাবেন ।

.

তিনি আরও বলেন, উপরের কথাগুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিন, যারা আপনার কথা শুনে এ আমল করবে, আপনিও তাদের আমলের সমান সাওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ্।

.

কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

"ভালো কাজের পথ প্রদর্শনকারী আমলকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, কিন্তু আমলকারীর সাওয়াবে কোনো ঘাটতি হবে না।..." [মুসলিম ২৬৭৪]


আল্লাহ্‌ আমাদের আমাল করার তৌফিক দিন।


#শেয়ার_করুন


©সিরাতাল মুস্তাকিম


পুরুষের ভাগ্যে সাধারণতঃ তিন প্রকার স্ত্রী জোটে







💖✨পুরুষের ভাগ্যে সাধারণতঃ তিন প্রকার স্ত্রী জোটে


১। কারো ভাগ্যে জোটে প্রভু! ফলে সে স্ত্রীর নিকট স্ত্রৈণ হয়। নিহাতই বিবির গোলাম হয়ে তার আঁচল ধরে সংসার করে। বিবি যেমন বলে ঠিক তেমনি চলে। দাড়িকে ‘ছিঃ’ করলে চট্ ক’রে গাল তেল পারা করে। সিনেমায় যাওয়ার বায়না ধরলে শতখুশী হয়ে স্ত্রীর পশ্চাতে পশ্চাতে চলে। দ্বীন শিখতে, লেখাপড়া করতে বাধা দিলে তাই মানে। মা-বাপকে দেখতে মানা করলে তাই শোনে। ঘরে থাকে সে, আর বাজার করে বিবি। মাছ ধরে সে, ভাগ করে বিবি! আল্লাহর অবাধ্যাচরণ করেও বিবির বাধ্য থেকে সুখানুভব করে। কোন বিষয়ে স্ত্রীকে শাসন করার কথা কল্পনাই করা যায় না, উল্টে সেই স্বামীকে দস্ত্তরমত শাসিয়ে থাকে; এমন মেয়ে কোকিলবধূ হয়, এমনকি নিজেরও যত্ন নেয় না সে।


এমন স্ত্রী স্বামীকে যা বলে স্বামী তা ধ্রুব সত্য বলে মেনে তাকে ফিরিশ্তার মত বিশ্বাস করে এবং যার বিরুদ্ধে বলে তাকে পাকা দুশমন মনে করে। স্বামীর সুস্থ বিবেককে একেবারে হজম করে ফেলে। কোন ভুল হলে কথায় এবং কখনও দৈহিক আঘাতও দিয়ে থাকে স্বামীকে! অথচ এমন গোবেচারী মুসলিম হলে সেই কষ্ট দেখে তার বেহেশ্তী স্ত্রী (হুর)গণ ঐ স্ত্রীকে অভিশাপ দিয়ে বলতে থাকে ‘ওকে কষ্ট দিস্ না, আল্লাহ তোকে ধবংস করুক! ও তো তোর নিকট ক’দিনকার মেহমানমাত্র। অদূর ভবিষ্যতে তোকে ছেড়ে ও আমাদের কাছে এসে যাবে।’’[1]


এমন সংসারে শান্তি কোথায়? কথায় বলে, ‘রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট প্রজা কষ্ট পায়, আর নারীর দোষে সংসার নষ্ট শান্তি চলে যায়।’


২। কারো ভাগ্যে স্ত্রী হয় নিহাতই চরণের দাসী। ফুটবলের মত যে দিকেই লাথি খায়, সে দিকে গড়িয়ে যায়। কত নির্যাতন সহ্য করে দাসীর মতই। স্বামী ছাড়া স্বামীর মা-বোনও তাকে কষ্ট দিয়ে থাকে। ‘তোমার জন্য দাসী আনতে চললাম মা’ কথাকে বাস্তবায়ন করে স্বামী। সময়ে খেতে পায় না কাজের চাপে, সুন্দর পরতে পায় না কথার চোটে। অথচ স্ত্রীর উপর কর্তৃত্ব থাকলেও অবৈধ কর্তৃত্ব নেই। এর জন্যও জবাবদিহি করতে হবে স্বামীকে।


  ৩। তৃতীয় প্রকার স্ত্রী স্বামীর জন্য অপেক্ষাকৃত বয়োকনিষ্ঠ বন্ধু। এমন স্ত্রীর নিকট স্বামী শ্রদ্ধা ও সমীহ পায়, ভক্তি ও ভালোবাসা পায়, পরামর্শ ও সদুপদেশ পায়। এই হল সেই আদর্শ স্ত্রী, যার জন্য হাদীস শরীফে বলা হয়েছে ‘‘জগতের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পদ।’’[2]


প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,


أَربَعٌ منَ السَّعَادَة : المرأَةُ الصَّالحَةُ وَالمسكَنُ الوَاسعُ وَالجَارُ الصَّالِحُ وَالمَركَبُ الهَنيءُ، وَأَربَعٌ منَ الشَّقَاوَة : الجارُ السُّوء وَالمرأَةُ السُّوء وَالمسكَنُ الضَّيِّقُ وَالمركَبُ السُّوء.


‘‘পুরুষের জন্য সুখ ও সৌভাগ্যের বিষয় হল চারটি; সাধবী নারী, প্রশস্ত বাড়ি, সৎ প্রতিবেশী এবং সচল সওয়ারী (গাড়ি)। আর দুখ ও দুর্ভাগ্যের বিষয়ও চারটি; অসৎ প্রতিবেশী, অসতী স্ত্রী, অচল সওয়ারী (গাড়ি) এবং সংকীর্ণ বাড়ি।[3]


‘‘সৌভাগ্যের স্ত্রী সেই; যাকে দেখে স্বামী মুগ্ধ হয়। সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকে। আর দুর্ভাগার স্ত্রী হল সেই; যাকে দেখে স্বামীর মন তিক্ত হয়, যে স্বামীর উপর জিভ লম্বা করে (লানতান করে) এবং সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে ঐ স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে সে নিশ্চিন্ত হতে পারে না।’’[4]


সত্যিই তো ‘ছ্যাঁদা ঘটি চোরা গাই, চোর পড়শী, ধূর্ত ভাই। মূর্খ ছেলে, স্ত্রী নষ্ট, এ কয়টি বড় কষ্ট।’


 উপযুক্ত স্ত্রীর ব্যবহার সকল অধিকারের ঊর্ধে। দাবীর বাইরে অতিরিক্ত তার দান। স্বামীর জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে তার কোন দ্বিধা নেই। তার মনে-প্রাণে শুধু এই ধারণাই থাকেঃ-


‘‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি


এ জীবন মন সকলি দাও,


তার মত সুখ কোথাও কি আছে?


  আপনার কথা ভুলিয়া যাও।’’


এই তো পতিব্রতা সতী। ‘পতি সেবায় থাকে মতি, তবেই তাকে বলি সতী।’ স্বামীর খিদমত হয় তার ব্রত। এমন স্ত্রীই হয় বড় ধৈর্যশীল। যে হালে স্বামীর সাথে থাকে সেই হালেই আল্লাহর শুক্র ও প্রশংসা করে। স্বামী সুশ্রী না হলেও নিজ ভাগ ও ভাগ্য নিয়ে সন্তুষ্ট হয়। ধৈর্যের ফল বড় মিঠা। ধৈর্য ও সবর এক অমূল্য সম্পদ। যদ্বারা ধনী না হলেও ধনীর মত জীবন-যাপন করা যায়। সবর ও শুক্রের ফলে উভয় জগতে রত্নলাভ হয়।


সবর ৩ প্রকার; আল্লাহর ফরযকৃত কর্মসমূহের উপর সবর ও ধৈর্যধারণ; তা নষ্ট না করা। তাঁর নিষিদ্ধ হারামের উপর ধৈর্যাবলম্বন; তাতে লিপ্ত না হওয়া। আর তাঁর লিখিত তকদীরের উপর ধৈর্যধারণ; তাতেই সন্তুষ্ট থাকা এবং তার উপর ক্ষুব্ধ না হওয়া। যার মধ্যে এই তিন প্রকার সবরই বিদ্যমান সে ফকীর হলেও রাজা। গরীবী হাল হলেও সবর ও শুক্রের বলে তার মন থাকে সবল।


এ স্ত্রীর মনে কোন অভিযোগ নেই। কারণ, যেমন স্বামী, যেমন শ্বশুর-শাশুড়ী ও যেমন শ্বশুরবাড়ি সে পেয়েছে---তা তার ভাগ্যের জিনিস।


উত্বী বলেন, ‘‘একদা বসরার এক রাস্তায় পথ চলছিলাম। পথিমধ্যে দেখলাম, এক অপূর্বা সুন্দরী একজন কুশ্রী বৃদ্ধের সাথে উপহাস ও হাসাহাসির সাথে কথা বলতে বলতে পথ চলছে। আমি যুবতীর নিকটবর্তী এসে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ঐ লোকটি তোমার কে?’ বলল, ‘আমার স্বামী।’ আমি অবাক হয়ে তাকে বললাম, ‘তোমার এত সুন্দর রূপ-যৌবন থাকা সত্ত্বেও ঐ কুশ্রী বৃদ্ধকে নিয়ে কি করে সংসার কর?! এটা সত্যই আশ্চর্যজনক ব্যাপার!!’


কিন্তু মহিলাটি আমাকে উত্তর করল, ‘তাতে কি আছে? সম্ভবতঃ উনি আমার মত সুন্দরী পেয়ে আল্লাহর শুক্র আদায় করছেন। আর আমি উনার মত কুশ্রী পেয়েও সবর করে আছি। আর শুক্রকারী এবং সবরকারী উভয়ে জান্নাতবাসী হবে! আল্লাহ আমার ভাগ্যে যা জুটিয়েছেন তা পেয়ে সন্তুষ্ট হওয়া উচিৎ নয় কি?!’


এই জবাবে আমি হতবাক হলাম। অতঃপর কিছু না বলে প্রস্থান করলাম।’’


এমন জবাব সত্যিই এক মু’মিন নারীর। পক্ষান্তরে কারো স্ত্রীকে অনুরূপ প্রলোভন, কুমন্ত্রণা ও ফুস্মন্তর দিয়ে তার সংসার নষ্ট করা অবশ্যই কোন মানুষের কাজ নয়; তার পশ্চাতে থাকে শয়তান। পরন্তু প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,


لَيْسَ مِنَّا مَنْ خَبَّبَ امْرَأَةً عَلَى زَوْجِهَا أَوْ عَبْدًا عَلَى سَيِّدِهِ.


‘‘যে ব্যক্তি কারো স্ত্রী অথবা ক্রীতদাসকে তার ( স্বামী বা প্রভুর বিরুদ্ধে) প্ররোচিত করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’’[5]


অবশ্য যে দম্পতি তকদীরে পূর্ণ ঈমান রাখে তারা কোন দিন বিচলিত হয় না।


এমন দম্পতি মু’মিন দম্পতি। এমন চরিত্রবাণ আদর্শ দম্পতির লক্ষণ; লজ্জাশীল হয়, অপরকে কোন প্রকার ব্যথা দেয় না। শান্তি ও শৃঙ্খলতাকামী হয়। পরোপকারী ও হিতাকাঙক্ষী হয়। সত্যবাদী, মিতভাষী, মিষ্টভাষী, ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ, অল্পে তুষ্ট, সহনশীল, অঙ্গীকার পালনকারী, আমানতদার, সংযমী, জিতেন্দ্রিয়, ভদ্র, শিষ্টাচারী, বিনয়ী, স্মিতমুখো হয়। কাউকে লানতান বা অভিশাপ করে না, শীতল মেজাজী হয়। কাউকে গালাগালি করে না, কারো চুগলী, লাগান-ভাজান, কারো গীবত, পরচর্চা, পরনিন্দা করে না। অধীর হয় না। হিংসুটে, বখীল, পরশ্রীকাতর হয় না। যে আল্লাহর জন্য সব কিছুকে পছন্দ করে ও ভালোবাসে, তাঁরই জন্য সকল কিছুকে ঘৃণা করে ও মন্দ বাসে। তাঁরই সন্তুষ্টলাভের উদ্দেশ্যে সন্তুষ্ট ও রাগান্বিত হয়।


উমার বিন খাত্তাব < বলেন, ‘নারী তিন প্রকার; প্রথম প্রকার নারী; যারা হয় সরলমতী, সতী এবং আত্মসমর্পণকারিণী, অর্থের ব্যাপারে স্বামীকে সাহায্য করে, স্বামীর অর্থের অপচয় ঘটতে দেয় না। দ্বিতীয় প্রকার নারী সন্তানের আধার। আর তৃতীয় প্রকার নারী হল সংকীর্ণ বেড়ি; আল্লাহ যে বান্দার জন্য ইচ্ছা তার গর্দানে তা লটকিয়ে দেন।’[6]


এই ধরনের স্ত্রীরা হল স্বামীর গলার গাব। এরা কেবল ‘হাম করে খায় আর ধুম করে শোয়।’ এদের না আখেরাতের চিন্তা থাকে, আর না-ই দুনিয়ার কোন চিন্তা!


এক প্রকার স্ত্রী আছে; যারা স্বামীর আদেশ-পালনে গড়িমসি, কুঁড়েমি ও গয়ংগচ্ছ করে। বরং তার সে হুকুম তা’মীল না করতে বাহানা খোঁজে। কখনো বা নাক সিঁটকে উপেক্ষাও করে বসে। দ্বিতীয় প্রকার স্ত্রী; যারা আদেশ শোনামাত্র নিমেষে পালন করে। কোন প্রকারের ওজর পেশ বা গড়িমসি করে না, তারা হুকুমে হাজির হয়। কিন্তু আর এক প্রকার স্বামী-প্রাণা স্ত্রী আছে; যারা হুকুমের আশা করে না। হুকুমের পূর্বে স্বামীর প্রয়োজন অনুমান করে পূর্ণ করে রাখে।


অনুরূপ স্বামীও তিন প্রকার। শেষোক্তের দম্পতির যে স্বর্গীয় সুখ জগতেই উপভোগ হয় তা কল্পনাতীত!


[1] (তিরমিযী, ইমা, প্রভৃতি,আযি ২৮৪পৃঃ) [2] (সহীহ আল-জা-মিউস সাগীর অযিয়াদাতুহ ৩৪১৩নং) [3] (আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ ২৮২নং) [4] (ঐ ১০৪৭নং) [5] (আবু দাঊদ, নাসাঈ, তুহফাতুল আরূস, ১৪৬-১৪৭পৃঃ) [6] (আল ইকদুল ফারীদ ৬/১১২)


লেখক: শাইখ আব্দুল হামীদ ফাইজির


 Fatema Tu Johora


মোবাইল ফোনের ব্যাটারির চার্জিং নিয়ে কিছু টিপস 



>মোবাইল ফোনের ব্যাটারির চার্জিং নিয়ে কিছু টিপস :-

প্রশ্ন ১- সারা রাত ফোন চার্জ দিলে কি ব্যাটারির কোনো সমস্যা হয়? 

সঠিক তথ্যঃ অনেকেই দিনে ফোন চার্জে দেয়ার সময় পাননা। রাতে ঘুমানোর আগে স্মার্টফোনটি চার্জে রেখে দিতে পছন্দ করেন। সাধারণত এতে ফোনের ক্ষতি হওয়ার কিছু নেই। মোবাইল ফোনের স্মার্ট প্রযুক্তি আপনার ফোনে সম্পূর্ণ চার্জ হওয়ার পর এর ব্যাটারিতে আর চার্জ দেওয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেয়। যদি চার্জ কখনো একটু পড়ে যায়, তাহলে ফোন সেই চার্জটুকু চার্জার থেকে আবার পূরণ করে নেয়। আরেকটা কথা, ফোনে যদি কোনো সমস্যা থাকেই, তাহলে সেটা চার্জ দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা না রাখলেও কয়েক মিনিটেও সেই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য, ঘুমানোর সময় বিছানায় ফোন নিয়ে চার্জ না দেয়াই ভালো। তাহলে ফোনে আগুন লাগা বা এ জাতীয় দুর্ঘটনা থেকে নিজে অন্তত নিরাপদ থাকতে পারেন।

প্রশ্ন -২ ফোন সবসময় পাওয়ার সেভিং বা লো পাওয়ার মুডে ব্যবহার করা ভালো কি না?

সঠিক তথ্যঃ পাওয়ার সেভিং বা লো পাওয়ার মুড আপনার ফোনে রাখা কোনো সফটওয়্যারের কোনো ক্ষতি করেনা, কিন্তু এই ফিচার চালু করলে আপনি ফোনের সম্পূর্ণ সুবিধা পাবেননা। ফোনগুলো মূলত আপনাকে সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যখন আপনি ফোনের ব্যাটারি সেভিং মুড চালু করেন, তখন ফোনের বেশিরভাগ ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ্লিকেশন বন্ধ হয়ে যায়। ডিসপ্লের আলো কমে যায়, যা আপনার দেখতে সমস্যা সৃষ্টি করে, ফোনের সাউন্ড ততটা জোড়ালো থাকেনা যতটা আপনি হয়ত পছন্দ করেন। নোটিফিকেশন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং আপনি তাৎক্ষণিক তথ্য পাবেননা। তাই ব্যাটারি/পাওয়ার সেভিং মুড শুধুমাত্র তখনই চালু করা উচিত যখন ফোনের চার্জ একদম কমে যায় এবং আপনি শীঘ্রই ফোনে চার্জ দিতে পারছেননা।

প্রশ্ন -৩ পাবলিক চার্জিং পয়েন্টে ফোন চার্জ দিলে ফোনের কোনো ক্ষতি হয় কি না? 

সঠিক তথ্যঃ পাবলিক চার্জিং পোর্ট ব্যবহার আপনার স্মার্টফোনে থাকা তথ্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। যে কর্ড আপনি রেস্টুরেন্টে বা এয়ারপোর্টের পাবলিক চার্জিং পয়েন্টে দেখে থাকেন, সেগুলো তথ্য আদান প্রদানে সমর্থ। এগুলোতে ফোন কানেক্ট করলে হ্যাকাররা আপনার ফোনে থাকা বিভিন্ন কনটেন্ট যেমন, ইমেইল, টেক্সট, ছবি প্রভৃতি নিয়ে নিতে পারে। যদি আপনার প্রায়ই বাইরে থাকা অবস্থায় ফোন চার্জ দিতে হয়, তবে পোর্টেবল চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখা আপনার জন্য ভালো উপায় হতে পারে।

প্রশ্ন - ৪ নতুন ফোন/ফোনের ব্যাটারি ব্যবহারের পূর্বে ফোনকে টানা ৮ ঘন্টা চার্জ দেওয়া উচিত কি না? 

সঠিক তথ্যঃ আপনার ফোনে ইতোমধ্যেই কিছু চার্জ দেয়া আছে, এবং শুরুতে টানা ৮ ঘন্টা চার্জ দেয়ার ধারণাটি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে খাটেনা। তবে প্রথমবার ব্যবহারের আগে ফোনে ফুল চার্জ করে নেয়া ভালো, তাতে এটি সেটাপ করার জন্য আপনার আর মাঝপথে চার্জ দেয়ার দরকার হবেনা।

প্রশ্ন -৫ ফোনের চার্জ সম্পূর্ণ শেষ না হলে চার্জ দেওয়া উচিত কি না? 

সঠিক তথ্যঃ আসলে আপনার উচিত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির চার্জ একদম শেষ হয়ে যাবার আগেই তা পুনরায় চার্জ দেওয়া। এধরনের ব্যাটারি তাদের ক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকেনা, এবং যখন চার্জ দেওয়া হয়, তখন পূর্বের মত চার্জ হয়না- বলেছেন স্যামসাংয়ে কর্মরত একজন ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার সের্জিও ফ্লোরেস। বড় কিছু নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এই সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে, কিন্তু এর পরও অনেক মডেলের ফোনে এই সমস্যা আছে।

প্রশ্ন -৬ একটি অ্যাপ্লিকেশন ব্যাটারির বেশি চার্জ খরচ করতে পারে কি না? 

সঠিক তথ্যঃ একটি অ্যাপও, যেমন ফেসবুক অ্যাপ, আপনার স্মার্টফোনের বেশিরভাগ শক্তি ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট। এমনকি আপনি ব্যবহার না করলেও। এসব অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারে বা করে থাকে। কিছু ব্যবহারকারীর মতে, ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন আনইনস্টলের ফলে ফোনের অন্য অ্যাপ আরো ১৫ শতাংশ দ্রুত কাজ করে ও ফোনের চার্জ ২০ শতাংশ বেশি সময় থাকে।

প্রশ্ন -৭ মাঝে মধ্যে ফোন বন্ধ করার কোনো দরকার আছে কি না? 

সঠিক তথ্যঃ অনেক ব্যবহারকারী কাজের পর অ্যাপ্লিকেশন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করেননা, এতে অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। যদিও সব অ্যাপ অনেক চার্জ নষ্ট করতে পারেনা কিন্তু যত চলতে থাকবে ততই ব্যাটারি লাইফ কমতে থাকবে। সপ্তাহে অন্তত একবার আপনি ফোনটি বন্ধ করে আবার চালু করুন, এটা হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার- উভয়ের জন্যই ভাল।

প্রশ্ন -৮ চার্জে দেয়া অবস্থায় ফোন স্পর্শ করা উচিত কি না? 

সঠিক তথ্যঃ আপনি নিশ্চিন্তে চার্জ দেবার সময় ফোন ব্যবহার করতে পারেন। স্যামসাং ইঞ্জিনিয়ার ফ্লোরেসের ভাষ্যমতে, যদিও আপনি যখন আপনার ফোন চার্জ দিচ্ছেন, এটি সবসময়ের মত ব্যাটারির ক্ষমতা ব্যবহার করেনা (চার্জার থেকে আসা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে)। তবে ফলাফল এবং সার্কিটের কার্যক্ষমতা সবসময় একই হয়।
অবশ্য, চার্জের সময় চালু থাকা বিভিন্ন অ্যাপে বাড়তি কাজ হলে স্মার্টফোনে চার্জ ফুল হতে দেরি হবে। তাই আপনি যদি দ্রুত চার্জ পেতে চান তবে চার্জিং সময়ে ফোন ব্যবহার না করা উচিত।

প্রশ্ন -৯ চার্জিং পোর্ট মিলে গেলেই যেকোনো চার্জার ব্যবহার করা যাবে কি না? 

সঠিক তথ্যঃ অনেকে শুধুমাত্র ফোনের চার্জিং পোর্ট মিলে গেলেই যেকোনো চার্জারে ফোন চার্জ করেন। কিন্তু এসব চার্জার ফোনের ক্ষতি করতে পারে। সকল চার্জারে ভোল্টেজের সামঞ্জস্যতার সঠিক মান থাকেনা। বিদ্যুৎ প্রবাহ কম-বেশি হতে পারে। এতে ফোনের ব্যাটারি, এমনকি সার্কিট বোর্ড/চিপ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আপনার উচিত ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সুপারিশকৃত চার্জার ব্যবহার করা।

প্রশ্ন -১০ একটানা ওয়াইফাই চালু রাখলে ব্যাটারির ক্ষতি হতে পারে কি না? 

সঠিক তথ্যঃ স্মার্টফোনের ওয়াইফাই চালু রাখলে এটি আশেপাশের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক খুঁজতে থাকে। এভাবে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানে নিশ্চয়ই চার্জ ব্যবহৃত হয়, তবে লক্ষ্য করার মত অতটাওনা। আপনার ফোন যখন ওয়াইফাই সিগনাল অনুসন্ধান করে তখন এটি নিজের সিগনাল ব্যবহার করে জানে যে এখানে ওয়াই ফাই আছে কিনা। কিন্তু এর মানে এই না যে আপনাকে সবসময় ওয়াইফাই বন্ধ করে চলতে হবে। তবে চার্জ দেয়ার সুযোগ কম থাকলে ও ব্যাটারি খরচ কম করতে চাইলে অব্যবহৃত অবস্থায় ওয়াইফাই/মোবাইল ডেটা বন্ধ করে রাখা ভাল।

#লাইক কমেন্ট করে অবশ্যয় সাথে থাকবেন।
ধন্যবাদ.....

জেনে নিনঃ সুদ গ্রহণ, সুদ দান এবং এর ভয়াবহতা!










জেনে নিনঃ সুদ গ্রহণ, সুদ দান এবং এর ভয়াবহতা!



.



সুদ ইসলামের একটি কবিরা গুনাহ (Major Sin)। নবী (সাঃ) সুদখোরের প্রতি এবং সুদ দাতার প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন। এটি একটি চূড়ান্ত ধরনের হারাম কাজ!



আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অভিশাপ দিয়েছেন সুদখোরের প্রতি, সুদদাতার প্রতি, এর লেখকের প্রতি ও সাক্ষী দু’জনের প্রতিও। [১]



“অভিশাপ” শব্দটাকে অনেকে হালকা ভাবে নেন। এখানে রাসূল (সাঃ) সুদখোর, সুদদাতাদেরকে চরম গুনাহগার হিসেবে উল্লেখ করে তাদের উপর অভিশাপ দিয়েছেন। পরবর্তী হাদিসগুলো তে একটু চোখ বুলিয়ে নেন। কথাগুলো মাথার মাঝে গেঁথে নিন।



অনেকে টাকার প্রয়োজন বলে ব্যাংক থেকে সুদে লোন নিয়ে থাকেন। একটা জিনিস বুঝা দরকার যে কবিরা গুনাহগুলো কেউ প্রয়োজনের তাগিদে করতে পারেন না। এর জন্য আপনি ক্ষমা পাবেন না।



একটা উদাহরণ এর মাধ্যমে বুঝার চেষ্টা করি…( শেখ হাইতাম আল হাদ্দাদ এর বর্ণিত ঘটনা )



এক বোন আমার কাছে এসে বললো যে তার উপর অনেক ঋণ। এজন্য সে একজন লোকের কাছে চাকরি করতে গেছে। এবং সে লোকটি ঐ বোনকে বলেছে যে, “তুমি আমার এ্যাসিসটেন্ট হিসেবে কাজ করবে, এবং মাঝে মাঝে হয়তো আমার সাথে ট্রাভেল করা লাগবে, এবং মাঝে মাঝে হয়তো আমার সাথে একই রুমে রাত্রে থাকা লাগবে।”



তো আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে, “ঐ লোকটি মূলত তোমাকে দাসী হিসেবে চাচ্ছে এবং তোমার সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক করতে চাচ্ছে। এরকমই তো নাকি বিষয়টা?”



তখন ওই বোন উত্তর দিলো যে, “জ্বী হ্যা। এখন আমি কি এই চাকরিটি করতে পারি যাতে আমার ঋণ শোধ করতে পারি?”



এখন আপনাদের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে যে আমরা কি তাকে অনুমতি দিতে পারি যে, তুমি ঐ ব্যক্তির সাথে যিনা করতে পারো যাতে ঐ টাকা দিয়া তুমি তোমার ঋণ পরিশোধ করতে পারো?



আমরা কি অনুমতি দিতে পারি?



এই বিষয়টা যেমন ইসলাম অনুমোদন দেয় না ঠিক তেমনি সুদও ইসলাম অনুমোদন দেয় না।



সুদকে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমকক্ষ উল্লেখ করেছেন।



“ হে মু’মিনগণ! তোমরা মহান আল্লাহ্‌ কে ভয় করো এবং বাকী সুদ ছেড়ে দাও। যদি তোমরা ঈমানদার হও।


তারপর যদি না ছাড় তবে মহান আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের নিকট থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে লও। ”


[ সূরাহ বাক্বারা, আয়াত ২৭৮-২৭৯ ]



হাদিসে সুদ এর ভয়াবহতার কথা কি বলা হয়েছে একটু ভেবে দেখি…



আবদুল্লাহ ইবনে হানযালা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ


রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি জেনেশুনে ১ দিরহামও সুদ গ্রহণ করবে বা দান করবে তা তার জন্য ৩৬ বার যিনা করার চেয়েও নিকৃষ্ট কাজ। [২]



একবার একটু ভেবে দেখুন। যদি আপনার বোন ভাই বা স্ত্রী কেউ যদি ১ বারও যিনা করে থাকে, তাহলে তার সাথে আপনি সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দিবেন। তাহলে সুদ গ্রহণ করা বা দেওয়া কতটুকু জঘন্যতম অপরাধ তা একটু ভাবেন।



সর্বশেষ এই হাদিসটা অন্তত একটু মনের ভিতর গেঁথে রাখুন।



আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সুদের গুনাহর সত্তরতি স্তর রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র স্তর হলো আপন মাকে বিবাহ (যিনা) করা। [৩]



সবকিছু বাদ দিয়ে এই হাদিসটা আরেকবার পড়েন। ihadis অ্যাপস থেকে হাদিসটা নিজে একবার দেখে আসেন। পারলে মুখস্ত করে রাখেন। উপরোক্ত হাদিসের অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে আপনা মায়ের সাথে কাবা ঘরের ভেতর যিনা করার চেয়ে ও নিকৃষ্ট হচ্ছে সুদ গ্রহণ করা বা সুদ দেওয়া।



ভাইরে ভাই, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এটার ভয়াবহতা কত স্পষ্টভাবে বলে গেছেন। কিন্তু আমরা এত নিশ্চিন্ত থাকি। একবার ও ভাবি না। টাকার প্রয়োজনে সুদে লোন নেই। টাকার প্রয়োজনে কি কখনো মায়ের সাথে যিনার কথা ভেবেছিলেন? যদি না ভেবে থাকেন তাহলে এর চেয়েও ভয়াবহ এই জঘন্য জিনিসটার কথা কিভাবে ভাবেন? নাকি রাসূল (সাঃ) এর কথা যুক্তিসংগত মনে হয় না? অর্থাৎ মায়ের সাথে যিনা করা আপনার কাছে বেশি গুনাহের কাজ এবং সুদ খাওয়া কম গুনাহের কাজ মনে হয়? এরকম মনে হলে ভাই ঈমান নিয়ে ভাবতে হবে।



শেষ কিছু কথা।



সুদ না খেলেও অনেকে সুদ দিয়ে থাকেন। ব্যাংক থেকে লোন নেন। ভাবেন আমি তো আর সুদ খাচ্ছি না। প্রথম হাদিসটা একটু ভালো করে দেখে আসেন। এখানে সুদখোর, সুদদাতা, সুদের রশিদ লেখক এবং সাক্ষী, সবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সুদ দেওয়ার মাধ্যমেও আপনি আপনার মায়ের সাথে যিনার চেয়েও জঘন্য কাজ করতেছেন। এটা মাথার মাঝে সেট করে নেন।



ব্যাংকের জব নিয়ে একটু মতবিরোধ আছে। তবে একটা জিনিস বুঝা দরকার। ব্যাংকের জবে আপনি সুদের বিষয়টা অ্যাপ্রোভ করে যাচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সুদের রশিদ আপনি নিজেই লিখছেন। প্রথম হাদিসটা আরো একবার দেখে আসেন।



অনেকে ব্যাংক জব জাস্টিফাই করতে চাইবেন। আমার সহজ একটা উত্তর থাকবে। ভাই, জীবন একবার পাবেন। একবার মারা গেলে আর ফিরে আসবেন না। কেন ই শুধু শুধু রিস্ক নিবেন? মরার পর যদি বলেন, আমার ভুল হয়ে গেছে। আরেকবার দুনিয়া তে গেলে অন্য কোনো কাজ করবো। তাহলে কি কাজ হবে? আপনি যদি জানেন যে ব্যাংকের লাভের বড় অংশ আসে সুদ থেকে। যদি বুঝেন যে অন্যের সুদের রশিদ লিখে দিচ্ছেন তাহলেও কি মনে হয় না যে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আপনার প্রতি অভিশাপের কথাই বলেছিলেন।



নিজের দ্বীন সম্পর্কে জানুন। ইসলাম শুধু ধর্মীয় বিষয় আশয় নয়। পুরো একটা সিস্টেম এটা। মেনে চললে নিজেই লাভবান হবেন। আর পাশ কাটিয়ে গেলে নিজের কপাল পুড়াবেন।



ইউটিউব থেকে এই লেকচারটা দেখে আসতে পারেনঃ https://youtu.be/nE9urAO9i54






রেফারেন্সঃ


[১] সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৯৮৪, ৩৯৮৫ (ihadis)


Sahih Muslim 1597, 1598 (sunnah.com)



[২] মিশকাত আল মাসাবীহ।


হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস



[৩] ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২২৭৪ (ihadis)


হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস



বিঃদ্রঃ অনেকে মূলত অজ্ঞতার অভাবে এই জঘন্য গুনাহতে লিপ্ত হচ্ছেন। ভয়াবহতা অনেকে উপলব্ধি করতেছেন না। তাই পোস্ট টা পারলে নিজের টাইমলাইন এ পোস্ট করে রাখুন। কার্টেসি টার্টেসি কিচ্ছু লাগবে না। শেয়ার না করে কপি করে পোস্ট করুন যাতে বেশি মানুষের কাছে পৌছে।


জাযাকাল্লাহ খাইর। 💖


.


,



লেখকঃ https://www.facebook.com/jiaul.marjan






জেনে নিনঃ মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফযীলত 



মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফযীলত 

মিসওয়াক(اَهمِيكونَةُ السِّوَاكِ) এর পরিচয়ঃ

মিসওয়াক সিওয়াক ধাতু থেকে নির্গত। এর অর্থ মাজা, ঘষা। পরিভাষায় মিসওয়াক বলা হয় গাছের ডাল বা শিকড় যা দিয়ে দাঁত মাজা ও পরিষ্কার করা হয়। আর দাঁত মাজাকেও মিসওয়াক করা বলা হয়। মিসওয়াক করে দাঁত পরিষ্কার করা আল্লাহ্ তায়ালার নিকট অত্যন্ত প্রিয়।

মিসওয়াকের গুরুত্ব :

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম এর প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং এর প্রতি তাকীদও করেছেন। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ 
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ ‏ "‏ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِتَأْخِيرِ الْعِشَاءِ وَبِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ ‏"‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ থেকে বর্ণিতঃ:

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যদি আমার উম্মতের পক্ষে কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তাহলে আমি ইশার সালাত বিলম্বে আদায় করার এবং প্রত্যেক সালাতের (উযূর) সময় মিসওয়াক করার জন্য আদেশ করতাম।
আন-নাসায়ী ৫৩৪

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا ابْنُ بِشْرٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ قُلْتُ بِأَىِّ شَىْءٍ كَانَ يَبْدَأُ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ قَالَتْ بِالسِّوَاكِ ‏.‏

মিকদাম-এর পিতা শুরায়হ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ঘরে ঢুকে সর্বপ্রথম কোন্‌ কাজটি করতেন? তিনি বললেন, সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন। (ই.ফা. ৪৮১, ই.সে. ৪৯৭)
মুসলিম ৪৭৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ‏.‏‏
হুযায়ফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রাতে (সালাতের জন্য) উঠতেন তখন মিসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতেন।

(৮৮৯, ১১৩৬; মুসলিম ২/১৫, হাঃ ২৫৫, আহমাদ ২৩৪৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৪৪)
বুখারী ২৪৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا قَامَ لِيَتَهَجَّدَ يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ ‏.‏

হুযাইফাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাহাজ্জুদের জন্যে উঠতেন তখন মিসওয়াক দ্বারা ঘষে মুখ পরিষ্কার করতেন। (ই.ফা.৪৮৪, ই.সে. ৫০০)
মুসলিম ৪৮১

أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ - قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَتِيقٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ ‏ "‏ السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ ‏"‏ ‏.‏

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেনঃ তিনি বলেছেন যে, মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ ও আল্লাহ্‌র সন্তোষ লাভের উপায়।
সুনানে আন-নাসায়ী ৫

অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে –

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي الْعَاتِكَةِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ قَالَ ‏ "‏ تَسَوَّكُوا فَإِنَّ السِّوَاكَ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ وَمَا جَاءَنِي جِبْرِيلُ إِلاَّ أَوْصَانِي بِالسِّوَاكِ حَتَّى لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ يُفْرَضَ عَلَىَّ وَعَلَى أُمَّتِي وَلَوْلاَ أَنِّي أَخَافُ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَفَرَضْتُهُ لَهُمْ وَإِنِّي لأَسْتَاكُ حَتَّى لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ أُحْفِيَ مَقَادِمَ فَمِي ‏"‏ ‏.‏

আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা মিসওয়াক করো। কেননা মিসওয়াক মুখ পবিত্র ও পরিষ্কার করে এবং মহান প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের উপায়। আমার কাছে যখনই জিবরীল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসেছেন তখনই আমাকে মিসওয়াক করার উপদেশ দিয়েছেন। শেষে আমার আশঙ্কা হয় যে, তা আমার ও আমার উম্মাতের জন্য ফরয করা হবে। আমি যদি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে তাদের জন্য তা ফরয করে দিতাম। আমি এত বেশি মিসওয়াক করি যে, আমার মাড়িতে ঘা হওয়ার আশঙ্কা হয়।
আহমাদ ২১৭৬৬, ইবনে মাজাহ ২৮৯

মিসওয়াকের ফযীলত :

মিসওয়াকের বহু ফযীলত হাদীসে বর্ণিত আছে।
এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে –
হযরত আয়েশা (রাযি.) বলেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে নামাযের জন্য মিসওয়াক করা হয় তার ফযীলত ঐ নামাযের তুলনায় সত্তর গুণ বেশী, যে নামাযের জন্য মেসওয়াক করা হয় না।
(শুআবুল ঈমান)

মিসওয়াক করার উপকার :

• মিসওয়াক করলে আল্লাহ্ তায়ালার রেযামন্দী হাসিল হয়।
• মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়, দাঁত মজবুত হয়।
• মাথার ব্যথা উপশম হয়, কাশি দূর হয়, পাকস্থলী ঠিক থাকে এবং শরীর শক্তিশালী হয়।
• দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়, স্মরণশক্তি ও জ্ঞান বাড়ে।
• অন্তর পবিত্র হয়, সৌন্দর্য বাড়ে।
• ফিরিশতা তার সাথে মুসাফাহা করেন, নামাযের জন্য বের হলে তাকে সম্মান করেন, নামায আদায় করে বের হলে আরশ বহনকারী ফিরিশতা তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেন।
• শয়তান অসন্তুষ্ট হয়, বিজলীর ন্যায় পুলসিরাত পার হবে, আমলনামা ডান হাতে পাবে।
• ইবাদতে শক্তি পাবে, মৃত্যুর সময় কালিমা নসীব হবে, তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হবে এবং পূত-পবিত্র হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে।
(মারাকিল ফালাহ, পৃ. ৫৪)

মিসওয়াকের ধরণ :

• যে সব গাছের স্বাদ তিতা সে সব গাছের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা মুস্তাহাব।
• যায়তূনের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা উত্তম।
• মিসওয়াক কনিষ্ঠ আঙ্গুলের মত মোটা হওয়া উত্তম।
• মিসওয়াক প্রথমে এক বিঘত পরিমাণ লম্বা হওয়া উত্তম।
• মিসওয়াক নরম ও কাঁচা হওয়া উত্তম।
• মিসওয়াক কম গিরা সম্পন্ন হওয়া উচিত।
• অধিকাংশ উলামায়ে কিরামের মতে অজুতে কুলি করার পূর্বে মিসওয়াক করা উত্তম। তবে কোন কোন আলিম উযূ করার পূর্বে মিসওয়াকের কথাও বলেছেন।
• ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর, নামাযের আগে, মজলিসে যাওয়ার পূর্বে এবং কুরআন ও হাদীস তিলাওয়াত করার পূর্বে মিসওয়াক করা মুস্তাহাব।

মিসওয়াক ধরার তরীকা :

• মিসওয়াক ডান হাতে ধরা মোস্তাহাব।
• ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল মিসওয়াকের নীচে আর মধ্যমা ও তর্জনী মিসওয়াকের উপরে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলী দ্বারা এর মাথার নিচ ভালভাবে ধরা। এভাবে মিসওয়াক করা হযরত ইবনে মাসউদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত রয়েছে।

মিসওয়াক করার তরীকা :

• মিসওয়াক শুরু করার পূর্বে ভিজিয়ে নেয়া উত্তম।
• প্রথমে উপরের দাঁতের ডান দিক অতঃপর বাম দিক, তারপর নীচের দাঁতের ডান দিকে অতঃপর বাম দিকে, তারপর দাঁতের ভিতরের দিকে অনুরূপভাবে ঘষতে হবে।
• উপরোক্ত নিয়মে তিনবার ঘষা উত্তম। প্রতিবারেই নতুন পানি দিয়ে মেসওয়াক ধুয়ে দেয়া মোস্তাহাব।
• মিসওয়াক দাঁতের অগ্রভাগে, উপর ও নীচের তালুর অগ্রভাগে এবং জিহবার উপরিভঅগেও করা উত্তম।
• মিসওয়াক দাঁতের উপর চওড়াভঅবে ঘষা নিয়ম। ইমাম গাযযালী (রহ.) উপর নীচ-ভাবে ঘষার কথাও বলেছেন। কমপক্ষে চওড়াভাবে ঘষতে হবে।
• শোয়া অবস্থায় মিসওয়াক করা মাকরূহ।
• মিসওয়াক করার পর মেসওয়াক ধুয়ে দাঁড় করিয়ে রাখতে হবে।

বি. দ্র. :- মিসওয়াক না থাকলে মিসওয়াকের বিকল্প হিসেবে ব্রাশ ব্যবহার করা যায়। এতে মিসওয়াকের ডাল বিষয়ক সুন্নাত আদায় না হলেও মাজা ও পরিস্কার করার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। অন্যথায় হাত দিয়ে বা মোটা কাপড় দিয়ে দাঁত মেজে নিতে হবে। হাত দিয়ে মাজার তরীকা হল: ডান হাতের বৃদ্ধ আঙ্গুল দিয়ে ডান পাশের দাঁতের উপরে অতঃপর নীচে, তারপর শাহাদাত (তর্জনী) আঙ্গুল দিয়ে ঘষতে হবে।

তাগূত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত






তাগূত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত



.

তাগুত সম্পর্কে কোর'আনে মোট ৮ টি আয়াত রয়েছে। আমরা যদি এই ৮ টি আয়াত খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি তাহলে ইনশাআল্লাহ সমস্ত নবী রাসুলদের মিশন সম্পর্কে খুব ভালো ভাবে জানতে পারবো।এবং এটাও বুঝতে পারবো পুরো ইসলামের ভিক্তিই হলো তাগূত বর্জন ও আল্লাহর প্রতি ইমান আনায়ন এই মুলনীতির উপর।


.


তাগুত নিয়ে কোর'আনের আয়াত -১

.

وَ لَقَدۡ بَعَثۡنَا فِیۡ کُلِّ اُمَّۃٍ رَّسُوۡلًا اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ وَ اجۡتَنِبُوا الطَّاغُوۡتَ ۚ فَمِنۡہُمۡ مَّنۡ ہَدَی اللّٰہُ وَ مِنۡہُمۡ مَّنۡ حَقَّتۡ عَلَیۡہِ الضَّلٰلَۃُ ؕ فَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَانۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۳۶ 

.

আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতিতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং পরিহার কর তাগূতকে। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে আল্লাহ কাউকে হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য থেকে কারো উপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর অতঃপর দেখ , অস্বীকারকারীদের পরিণতি কীরূপ হয়েছে। (সুরা নাহল -৩৬)


.


তাগুত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত -২

.

لَاۤ اِکۡرَاہَ فِی الدِّیۡنِ ۟ۙ قَدۡ تَّبَیَّنَ الرُّشۡدُ مِنَ الۡغَیِّ ۚ فَمَنۡ یَّکۡفُرۡ بِالطَّاغُوۡتِ وَ یُؤۡمِنۡۢ بِاللّٰہِ فَقَدِ اسۡتَمۡسَکَ بِالۡعُرۡوَۃِ الۡوُثۡقٰی ٭ لَا انۡفِصَامَ لَہَا ؕ وَ اللّٰہُ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ ﴿۲۵۶﴾

.

দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় হিদায়াত স্পষ্ট হয়েছে ভ্রষ্টতা থেকে। অতএব, যে ব্যক্তি তাগূতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, অবশ্যই সে মজবুত রশি আঁকড়ে ধরে, যা ছিন্ন হবার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সুরা বাকারা - ২৫৬)


.


তাগুত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত: ৩

.

اَللّٰہُ وَلِیُّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ۙ یُخۡرِجُہُمۡ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ۬ؕ وَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَوۡلِیٰٓـُٔہُمُ الطَّاغُوۡتُ ۙ یُخۡرِجُوۡنَہُمۡ مِّنَ النُّوۡرِ اِلَی الظُّلُمٰتِ ؕ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ﴿۲۵۷﴾٪

.

যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফরী করে, তাদের অভিভাবক হল তাগূত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তারা আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।(সুরা বাকারা -২৫৭)


.


তাগুত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত :৪

.

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ اُوۡتُوۡا نَصِیۡبًا مِّنَ الۡکِتٰبِ یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡجِبۡتِ وَ الطَّاغُوۡتِ وَ یَقُوۡلُوۡنَ لِلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ہٰۤؤُلَآءِ اَہۡدٰی مِنَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا سَبِیۡلًا ﴿۵۱﴾

.

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেয়া হয়েছে? তারা জিবত* ও তাগূতের প্রতি ঈমান আনে এবং কাফিরদেরকে বলে, এরা মুমিনদের তুলনায় অধিক সঠিক পথপ্রাপ্ত। (সুরা নিসা -৫১)


* জিবত الجبتঅর্থ: মূর্তি , প্রতিমা, যাদুকর, ভেলকিবাজ, যাদু, ভেলকি ইত্যাদি।


.


তাগুত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত :৫

.

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ یَزۡعُمُوۡنَ اَنَّہُمۡ اٰمَنُوۡا بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ وَ مَاۤ اُنۡزِلَ مِنۡ قَبۡلِکَ یُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یَّتَحَاکَمُوۡۤا اِلَی الطَّاغُوۡتِ وَ قَدۡ اُمِرُوۡۤا اَنۡ یَّکۡفُرُوۡا بِہٖ ؕ وَ یُرِیۡدُ الشَّیۡطٰنُ اَنۡ یُّضِلَّہُمۡ ضَلٰلًۢا بَعِیۡدًا ﴿۶۰﴾

.


তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা দাবী করে যে, নিশ্চয় তারা ঈমান এনেছে তার উপর, যা নাযিল করা হয়েছে তোমার প্রতি এবং যা নাযিল করা হয়েছে তোমার পূর্বে। তারা তাগূতের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায় অথচ তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাকে অস্বীকার করতে। আর শয়তান চায় তাদেরকে ঘোর বিভ্রান্তিতে বিভ্রান্ত করতে। (সুরা নিসা -৬০)


.


তাগুত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত :৬

.

قُلۡ ہَلۡ اُنَبِّئُکُمۡ بِشَرٍّ مِّنۡ ذٰلِکَ مَثُوۡبَۃً عِنۡدَ اللّٰہِ ؕ مَنۡ لَّعَنَہُ اللّٰہُ وَ غَضِبَ عَلَیۡہِ وَ جَعَلَ مِنۡہُمُ الۡقِرَدَۃَ وَ الۡخَنَازِیۡرَ وَ عَبَدَ الطَّاغُوۡتَ ؕ اُولٰٓئِکَ شَرٌّ مَّکَانًا وَّ اَضَلُّ عَنۡ سَوَآءِ السَّبِیۡلِ ﴿۶۰﴾

.

বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট পরিণতির বিচারে এর চেয়ে মন্দ কিছুর সংবাদ দেব? যাকে আল্লাহ লা‘নত দিয়েছেন এবং যার উপর তিনি ক্রোধান্বিত হয়েছেন? আর যাদের মধ্য থেকে বাঁদর ও শূকর বানিয়েছেন এবং তারা তাগূতের উপাসনা করেছে। তারাই অবস্থানে মন্দ এবং সোজা পথ থেকে সর্বাধিক বিচ্যুত’।( সুরা মায়িদাহ -৬০)


.


তাগুত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত:- ৭

.

اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا یُقَاتِلُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ۚ وَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا یُقَاتِلُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ الطَّاغُوۡتِ فَقَاتِلُوۡۤا اَوۡلِیَآءَ الشَّیۡطٰنِ ۚ اِنَّ کَیۡدَ الشَّیۡطٰنِ کَانَ ضَعِیۡفًا ﴿٪۷۶﴾

.


যারা ঈমান এনেছে তারা লড়াই করে আল্লাহর রাস্তায়, আর যারা কুফরী করেছে তারা লড়াই করে তাগূতের পথে। সুতরাং তোমরা লড়াই কর শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে। নিশ্চয় শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল।(সুরা নিসা -৭৬)


.


তাগুত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত:৮


.

وَ الَّذِیۡنَ اجۡتَنَبُوا الطَّاغُوۡتَ اَنۡ یَّعۡبُدُوۡہَا وَ اَنَابُوۡۤا اِلَی اللّٰہِ لَہُمُ الۡبُشۡرٰی ۚ فَبَشِّرۡ عِبَادِ ﴿ۙ۱۷﴾

.

আর যারা তাগূতের উপাসনা পরিহার করে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ; অতএব আমার বান্দাদেরকে সুসংবাদ দাও।( সুরা যুমার -১৭)


.


তাগুত সম্পর্কিত আয়াত গুলো থেকে যা জানতে পারলাম:


.

১)প্রতিটা জাতীর মাঝে রাসুলদের আল্লাহ যে দাওয়াত নিয়ে পাঠিয়েছেন তা হলো: তাগুতকে বর্জন করো এবং আল্লাহর ইবাদত করো। অর্থাৎ তাগুতকে বর্জন করতে বলাই ছিলো সমস্ত নবী রাসুলদের মিশন।

.

২) ইমানের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো তাগুতকে বর্জন করা এরপর আল্লাহর প্রতি ইমান আনা। যা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর মুল কথা। লা দ্বারা সমস্ত মিথ্যা ইলাহদের অস্বীকার করা হয় এবং ইল্লাল্লাহ দ্বারা আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ হিসেবে গ্রহন করা হয়। তাই ইমানের পুর্ব শর্ত হলো তাগুতকে বর্জন করা।

.

৩) পুর্বে বিভিন্ন জাতী ইমান আনায়নের পরেও তাগুতকে উপাস্য হিসেবে গ্রহন করে নিয়েছিলো।তাগুত বর্জন না করার কারনে তাদের এই ইমান আল্লাহ বাতিল করে দিয়েছেন।

.

৪) যারা কাফের তাদের অভিভাবক হলো তাগুত। আর ইমানদারদের অভিভাবক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা।

.

৫) আল্লাহ তা'আলা তাগুত বর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু এরপরেও যারা ইমান আনার পরে তাগুতের কাছে বিচার চায় তাদেরকে কাফের বলে আখ্যায়িত করেছেন।

.

৬)তাগুতের পক্ষে যুদ্ধ করে কাফেররা - যারা শয়তানের বন্ধু। আল্লাহর পক্ষে যুদ্ধ করে ইমানদারেরা। আল্লাহ ইমানদারদের এই শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।

.

৭) যারা তাগুতকে পরিহার করে এবং আল্লাহর অভিমুুুখী হয় তাদের জন্য সুসংবাদ।


.


@boycottTaghut


বয়ে : একটি পবিত্র বন্ধন! ( ইসহাকুল হাসান)






দুঃখজনক হলেও সত্য যে‚ বর্তমান সময়ে আমরা সমাজের প্রচলিত রীতিনীতিকে প্রভূ হিসেবে মেনে নিয়েছি বলেই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বিধিবিধানকে প্রতিনিয়তই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেছি। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বিধিনিষেধের বিপরীতে অবস্থান করে আমরা যে নিজেদেরকে চরম ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছি সেদিকে কি আমাদের কোনো কর্ণপাত আছে?


আজ মুসলিমদের এই অধঃপতনের জন্য যে কয়েকটি কারণ দায়ী তন্মধ্যে অন্যতম হলো সমাজে যিনা-ব্যাভিচার অকল্পনীয় হারে বেড়ে যাওয়া। পরিতাপের বিষয়‚ সমাজের নীতিনির্ধারকেরা বাল্যবিবাহ নিয়ে সোচ্চার থাকলেও বর্তমান সময়ের ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশার (Free Mixing) নামে অশ্লীলতা নিয়ে তাদের কোনো প্রকার মাথাব্যথা নেই বললেই চলে। এসবের ফলস্বরূপ সমাজে নিত্যদিনই নানারকম অঘটন (যেমন : ধর্ষণ‚ ইভটিজিং) বেড়েই চলছে। সামাজিক অবকাঠামো পুর্নগঠন এবং সমাজ থেকে এসব ফিতনা-ফ্যাসাদ দূরীকরণে আমাদের মুসলিমদের করণীয়ই বা কী?


যেই বয়সে একটি ছেলে অথবা মেয়ে কোনো প্রকার সামাজিক বাধা-বিপত্তি ছাড়া দিব্যি প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে কিংবা অবাধ মেলামেশার নামে ছেলেমেয়েরা একত্রে মিলিত হয়ে রাতভর যেখানে-সেখানে আড্ডা দিতে পারে‚ সেই বয়সে কোনো দ্বীনদার ছেলে অথবা মেয়ে যারা দ্বীনকে অন্তর থেকে ভালোবাসে এবং দ্বীনকে সঠিকভাবে জীবনে বাস্তবায়ন করতে চায় যারা যদি সমাজে বিদ্যমান এসব ফিতনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে ( অর্থাৎ নিজের চরিত্রকে হেফাজত করতে) বিয়ে নামক পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায় তাহলেই আমাদের সমাজ তাদের সামনে একগাদা বিপত্তির দেয়াল নিয়ে এসে দাঁড়ায়। ছুঁড়ে দেয় নানান অযৌক্তিক প্রশ্নাবলী! যেমন :


১। সমাজ কর্তৃক নির্ধারিত বিয়ের জন্য উপযুক্ত বয়স (পঁচিশোর্ধ্ব বা তার অধিক) হয়েছে কি না? নাহলে কম বয়সে বিয়ে করে সমাজের মানুষের সমানে মুখ দেখাবে কি করে?


২। কম বয়সে বিয়ে করলে নাকি ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যায়? বিশেষ করে, লেখাপড়া শেষ না করে বিয়ে করলে?


৩। যে বিয়ে করতে চায় সে প্রতিষ্ঠিত কি-না অর্থাৎ তার চাকরি (উপার্জনের মাধ্যম) আছে কি না?


৪। যৌতুক না নিয়ে বিয়ে করতে চাইলেই কি পারা যায়?

বিয়ের কাবিনে লোক দেখানো মোটা অঙ্কের মোহরানা দিতে দ্বীনদার যুবকের অসম্মতি থাকবে কেন?


৫। বিয়ে যদি করতেই হয় তাহলে সমাজের প্রচলিত রীতিনীতিকে উপেক্ষা করে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক করতে হবে কেন? ইত্যাদি...


এসব ভিত্তিহীন প্রশ্নের লক্ষ্য একটাই‚ দ্বীনকে মানতে গিয়ে সমাজকে পিছনে ফেলে সামনে ছুটে চলা যাবে না! তাই সামনে এগিয়ে যেতে হলে ডিঙাতে হবে এরকম নানাবিধ সামাজিক প্রাচীর। হায়‚ আফসোস !


বিয়ের ক্ষেত্রে যখনই আপনি সামাজিক রীতির উর্ধ্বে গিয়ে দ্বীনকে প্রাধান্য দিবেন তখনই সমাজের সাথে আপনার সংঘর্ষ লেগে যাবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার হুকুম মানতে গিয়ে আপনি যখন যৌতুককে না বললেন কিংবা সাধ্যের ভিতরে কম মোহরানা দিতে চাইবেন তখনই সমাজ আপনাকে তিরস্কার করবে। 

কারণ‚ আপনার দ্বীনকে প্রাধান্য না দিয়ে সমাজের রীতিনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা ছিলো। আর ঠিক ঐ সময়ই আপনি পিছু হটতে বাধ্য হবেন কেননা সমাজের বিপরীতে অবস্থান করে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সৎসাহস সকলের থাকে না। পক্ষান্তরে‚ বিয়ের ব্যাপারে বর্তমান সমাজের অবিভাবকদের অবস্থাটাও খুব একটা ভালো না। তাই সহসাই অবিভাবকদের সহযোগিতা থেকেও বঞ্চিত হতে হয়। যাই হোক সেদিকে কথা না বাড়িয়ে আমরা একটু অন্যদিকে মনোনিবেশ করি। 

দেখি তো‚ বিয়ে নিয়ে ইসলাম আসলে কি বলে? 

বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে ইসলামের মতামতই বা কি?

শুরুতে বলতেই নয়‚ ইসলাম কেবলমাত্র একটি ধর্মই নয় বরং পূর্ণাঙ্গ একটি জীবনব্যবস্থা।


আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত‚ রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন‚ “বিয়ে করা আমার সুন্নাত। আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত মোতাবেক কাজ করলো না‚ সে আমার উম্মত নয়। তোমরা বিয়ে করো‚ কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করবো। অতএব যার সামর্থ্য আছে সে যেন বিয়ে করে এবং যার সামর্থ্য নেই সে যেন সিয়াম (রোজা) রাখে। কেননা‚ সাওম তার জন্য জৈবিক উত্তেজনা প্রশমনকারী।” 

[সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮৪৬]


অপর একটি হাদীসে বর্ণিত‚ “বিয়ের মাধ্যমে ঈমানের অর্ধেক পরিপূর্ণ হয়ে যায়‚ বাকী অর্ধেক পূর্ণ করতে হয় তাকওয়া (আল্লাহভীতি) দিয়ে।”

[বায়হাকী শুয়াবুল ঈমান‚ হাদীস নং : ৫৪৮৬]


অর্থাৎ বিয়ে : দ্বীনের অর্ধেক। বিয়ে না করলে ঈমান অর্ধেক অপূর্ণ থেকে যায়। বিয়ে করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ঈমানকে পূর্ণতা দান করেন।


প্রথমতঃ বিয়ের ক্ষেত্রে আমরা যদি সঠিক বয়স নিয়ে কথা বলতে চাই তাহলে একটি কথা সুস্পষ্টভাবে বলা যায়‚ ছেলে-মেয়ে সাবালক হওয়া মাত্রই তারা বিয়ের জন্য উপযুক্ত বয়সে পদার্পণ করে ফেলে। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে সমাজ কর্তৃক নির্ধারিত বয়সের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকার কোনো যৌক্তিক কারণ আমি অন্তত দেখছি না! তাছাড়া কম বয়সে বিয়ে করলে ক্যারিয়ার নষ্ট হয় না বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জীবনে সফলতা আসে। আশাকরি‚ একটু নিচে গেলেই বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাবেন, ইন শা আল্লাহ !


দ্বিতীয়তঃ রিজিক নিয়ে যেহেতু আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশী দুশ্চিন্তা করা হয় সেহেতু রিজিকের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের সূরা হুদের ৬নং আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন‚


وَ مَا مِنۡ دَآبَّۃٍ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا عَلَی اللّٰہِ رِزۡقُہَا وَ یَعۡلَمُ مُسۡتَقَرَّہَا وَ مُسۡتَوۡدَعَہَا ؕ کُلٌّ فِیۡ کِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ ﴿۶﴾


“আর ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নেই যাদের রিয্ক আল্লাহর যিম্মায় না রয়েছে, আর তিনি প্রত্যেকের দীর্ঘ অবস্থানের স্থান এবং অল্প অবস্থানের স্থানকে জানেন, সবই কিতাবে মুবীনে (লাউহে মাহফুযে) রয়েছে।”


- উপরোক্ত এ আয়াত থেকে এটুকু অন্তত বোঝা যায়‚ জমিনের প্রত্যেক প্রাণীরই রিজিকের জিম্মাদার একমাত্র সুমহান আল্লাহ। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় দুনিয়ার চিন্তায় আমরা এতটাই মত্ত যে‚ রিজিকের জিম্মাদার যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা একথা আমরা প্রায় অস্বীকার করতে বসেছি। আমরা বিশ্বাস করি চাকরির (অর্থাৎ রোজগারের) মাধ্যমে আমাদের রিজিক আসে! আর রিজিক মানে কি শুধুই খাওয়া-দাওয়া? 

নেক জীবনসঙ্গী‚ নেক সন্তানসন্ততি‚ উত্তম আখলাক এবং নেককার বন্ধুও রিজিকের অন্তর্ভুক্ত নয় কি !


তাছাড়া রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি‚ “একজনের খাবার দু’জনের জন্য যথেষ্ট।”


রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই হাদীসটি নিম্নে তুলে ধরা হলো :


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زِيَادٍ الأَسَدِيُّ، أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ طَعَامُ الْوَاحِدِ يَكْفِي الاِثْنَيْنِ وَطَعَامُ الاِثْنَيْنِ يَكْفِي الأَرْبَعَةَ وَطَعَامُ الأَرْبَعَةِ يَكْفِي الثَّمَانِيَةَ. 


জাবির বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত‚ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “একজনের খাবার দু’জনের জন্য যথেষ্ট, দু’জনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট এবং চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।”

[সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩২৫৪, মুসলিম : ২০৫৯]


সুতরাং বিয়ে করে জীবনসঙ্গীকে কি খাওয়াবে সেই প্রশ্নে আমরা যদি কুরআন এবং হাদীসের দিকে আলোকপাত করি তাহলে কিন্তু খুব সহজেই অত্যন্ত সুন্দর ও সাবলীল উত্তর পেয়ে যাই। সুবহানাল্লাহ !


তৃতীয়তঃ প্রতিষ্ঠিত জীবনের দোহাই দিয়ে আমরা যারা বিয়েকে কঠিন বানিয়ে ফেলেছি তাদের জন্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নূরের ৩২নং আয়াতে বলেন‚


وَ اَنۡکِحُوا الۡاَیَامٰی مِنۡکُمۡ وَ الصّٰلِحِیۡنَ مِنۡ عِبَادِکُمۡ وَ اِمَآئِکُمۡ ؕ اِنۡ یَّکُوۡنُوۡا فُقَرَآءَ یُغۡنِہِمُ اللّٰہُ مِنۡ فَضۡلِہٖ ؕ وَ اللّٰہُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ ﴿۳۲﴾


“তোমাদের মধ্যে যারা ‘‘আইয়িম’’ (বিপত্নীক পুরুষ বা বিধবা মহিলা) তাদের বিবাহ সম্পাদন কর এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন; আল্লাহতো প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।”


- আলোচ্য এ আয়াত থেকে এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়‚ বিয়ের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অভাব মোচন করে দেন এবং সেইসাথে জীবনে বারাকাহ (পার্থিব অর্থে সচ্ছলতা) দান করেন। এবার প্রশ্ন হলো‚ যেখানে স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অঙ্গীকার করেছেন বিয়ে করলেই অভাবমুক্ত করে দিবেন সেখানে সমাজ কেনো প্রতিষ্ঠিতের দোহাই দিয়ে বিয়েকে কঠিন বানিয়ে দিয়েছে? তার মানে কি সমাজপতিরা আল্লাহর দেওয়া অঙ্গীকারকে অস্বীকার করে নাকি তারা এটা মানতে চায় না? কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাই তো বলছেন‚ বিয়ে করলে তিনি নিজ অনুগ্রহে তাকে (বান্দার) অভাবমুক্ত করে দিবেন।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দেওয়া প্রতিশ্রুতি তো কখনো মিথ্যা হতে পারে না ! 


চতুর্থতঃ বর্তমান সময়ে সমাজ সেই বিয়েকেই বেশী প্রাধান্য দেয়‚ যে বিয়েতে খরচ বেশী হয়। কারণ‚ সমাজের কাছে বিয়ে মানেই ধুমধাম পরিবেশ আর বাহারি রঙের বাতির ঝিলিক। না‚ সমাজের এই প্রথাটা সম্পূর্ণ সুন্নাহ পরিপন্থী। বিয়ে মানেই অহেতুক টাকা খরচ করা নয়। বরং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন‚ “সেই বিয়েতে বরকত বেশী যে বিয়েতে খরচ কম।” 

[বায়হাকী ; মিশকাত : পৃষ্ঠা - ২৬৭]


মুসলমান হিসেবে কি আমাদের উচিত নয় কম খরচে বিয়ে সম্পন্ন করা ! কেননা‚ তাতেই তো আমাদের জন্য অধিক পরিমাণে বরকত নিহিত আছে।


তাহলে এবার প্রশ্ন হলো‚ জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে বিয়ের আয়োজন করে অহেতুক টাকার অপচয় করা কি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের পরিপন্থী নয়? 

উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয় তাহলে একটু উপরে গিয়ে কষ্ট করে আরেকবার দেখে আসুন তো রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের (সুনানে ইবনে মাজাহ - এর ১৮৪৬ নং) সেই হাদীস খানা।


পঞ্চমতঃ মোহরানার বিধানে ইসলামের নির্দেশনা হলো‚ মোহরানা হচ্ছে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর হক (অধিকার)। স্বামী তার সাধ্যের ভিতরে যেটুকু স্বাচ্ছন্দ্যে তার স্ত্রীকে দিতে পারবে সেটাকেই ইসলাম সমর্থন দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন‚ “সর্বোত্তম বিয়ে (বা মোহর) হলো সেগুলো‚ যেগুলো সহজতর।”

[আলবানি‚ সহীহ আল জামে‚ হাদীস নং : ৩২৭৯]


তাহলে কি আমরা লোক দেখানো মোটা অঙ্কের মোহরানা নির্ধারণ করে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের বিপরীতে নিজেদের দাঁড় করাচ্ছি না?

ভাবুন‚ আরেকবার তাহলে ভেবেই দেখুন !


আসুন এবার তাহলে দেখে আসা যাক শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রাপ্ত উপহারসামগ্রী‚ কি বলেন? 

সময়ের ঘূর্ণাবর্তে আর কালের আবর্তে যৌতুকের নাম বদলিয়ে সমাজ সেটাকে উপহারসামগ্রী বলে আখ্যা দিচ্ছে। কি অদ্ভুত, তাই না !

সমাজ যতই বলুক না কেনো‚ বিয়েতে মেয়ের বাবা তো তার নিজের মেয়েকে যা দেওয়ার সেটা দিয়েছে এটা আবার যৌতুক হয় কিভাবে?

সমাজের বিপরীতে আপনাকে স্পষ্টভাবে বলে দিতে হবে সেটাই যৌতুক আর ইসলামে যৌতুক হারাম হিসেবে বিবেচ্য। যৌতুকের সাথে দুইটি গুনাহ সম্পর্কিত। যথা :

১। হারাম খাওয়ার গুনাহ। 

২। শ্বশুরবাড়ির ওপর জুলুমের গুনাহ।


এবার তাহলে আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পালা। আপনি সামাজিক প্রথাকে প্রশয় দিবেন নাকি ইসলামের বিধিবিধানের আশ্রয় নিবেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে সঠিক জ্ঞান দান করেন, আমিন।


বিয়ের ক্ষেত্রে‚ মুসলিম ছেলে-মেয়েদের করণীয় :

বিয়ের পূর্বে আপনি কাউকে ভালোবাসতে পারবেন না, পছন্দ করতে পারবেন না এমন কোন নির্দেশনা সহীহ হাদীসে পাওয়া যায় না। তবে তার মানে আবার এটাও নয়‚ আপনি অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বেন।


আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত‚ মুগীরাহ বিন শু'বাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এক মহিলাকে বিবাহ করার ইচ্ছা করলে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন‚ “তুমি গিয়ে তাকে দেখে নাও। কেননা‚ তা তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।” 

[সুনানে ইবনে মাজাহ‚ হাদিস নং : ১৮৬৫]


আধুনিক বিজ্ঞান বলে‚ আপনি বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হবেন - এটাই স্বাভাবিক। কেননা‚ এটা আপনার ফিতরাত। এজন্যই পবিত্র কুরআনের সূরা আর-রূমের ২১নং আয়াতে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলছেন, 


وَ مِنۡ اٰیٰتِہٖۤ اَنۡ خَلَقَ لَکُمۡ مِّنۡ اَنۡفُسِکُمۡ اَزۡوَاجًا لِّتَسۡکُنُوۡۤا اِلَیۡہَا وَ جَعَلَ بَیۡنَکُمۡ مَّوَدَّۃً وَّ رَحۡمَۃً ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ ﴿۲۱﴾


“এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গিনীদেরকে যাতে তোমরা তাদের সাথে শান্তিতে বাস করতে পার এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।”


আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত‚ রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন‚ “তোমরা যে ব্যক্তির দ্বীনদারী ও নৈতিক চরিত্রে সন্তুষ্ট আছো; তোমাদের নিকট সে ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব করলে‚ তার সাথে বিয়ে দিয়ে দাও। তা যদি না করো তাহলে সমাজে ফিতনা-ফ্যাসাদ বৃদ্ধি পাবে এবং চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।” 

[মিশকাত‚ হাদীস নং : ২৫৭৯ ; তিরমিজি‚ হাদীস নং : ১০৮৪]


- মূলত উক্ত হাদীস দ্বারা অবিভাবকদেরকে বিয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির দ্বীনদারী ও নৈতিকতাকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য নাসীহাহ করা হয়েছে।


শেষ কথা একটাই‚ যেভাবেই হোক সমাজের গৎবাঁধা রীতিনীতিকে অতিক্রম করে ভঙ্গুর এই সমাজে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করতেই হবে। আমাদের জীবনকে সাজাতে হবে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের আদর্শে। 

তবেই না এই জাগতিক জীবনে সফলতা আসবে...


বিয়ে : একটি পবিত্র বন্ধন !

|| ইসহাকুল হাসান ||

১১ই মে ২০২০


https://www.facebook.com/eshakulhaquehasan




বদরের শিক্ষা ( আরজু আহমেদ)




মদিনা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৮১ মাইল পেরুলেই বদর উপত্যকা। আর এখানেই ইসলামের প্রথম দিককার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ যুদ্ধটি অনুষ্ঠিত হয়। কুরাইশদের পক্ষে মোট নয় শ’ পঞ্চাশজন যোদ্ধা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।

তাদের সাথে ছিল দু’শ জন অশ্বারোহী। প্রায় সমসংখ্যক উষ্ট্রারোহী আর এই উভয় সংখ্যার সমান ছিল পদাতিক সৈন্য। রণসাজে সজ্জিত প্রত্যেকেই উন্নত অস্ত্রশস্ত্রে ছিল সমৃদ্ধ। ৬০০ লৌহ বর্ম ছিল তাদের।

অপরদিকে মুসলমানদের সাকুল্যে যুদ্ধযাত্রা করেছিল ৩১৩ জন এর মধ্যে ৮ জন ছিল রসদ সরবরাহকারী, অর্থাৎ যোদ্ধা ছিল ৩০৫ জন। অস্ত্র বলতে উল্লেখ করার মত কিছুই ছিল না।

লৌহ বর্মের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য সর্বাধিক সংখ্যা জানা যায় মাত্র ৬০ টি। অশ্বারোহী সর্বোচ্চ দুজন। এমনকি উমাবীর বর্ণনা থেকে জানা যায় অশ্বারোহী ছিল মাত্র ১ জন। উট ছিল মাত্র ৭০ টি।

কুরায়শরা এ যুদ্ধের যাত্রাপথে ৯ জায়গায় যাত্রাবিরতি করে। আর এই সময় তাদের আহারের জন্য ১০ টি করে উট জবাই করা হয়, কেবল দুদিন ৯ টি উট জবাই করা হয়েছিল। অর্থাৎ সৈন্যদের উন্নত খাবার পরিবেশন করতেই তারা ৮৮ টি উট জবাই করেছিল।

অপরদিকে যুদ্ধে মুসলমানদের সামগ্রিক উটের সংখ্যাও ছিল এরচে’ কম। খাবারে বিলাস তো দূর। প্রায় অর্ধাহারে যুদ্ধযাত্রা করতে হয়েছে। শুকনো রুটি আর যবের ছাতুই ছিল একমাত্র খাদ্য রসদ।

বদর যুদ্ধের সংখ্যার এই পরিমাণকে আমরা সবাই জানি। ফলে কেবল ইতিহাসকে পড়ার ভঙ্গিতে পড়ে গেলে এ যুদ্ধটিকে ঠিকমত অনুধাবন করা যাবে না। নিজেকে ঐ অবস্থায় দাঁড় করিয়ে চিন্তা করতে হবে।

এই দূর্দান্ত অসম যুদ্ধযাত্রায় যদি আমাকেও শরিক হতে হত? আমার ঈমান কি সেই শক্তির যোগান দিতে পারত? এই প্রশ্ন নিজেকে করলে আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। এই চরম অসম যুদ্ধেও মুসলমান বিজয় লাভ করেছিল।

আদতে বদরের শিক্ষা হচ্ছে মুসলমান যে সর্বাবস্থায় কেবলই আল্লাহ্‌র সাহায্যের মূখাপেক্ষী তা অনুধাবন করতে পারা। বদর যুদ্ধের আগে আল্লাহ্‌র রাসুল ﷺ দোয়া করলেন,

'ও আল্লাহ্‌! যদি আমরা পরাজিত হই, তবে এই পৃথিবীতে আপনার ইবাদাত করার আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।'

আল্লাহ্‌ এই দোয়া কবুল করেছিলেন। তিনি কোরআনে আয়াত নাজিল করে বললেন,

(إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ)

'তোমরা যখন তোমার প্রতিপালকের সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে। তখন তিনি তা মঞ্জুর করেছিলেন।'

আমাদের একটা বড়ো সংকট হচ্ছে, রব্বের সাথে বান্দা হিসেবে এই সম্পর্কের কথা আমরা ভুলে যাই। দুনিয়ার নানাবিধ ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সমীকরণ নিয়েই কেবল আমরা চিন্তিত থাকি। দোয়াও যে অনেক বড়ো শক্তি তা আমাদের চিন্তায় থাকে না।

আল্লাহ কোরআনে স্পষ্টত এই বিজয় প্রসঙ্গে বলছেন, তোমরা তাদেরকে পরাজিত করো নি-বরং আমিই করেছি। (সূরা আনফাল, ১৮) ফলত এই শক্তিই যে সবচে' পোক্ত শক্তি তা আমরা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হই।

ফলত রব্বের সাথে আমাদের সম্পর্ক গড়ে তোলার চিন্তাই থাকে না। রব্বের সাথে এই সম্পর্ক হীনতাই আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক যাবতীয় ব্যর্থতার কারণ সেটা আমরা বুঝে উঠতে পারি না।

ফলে আমাদের মনে গৎবাঁধা একটা ধারণা আছে। আমরা মনে করি, মুসলমানদের যে পতন তার একমাত্র কারণ মুসলমানের বিজ্ঞান, শিল্প, সংস্কৃতির চর্চা থেকে সরে যাওয়াটা। এই চিন্তা একটা দিক থেকে দেখলে ভয়াবহ।

এই চিন্তা মূলত ইসলামের যে মৌলিক ভিত্তি- যাবতীয় কাজে আল্লাহ্‌র মূখাপেক্ষিতা, সেই বোধের সঙ্গে আমাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বস্তুত ইসলামের কোনও বিজয় কখনোই দুনিয়ার শক্তির উপর ভিত্তি করে কোনও কালেই হয় নি।

ইসলাম এই দুনিয়ায় তার প্রারম্ভে কিছু দুর্বল মানুষকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এবং যাদের নেতৃত্বে ছিলেন একজন 'জাগতিক শিক্ষাহীন' একজন 'নিরক্ষর নবী'। সেকালের শিল্প ও বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ পারস্য আর হাজার বছরের প্রতাপশালী রোমের সাথে তাঁরা লড়াই করেছিলেন।

তাঁদের একমাত্র ভিত্তি ও শক্তি ছিল আল্লাহ্‌। ইসলামের নিরঙ্কুশ অনুসরণই তাদেরকে করে তুলেছিল দুনিয়ার শেষ্ঠতর শক্তি। বরং বাস্তবতা হচ্ছে এটাই, উম্মতের যখন পতনের দিন শুরু হয়েছিল তখন মুসলমান ছিল সংখ্যায় বিশাল, বিজ্ঞানে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতর, শিল্পে আকাশচুম্বী।

তবুও তাদের পতন থমকে থাকে নি। সব বিলাস, সব সমৃদ্ধি খয়ে গিয়েছিল। স্পেনের কথাই ধরা যাক। মুসলিম স্পেন কি কম সমৃদ্ধ ছিল? শিল্প, বিজ্ঞান, কলায় তারাই তখন ছিল শ্রেষ্ঠ। তবুও পতন হয়েছে।

ইতিহাসে খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে ইসলামী ভূমির সর্বোচ্চ বিস্তার ঘটেছে আবু বকর রা. থেকে শুরু করে ১২ তম খলিফা পর্যন্ত। দেখবেন, তখন মুসলিম ভূমিতে বিজ্ঞানের চর্চা শুরুই হয় নি। শুরু হয়েছে এর পরে। কিন্তু যা ছিল তা হচ্ছে, নিরঙ্কুশ তাকওয়া, খোদাভীতি।

এককালে মুসলিম শাসনাধীনে থাকা গ্রিস, আর্মেনিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্জিয়া, ইউক্রেন, তাতারিস্তান, সাইপ্রাস, বসনিয়া ও হারজেগোভিনা, ক্রোয়েশিয়া, ম্যাসেডোনিয়া, মন্টেনিগ্রো, সার্বিয়া , স্লোভেনিয়া, ইতালির সিসিলি থেকে চীনের সিংকিয়াং।

এই যে দীর্ঘ হারানোর মিছিল। তা কি স্পেন মডেল থেকে ব্যতিক্রম ছিল? তাদের সায়েন্টিফিক, ইকোনোমিক, কালচারাল এস্টাব্লিশমেন্ট ছিল। তবুও উম্মত কেন চিরতরে এই ভূমিগুলো হারিয়েছে?

আদতে এটা একটা রীতি। একটা খোদায়ী ফায়সালা। কেন এই পতন, এই দুর্ভাগ্যের ফায়সালা আসে? খিলাফতের জন্য অন্যতম যে শর্ত, ‘আলা মিনহাজিন নুবুওয়াহ’। অর্থাৎ নবী ﷺ এঁর পূর্ণ আদর্শের উপর অবিচল থাকা।

যখনই এর খেলাফ হয়েছে আর তা দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে তখনই এই পতনের ফায়সালা এসেছে। আজকে মুসলমান মার খাচ্ছে তামাম দুনিয়ায়, এটাও কিন্তু এ জন্য নয় যে, তারা বিজ্ঞানে কিম্বা শিল্পে, সংস্কৃতিতে পিছিয়ে।

বরং এই মার খাওয়ার, এই পতনের কারণ তারা ইসলাম থেকে দূরে সরে গেছে। মুসলমান তাকওয়ার মধ্যে ফিরুক, বিজয় আবারও তার পদলেহন করবে। পতনের এই ক্রম ধারা উল্টে যাবে।

আমি বলছি না বিজ্ঞানের চর্চা মুসলমান করবে না। অবশ্যই তা করবে। কিন্তু রব্বের সাথে সম্পর্কহীন হলে বস্তুগত কোনও উন্নতিই আমাদের কাজে আসবে না। এই ভিতটা নড়বড়ে হলে উম্মতের পতন ঠেকানো কিম্বা বিজয় অসম্ভব।

বদর এই উম্মতের অসংখ্য ঐতিহাসিক শিক্ষা অর্জনের জায়গা। যতবার যত গভীরভাবে পাঠ করা যায়, ততবারই নতুন নতুন কিছু শেখা যায়।

বদরের যুদ্ধের প্রারম্ভিক পর্যায়ে যখন মল্লযুদ্ধে কাফিরদের পক্ষ থেকে লড়ার আহ্বান জানানো হয়। মুশরিকদের মধ্য থেকে লড়ার জন্য বেরিয়ে আসে তিনজন। দুই ভাই ওতবা ও শাইবা এবং ওতবার পুত্র ওলিদ।

নবী ﷺ প্রেরণ করেন প্রিয় চাচাত ভাই হজরত ওবায়দা, প্রিয়তর চাচা হজরত হামযা, চাচাত ভাই ও স্বীয় জামাতা আলিকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন বিচক্ষণ ও বীর যোদ্ধা।

রাসুল সা. অন্যদেরও বাছাই করতে পারতেন। কিন্তু উপস্থিত সাহাবাগণের মধ্য হতে তিনি এগিয়ে দেন নিকটতর স্বজনদের। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা'আলার পথে কী অনুপম ত্যাগ! নেতৃত্বের মহৎ আদর্শ, সর্বোত্তম গুণ ও শিক্ষা প্রদান।

এই যে প্রিয় স্বজনকে ত্যাগ করা, কুরবানি করা এটাও বদরের অন্যতম শিক্ষা। বদরের যে সব চেতনা আজ আমাদের মধ্যে বিলুপ্ত তার মধ্য এই কুরবানি, এই ত্যাগ- এই প্রিয় বিষয়গুলোকে আল্লাহ্‌র জন্য কুরবানি করার ব্যাপারটাই প্রধান।

আজ সতেরোই রমযান বদর দিবস। এই বদর দিবসে, এই পবিত্র রমযানে একটা বদ অভ্যেস যেটা নিজের কাছে প্রিয়- কিন্তু আল্লাহ্‌র কাছে অপছন্দ। তা কি কুরবানি করতে পারি না আমরা?

এভাবেই একটু একটু করে আমরা চূড়ান্ত কল্যাণের পথে পৌছুবার চেষ্টাটুকুন তো করতে পারি! এই আল্লাহভীতি, এই তওবা ক্রমশ রব্বের কাছাকাছি আসার পথ করে দিক আমাদের।

আল্লাহ্‌ আমাদের সব কথা, সব আহ্বান, সব আর্তনাদ শোনেন। তিনি নিজেই বলছেন,

إِنَّ اللّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

নিঃসন্দেহে আল্লাহ শ্রবণকারী; সকল কিছুই অবগত।

~ Arju Ahmad

ভাই, আমার নামাজ পড়তে ইচ্ছা করছে না, আমাকে একটু সাহায্য করবেন?




ভাই, আমার নামাজ পড়তে ইচ্ছা করছে না, আমাকে একটু সাহায্য করবেন?
___________
-ভাই আপনার ভেতরে যে এই সেন্সটুকু আছে যে, নামায পড়া দরকার সেজন্য আল্লাহর শুকরিয়া। অনেকের মধ্যে সেটাও নেই। ভাই, আপনি যে অবস্থায় তাতে আপনার প্রথম কাজ হলো, প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি। আপনি আপনার মনের বিরুদ্ধে গিয়ে নামাযটা কন্টিনিউ করুন। এর পাশাপাশি কিছু ভালো বয়ান বা লেকচার শুনতে পারেন। তাহলে আপনার অন্তরটা নরম হবে ও ইবাদাতে মজা আসবে ইনশাআল্লাহ।
._________
-১) আপনার আশেপাশেই নিয়মিত সলাত আদায় করে এমন কমপক্ষে দুইজনকে ওয়াক্ত হলে টেনে হিঁচড়ে মসজিদে নিয়ে যেতে বলুন ইনশাআল্লাহ।

২) বেশি বেশি দ্বীন নিয়ে আলোচনা করুন ইনশাআল্লাহ।

৩) আর বেশি বেশি এই দুয়া পড়ুন ইনশাআল্লাহঃ

"ইয়া মুক্বল্লিবাল ক্বুলুব, সাব্বিত ক্বলবি আ'লা দ্বীনিক"

অর্থঃ হে অন্তরসমূহের নিয়ন্ত্রণকারী, আমার অন্তরকে দ্বীনের উপর স্থির করে দিন।
.
নামাজ পড়তে ইচ্ছা না করার অনেক কারণ থাকতে পারে।
১.অনেকদিন ধরে নামাজ না পড়লে বা ক্রমাগত গুনাহে লিপ্ত থাকলে অন্তরে কাল দাগ পড়তে পড়তে ক্বলব কাল হয়ে যায়।তখন এর মধ্যে আর আলো ঢুকতে পারে না।

২. শয়তান।শয়তান প্রতিনিয়ত আমাদের পিছে লেগে আছে।সে আপনাকে বিভিন্ন ওয়াসওয়াসা দেয়।"এখন পড়ার কি আছে পরে পড়ে নিব,আমি এখন ব্যস্ত,বয়স তো অনেক আছে আস্তে ধীরে নামাজ ধরব" এরকম বহু ওয়াসওয়াসা দিতে পারে।

৩. খারাপ সঙ্গ।হয়তো আপনার আশেপাশে এমন মানুষদের বসবাস যাদের আল্লাহর দরবারে সিজদা দেয়ার সুযোগ হয় না।তারা না নিজেরা নামাজ পড়ে না অন্যদের পড়তে দেয়।

সমাধান স্বরূপ বলতে পারি এর থেকে মুক্তি পেতে ক্বলব পরিষ্কার করা চাই।আল্লাহর কাছে খাস দিলে তওবা করে,গুনাহ্ মাফ চেয়ে নিয়মিত নামাজ শুরু করুন।জোর করে হলেও মসজিদে যান, দেখবেন আস্তে আস্তে সহজ হয়ে যাবে।আর নামাজ পড়তে পারা একটা নিয়ামত।নিজের কপাল রবের উদ্দেশ্যে মাটিতে ঠেকানোর সুযোগ এবং তৃপ্তি সকলে পায় না।অলসতাকে পাত্তা দিবেন না।আজকে থেকে, এখন থেকে শুরু করুন।নিয়ত করুন জীবনে আর নামাজ ছাড়বেন না।
খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করুন।এমন মানুষদের সাহচর্যে যান যারা আল্লাহ্কে ভয় করেন।তাদের সাথে দ্বীনের ব্যাপার নিয়ে, আপনার সমস্যা নিয়ে আলাপ করুন।

আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়া তা'লা অামাদের আমৃত্যু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে পড়ার তৌফিক দিন।
________
.
-চিন্তা করেন, এটা সেই গর্ত, এখানে আপনি একা থাকবেন।আপনার ভাই বোন বা মা বাবা কেউ থাকবে না। পুরো অন্ধকার একটা জায়গা,আশে পাশে নড়ার জায়গা নেই, মাঝে মাঝে এমন ধাক্কা দিচ্ছে যে শরীর গুড়া হয়ে যাচ্ছে, গায়ের উপর বিষাক্ত সাপ, চোখের উপর বিছাপোকা, যাদের দেখলে আপনি লাফ দেওয়ার কথা-আজ তাদের দেখে কিছুই করতে পারবেন না, আপনাকে রেখে সবাই চলে যাবে। আগুনের কথা নাহয় বাদই দিলাম।আল্লাহর শাস্তি দুনিয়ার চেয়ে অনেক মারাত্মক,তাও দুনিয়া দিয়েই বুঝার চেষ্টা করেন। আর এর মাঝে যদি লক্ষ লক্ষ বছর থাকতে হয়,আপনার দুনিয়ার জীবনের চেয়ে যেটা কত্ত বেশিগুন সময়,সেই শাস্তি কি নিতে পারবেন?
.
_________
-আমি আমার ফ্রেন্ডসার্কেলে যাদেরকে দেখেছি নামাজ বিমুখ হতে, তাদের মধ্যে মূলত কিছু সমস্যা ছিল। যেমনঃ

১) গার্লফ্রেন্ড আছে
২) মুভি দেখে, মিউজিক ভিডিও দেখে, গান শুনে
৩) পর্ণ আসক্ত
৪) দুনিয়াবী কোন বিষয়ে নিজের অজান্তেই চিন্তিত
৫) নিয়্যাত স্থির না থাকা
৬) জাহান্নামের আজাব সম্পর্কে গাফেল
৭) নামাজ না পড়লেও অবশ্যই জান্নাতে যাবে কনফার্ম হয়ে যাওয়া।
৮) রাস্তাঘাটে দৃষ্টি সংযত না রাখা
৯) ঘনঘন মিথ্যা বলা
১০) বেশী খাওয়া, অসময়ে ঘুমানো
১১) দুনিয়াবি ইল্ম অর্জন বেড়ে যাওয়া

এগুলোর থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলে আশাকরি সালাতে ইচ্ছে বাড়বে। আর বেশী বেশী ইসলামিক লেকচার, পরকাল নিয়ে লেকচার, বই এসব পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সর্বোপরি নিজের ইচ্ছেশক্তি বাড়ান। ইনশা আল্লাহ্‌ কাজে দিবে। :)
.
_________
.
-ভাই এই আয়াতটা স্মরণে রাখেন.. মহান আল্লাহ বলেন, ( ﻳَﻮْﻡَ ﻳُﻜْﺸَﻒُ ﻋَﻦْ ﺳَﺎﻕٍ ﻭَّﻳُﺪْﻋَﻮْﻥَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺴُّﺠُﻮْﺩِ ﻓَﻼَ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻴْﻌُﻮْﻥ،َ ﺧَﺎﺷِﻌَﺔً ﺃَﺑْﺼَﺎﺭُﻫُﻢْ ﺗَﺮْﻫَﻘُﻬُﻢْ ﺫِﻟَّﺔٌ، ﻭَﻗَﺪْ ﻛَﺎﻧُﻮْﺍ ﻳُﺪْﻋَﻮْﻥَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺴُّﺠُﻮْﺩِ ﻭَﻫُﻢْ ﺳَﺎﻟِﻤُﻮْﻥَ ) “ যেদিন পদনালী উন্মুক্ত করা হবে এবং ওদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান করা হবে, কিন্তু ওরা তা করতে সক্ষম হবে না। হীনতাগ্রস্ত হয়ে ওরা ওদের দৃষ্টি অবনত করবে। অথচ যখন ওরা সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল, তখন তো ওদেরকে সিজদা করতে আহবান করা হয়েছিল। (কুরআন মাজীদ ৬৮/৪২-৪৩)
.
______
.
-বেশি বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ্ পাঠ করুন। আল্লাহ চাহে নামাজে আপনার মন আসবে।
.
_________
-পড়ব পড়ব বলে পড়া হয়না!! তবে নিজের সাথে একটা গেম খেলুন।। যেহেতু নিজের সাথে, সেহেতু কোন রেফারি নাই। তাই কখনো চিটিং করবেন না, সিদ্ধান্ত নিন।
★গেম- আপনার দূর্বলতা কোনটাতে বেশি খুজে বের করুন, অলসতার দিক থেকে নাকি আর্থিক দিক থেকে আপনি সবচেয়ে দূর্বল?? যদি অলসতা হয় তবে সিদ্ধান্ত নিন এক ওয়াক্ত নামাজ মিসের জন্য সেইদিনই কাযাসহ আরও ১০ রাকাত (সংখ্যাটা আপনি ঠিক করুন। তবে এমন সংখ্যা নিন যেন তা আপনার জন্য কষ্টকর হয়) নফল নামাজ পড়বেন।
আর যদি আর্থিক হয় তবে সিদ্ধান্ত নিন এক ওয়াক্ত নামাজ মিসের জন্য সেদিনই ৫০ টাকা দান করবেন (টাকার পরিমান আপনি ঠিক করুন, আপনার ৫ ওয়াক্ত নামাজ মিসের জন্য তা যেন খুবই কষ্টকর হয়।) 
আর প্রতিদিনের কাযা/জরিমানা প্রতিদিনই পূরণ করুন। না পারলে এজন্য আবার নিজের উপর নফল/জরিমানা চাপিয়ে দিন। যদি এপ্লাই করতে পারেন আপনি ১দিনেই শুধরে যাবেন ইনশাআল্লাহ, আর এপ্লাই করতে পারলে কখনোই কাজ হবেনা এই পদ্ধতিতে।
তাই প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিন, একদিন এই পদ্ধতি এপ্লাই করবেনই, ওইদিনই সোজা হয়ে যাবেন।
.
_____
.
- আপনি সালাত আদায় না করার পরিনতী সম্পর্কে ভাবুন।
নিয়মিত পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন করুন।
প্রতিদিন শয়তানের হাত থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চান।
সর্বদা এই দোয়াটি পড়বেন। (আল্লাহুম্মা ইন্নি আয়ুজুবিকা মিনাল কাছাল) অর্থ- হে আল্লাহ, আপনার কাছে যাবতীয় অলসতা থেকে আশ্রয় চাই।
.
___
.
আপনার সালাতকে মনে করুন একটি ঘোড়ার মত। যখন আপনার
ঘোড়ার বয়স অল্প, তখন আপনি না এতে চড়তে পারেন, না পারেন
অন্য কাজে ব্যবহার করতে। কিন্তু
আপনি যদি একে ভালোভাবে দেখাশোনা করেন, প্রতিদিন পরিষ্কার
করেন, প্রশিক্ষণ দেন, খাওয়া-দাওয়া ও যথাযথ পরিচর্যা করেন,
এর ওপর খরচ করে একে বড় করতে থাকেন, তাহলে দেখতে পাবেন
যে কাজটি কষ্টসাধ্য হলেও এই ঘোড়াটিই একসময় পরিণত
হয়ে আপনার জন্য এক শক্তিশালী, বিশ্বস্ত ও বাধ্য ঘোড়ায়
রূপান্তরিত হয়েছে। যখনই আপনার প্রয়োজন হবে, এটি আপনার
খেদমতে হাজির থাকবে। সফরে, যুদ্ধে কী বিপদ থেকে পালাতে যখনই
দরকার পড়বে আপনি এর পিঠে চড়তে পারবেন।
অনুরূপ আপনার সালাত। আপনার সালাত যখন দুর্বল, অল্পবয়সী ও
অপরিণত, তখন সেটাকে বোঝার মত মনে হবে। প্রথম প্রথম
সালাতের জন্য এ কাজগুলো করা খুব কঠিন মনে হবে: ওযূ করা,
সময়মত আদায় করা, অর্থ-না-জানা সূরাগুলো মনযোগ দিয়ে পাঠ
করা ও মুখস্থ আওড়ে যাওয়া, কিংবা ব্যস্ততা বা ক্লান্তির মাঝেও
সালাত আদায় করা ইত্যাদি। তবে আপনি যদি লেগে থাকেন, অনেক
চেষ্টা করেন, তাহলে চরম প্রয়োজনের মুহূর্তে আপনার সালাতই
আপনাকে সাহায্য করবে। সালাত আপনাকে দেবে অন্তরের প্রশান্তি,
স্থিরতা, দৃঢ়তা, শক্তি, সুখ, আশাবাদ ও সাহস। আর কেবল তখনই
আপনার সালাত আপনার বোঝা হবার পরিবর্তে পরম উপভোগ্য
বিষয়ে পরিণত হবে।
(মন জুড়ানো মুহূর্ত, বই: প্রাচীর, পৃষ্ঠা ২৩৬).
.
______
.
Naseehah (দ্বীনি পরামর্শ) থেকে সংগৃহীত

আযানের জবাব দিলে কি প্রতিদান পাওয়া যাবে???








আযানের জবাব দিলে কি প্রতিদান পাওয়া যাবে???


রাসূল ﷺ বলেছেন, 

যে ব্যক্তি আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে আযানের উত্তর দেয়, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।

[সহীহ মুসলিম- ৩৮৫]


সুবহা’নাল্লাহ! 

জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়!

৩-৪ মিনিটে কত সহজ আমল।


যেভাবে আজানের জবাব দিব ....


মুয়াজযিন যখন

ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ

“আল্লাহু আকবার, আল্লা-হু আকবার"


বলে তখন আপনি ও আন্তরিকতার সাথে তার জবাবে বলবেনঃ

ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ

"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার"।

যখন মুওয়াযযিন বলে

ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥْ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ

"আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"


এর জবাবে আপনিও বলবেনঃ

ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥْ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ

"আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"।


অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ

ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ

"আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ"


এর জবাবে বলবেনঃ

ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ

"আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ”।


অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ

ﺣَﻰَّ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ

"হাইয়্যা আলাস সলা-হ"

এর জবাবে বলবেনঃ

ﻻَ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ

“লা-হাওলা ওয়ালা- কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ"।


অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ

ﺣَﻰَّ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻔَﻼَﺡِ

"হাইয়্যা 'আলাল ফালা-হ"


এর জবাবে আপনি বলবেনঃ

ﻻَ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ

“লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ”।

অতঃপর মুওয়াৰ্যযিন বলেঃ

ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ

"আল্লা-হু আকবার, আল্লাহু আকবার"

এর জবাবে আপনি বলবেনঃ

ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ

"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার"।

অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ

ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ

“লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"

এর জবাবে আপনি বলবেনঃ

ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ

“লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"


আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউমের জবাবে ফজরের আজানে ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’

-এর জবাবে ‘সাদাকতা ও বারারতা’ পড়বেন।


অতঃপর দুরুদ শরীফ (দরুদে ইব্রাহীম) পড়বেন ও আযানের দোয়া পড়বেন। 


এটাও পড়তে পাড়েন-

দরুদ শরীফ-

صلى الله عليه وسلم.


সল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম। 


আর্থঃ আল্লাহ তাঁর (মুহা’ম্মদের)প্রতি 

সালাত (দয়া) ও সালাম (শান্তি) বর্ষণ করুন।


আজানের দোয়া-


আরবিঃ


‎اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدَاً الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامَاً مَحْمُودَاً الَّذِي وَعَدْتَهُ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ


বাংলা উচ্চারণ :


আল্লা-হুম্মা রববা হা-যিহিদ্ দা‘ওয়াতিত্ তা-ম্মাতি ওয়াস সালা-তিল ক্বা-’ইমাতি আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাতা ওয়াব্‘আছহু মাক্বা-মাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়া‘আদতাহ, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আদ।


বাংলা অর্থ :


“হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব্ব! মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে ওসীলা তথা জান্নাতের একটি স্তর এবং ফযীলত তথা সকল সৃষ্টির উপর অতিরিক্ত মর্যাদা দান করুন। আর তাঁকে মাকামে মাহমূদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন। নিশ্চয় আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।


©


নুসাইবা বিনতে কা’আব (রাঃ): ইসলামের প্রথম নারী যোদ্ধা



নুসাইবা বিনতে কা’আব (রাঃ): ইসলামের প্রথম নারী যোদ্ধা
---------
নুসাইবা বিনতে কা’আব (রাঃ) ছিলেন ইসলামের প্রথম নারী যোদ্ধা, যিনি নবী করিম (সাঃ) এর পাশে থেকে যুদ্ধ করেছেন। মাত্র দু’জন নারী ব্যক্তিগতভাবে রাসূল (সাঃ) এর নিকট থেকে সরাসরি কালিমার শপথ গ্রহণ করেন। নুসাইবা (রাঃ) ছিলেন তাঁদের একজন। তিনি সম্ভ্রান্ত, সাহসী ও ছকে বাঁধা চিন্তাধারা থেকে মুক্ত একজন সপ্রতিভ নারী ছিলেন যিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, নতুন একটি ধর্মকে রক্ষা করার জন্যে মুসলিম নারীদেরও ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। তাই তিনি বিভিন্ন যুদ্ধের ময়দানে সশরীরে উপস্থিত থাকতেন। তিনি উহুদ, আক্বাবাহ্‌, আল-হুদাইবিয়্যাহ, খায়বার, হুনাইন, ইয়ামামার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তন্মধ্যে উহুদের যুদ্ধে তিনি যেভাবে মানব বর্মের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে হযরত মুহাম্মদ (সা:)কে রক্ষা করেন তা ছিল নারীদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।

উহুদের যুদ্ধের শুরুর দিকে তিনি অন্যান্য নারীদের মতো তৃষ্ণার্ত সৈন্যদের জন্যে পানি আনা-নেওয়া এবং আহতদের সেবাযত্ন করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। যুদ্ধের ফলাফল যখন মুসলিমদের অনুকুলে আসতে শুরু করে তখন সৈন্যরা নবীজির নির্দেশ অমান্য করে বসলো। ফলে কাঙ্খিত জয় পরাজয়ে রূপ নিতে লাগল। লোকজন নিজেদের বাঁচানোর তাগিদে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিলো। এমনকি মহানবী (সাঃ) অরক্ষিত হয়ে পড়লেন। এমন সময়ে নুসাইবা (রাঃ) এক হাতে উন্মুক্ত তরবারি আর অন্য হাতে ঢাল নিয়ে এগিয়ে এলেন।

হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) কে কাফেরদের তীরের আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্যে লড়াই করতে থাকা ছোট দলটির সাথে তিনি যোগ দিলেন। নুসাইবা একজন শত্রুর দ্বারা ঘাড়ে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পরও যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে গেলেন না। বরং যতবার যতদিক থেকে নবীজির ওপর আক্রমণ এসেছে তিনি সেদিকেই তরবারি হাতে তা প্রতিহত করতে ছুটে গিয়েছিলেন।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বিষয়টি লক্ষ করেন এবং পরবর্তীতে বলেন, “ডানে, বামে যেদিকেই আমি তাকিয়েছি, দেখেছি নুসাইবা আমার জন্যে লড়াই করে চলেছেন। তিনি অনেক পুরুষ যোদ্ধাদের থেকেও ভালো লড়াই করেছেন।” শুধু তাই নয়, তিনি আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য দুআ করে বলেন, “হে আল্লাহ, তুমি নুসাইবা ও তাঁর পরিবারকে আমার জান্নাতের সঙ্গী বানিয়ে দাও।”

এই দুআ শুনে নুসাইবা (রাঃ) বলে উঠলেন, “দুনিয়ার আর কোনো কিছুতে আমার কিছু যায় আসে না।” এভাবেই ইসলাম এবং তাঁর নবীকে রক্ষা করার বিনিময়ে তিনি ইহলৌকিক কোন কিছু প্রত্যাশা করেননি বরং পারলৌকিক লাভকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

উহুদের যুদ্ধে তিনি মোট ১৩টি স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তাঁর ঘাড়ের ক্ষত সারতে প্রায় ১ বছর সময় লাগে। এরপরও তিনি বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নেয়া থেকে বিরত ছিলেন না। ইয়ামামার যুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি ১১টি স্থানে আঘাত পান এবং একটি হাত হারান।

নুসাইবা (রাঃ) উমার বিন আল খাত্তাবের খিলাফতকাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। সাহাবীরা সবাই তাঁকে তাঁর সাহসিকতার জন্য অত্যন্ত সম্মান করতেন। একবার উমার (রাঃ) এর নিকট বাইরের দেশ থেকে একটি উপহার আসে। উপহারটি ছিল মূলত অত্যন্ত মূল্যবান রেশমের তৈরি এক টুকরো কাপড় । উপস্থিত সাহাবীরা উপহারটি খলিফার কন্যা বা পুত্রবধূকে পাঠিয়ে দেয়ার পরামর্শ দিলেন। উমার ( রাঃ)দুইটি প্রস্তাব-ই নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, এই উপহারটির দাবিদার কেবল একজন নারী এবং তিনি হলেন নুসাইবা (রাঃ)। এরপর তিনি তা নুসাইবাকে পাঠিয়ে দেন।

নুসাইবা (রাঃ)কোনো সৌন্দর্য সর্বস্ব বা দুর্বল ব্যক্তিত্বের নারী ছিলেন না। তিনি ছিলেন ক্ষীপ্রতার সাথে তরবারি চালাতে সক্ষম একজন অকুতোভয় যোদ্ধা, যিনি মাথা উঁচু করে ইসলামকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন যুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। তাঁর এই অবদান তাঁকে আজও ইসলামের ইতিহাসে এক স্বতন্ত্র মর্যাদার আসনে আসীন করে রেখেছে।
--------------------------------------
অনুবাদক: শারিকা হাসান
.
তথ্যসূত্র: https://hamariweb.com/articles/120426?fbclid=IwAR2tRmd9utRjyKT96TMg37OALqBiCEy6VJwvfzCRIKjUEwLVKTlnmY4iHHE
.
#Nusaiba_bint_Kab_RA
#Know_Your_Heroes
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
সংগ্রহিতঃ পুরনো ক্যানভাস হতে

FlexBlog - Responsive Blogger Template Premium Version 2020 SEO Friendly



FlexBlog - Responsive Blogger Template Premium Version 2020 SEO Friendly



FlexBlog Blogger Template is a beautiful, powerful & flexible Blogger template for News, Magazine and Blog websites. This a is totally customizable theme. It allowing you to create new exclusive designs in few works. It is also super optimized to give you the best results on search engines.


Features : 
⚫ Responsive
⚫ Google Testing Tool Validator
⚫ SEO Friendly
⚫ Mobile Friendly
⚫ 404 page
⚫ Loading Speed
⚫ Featured Post Widget
⚫ WhatsApp Sharing
⚫ Full Width Post Layout
⚫ Auto Read More With Thumbnail
⚫ Ads Ready
⚫ Multi Dropdown Menu
⚫ Search Widget
⚫ Emoji's
⚫ Colourful Social Widgets
⚫ Related Posts with Thumbnail
⚫ Social Share Button
⚫ Email Newsletter Widget
⚫ 3 Types of Comments
⚫ Recent Post
⚫ Label Post
⚫ Random Post





Premium Features : 
⚫ Footer Credit Removed.
⚫ Extra Wedgets Removed.
⚫ Auto Site Copyright Setup.
⚫ Auto Copyright Year Setup.

Note: This is not actually a premium version theme. This is only a rebuild version which comes from the free version. But the main thing is, you dosen't need to give credit for the developers and you can credit your own site.

livepreview 



 buy  


যদি কারো Premium Version Template লাগে (৫০০ টাকা) 

যোগাযোগ Gmail: megherbaribd@gmail.com

tag:premium blogger template free download,blogger template,premium blogger templates,free premium blogger template seo friendly,blogger templates,free premium blogger template,premium blogger template,best blogger templates,free premium blogger template responsive,blogger,free blogger templates,best free blogger templates,adsense responsive blogger template,mobile friendly blogger template free

Report Abuse

About Me

Tags

Search This Blog

Categories

Categories

Advertisement

40% Off

Popular Posts