নারী সাহাবি সিরিজ



#নারী সাহাবি সিরিজ
(খাদিজা রা . প্রথম মুসলমান এবং শেষ নবী মুহাম্মাদ - এর বিবি)
ইতিহাসের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নেই সময়ােপযােগী মহান ব্যক্তিত্বের জন্ম হয়েছে । খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন ইসলামের সূচনালগ্নে । ঐরকম একজন মহান ব্যক্তিত্ব । তিনি এক অবিস্মরণীয় জীবন । কাটিয়েছেন । তার সেই জীবনের অবদান ও মহত্ত্ব সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এবং তার প্রিয় হাবীব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু । আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্নভাবে উল্লেখ করেছেন । ইসলাম আবির্ভাবের সময়কাল বিবেচনা করে এখানে এমন একজনের ব্যতিক্রমধর্মী জীবনালেখ্য বর্ণনা করা হয়েছে যিনি ছিলেন ইসলামের সর্বযুগের চার শ্রেষ্ঠ মহিলার একজন । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর অবতীর্ণ হওয়া আল্লাহর । বাণীর প্রতি তিনি ঐকান্তিকভাবে ঈমান এনেছিলেন । খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহা ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান হিসেবেই শুধু বিখ্যাত নন , বরং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া । সাল্লামের শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবেও একইরকম প্রসিদ্ধ । আর তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম মুসলিম জনগােষ্ঠির জন্য বিরাট অনুপ্রেরণা ও সাহায্যের উৎস । এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি । ওয়া সাল্লামের কথা ও কাজের প্রতি তার অতুলনীয় বিশ্বস্ততাকে । ফুটিয়ে তােলার পাশাপাশি তাকে আধুনিক মুসলিম - অমুসলিম সকল । নারী - পুরুষের জন্য একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করার । চেষ্টা করা হয়েছে । দ্বীনের পথে নিজেকে নতুনভাবে গঠন ও পরিশুদ্ধ । করার ক্ষেত্রে এ কিতাবটি খুব সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ ।

খাদিজা রা . প্রথম মুসলমান এবং শেষ নবী মুহাম্মাদ - এর বিবি
মূলঃ রাশীদ হাইলামায
অনুবাদঃ মুহাম্মাদ আদম আলী
সম্পাদনাঃ মাওলানা মুহাম্মাদ আবু বকর মুহাদ্দিস , টঙ্গী দারুল উলুম মাদরাসা , টঙ্গী , গাজীপুর
পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৪৪
মুদ্রিত মূল্য ৩০০
-----------------
আয়শ রাযিয়াল্লাহু আনহা রাসূল ( সা . )
এ গ্রন্থে ইসলামী ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তিত্বের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে । প্রচলিত বিভিন্ন অপবাদ ও অপব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যান্য বিবিদের তুলনায় উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে আরও বেশি সঠিকভাবে জানা প্রয়ােজন । সীরাত বিশেষজ্ঞ ড . রাশীদ হাইলামায ইসলামের বিশ্বস্ত তথ্য - উপাত্ত যাচাই - বাছাই করে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার ব্যাপ্তিময় জীবনের ওপর বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলােকপাত করেছেন ; ইসলামের শিক্ষা বাস্তবায়নে তার বিশাল ভূমিকা , বিশেষ করে মহিলাদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত আচার - আচরণে ইসলামী অভিজ্ঞান প্রচার - প্রসার এবং রাসূলের বাণীকে সঠিকভাবে সংরক্ষণে যে নিবেদিত । ভূমিকা রেখেছেন , তা পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছেন । তাছাড়া তার ধার্মিকতা এবং তাকওয়া - পরহেজগারিসহ অন্যান্য গুণাবলী বিভিন্ন । ঘটনায় যেমন তুলে ধরা হয়েছে , তেমনি বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়সমূহ । ( যেমন : তার বিয়ের বয়স , আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে সম্পর্ক ইত্যাদি ) আলাদা অধ্যায়ে বিবৃত হয়েছে । দ্বীনী ব্যক্তিত্ব গঠন ও নিজেকে । পরিশুদ্ধ করার ক্ষেত্রে এ গ্রন্থটি খুবই সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ ।

বইঃ আয়শ রাযিয়াল্লাহু আনহা রাসূল ( সা . ) এর স্ত্রী , সঙ্গিনী , ফকীহ
মূলঃ রাশীদ হাইলামায
ইংরেজি অনুবাদঃ তুবা ওযের গুরবুয
বাংলা অনুবাদঃ মুহাম্মাদ আদম আলী
সম্পাদনাঃ মাওলানা মুহাম্মাদ আবু বকর
পৃষ্ঠাসংখ্যা ৩১২
মুদ্রিত মূল্য ৪০০
___________
ফাতিম
রা যি মা ন ই আ ন হা
ইসলামের আলােতে পৃথিবী আলােকিত হয়ে ওঠার যে ইতিহাস , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শে পৃথিবী সভ্য হয়ে ওঠার যে ইতিহাস , কুরআনের জ্ঞানে পৃথিবী শিক্ষিত হয়ে ওঠার যে ইতিহাস — সেখানে লেখা আছে জান্নাতী নারীদের নেত্রি নবীকন্যা ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহার অবদান । লেখা আছে তার অপরিসীম ভূমিকার কথা ; তার অকল্পনীয় ত্যাগ সাধনার গল্প ; তার অসীম বীরত্বের কাহিনী । তিনি এমন এক মহীয়সী নারী যার সমতুল্য সৌভাগ্যের অধিকারী কোনাে রমণী আগেও যেমন পৃথিবীতে ছিল না , পরেও আর আগমনের কোনাে সুযােগ নেই । তিনি একজন মানুষ ছিলেন - — কোনাে ঐশ্বরিক অবতার ছিলেন না । নবীকন্যা হিসেবে তিনি ছিলেন মুমিনদের জন্য আদর্শ , এ উম্মতের জন্য এক অবিস্মরণীয় অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব । তবে এক শ্রেণির মানুষ তার নামে নানা গল্প - গুজব ও মিথ্যা ইতিহাস বর্ণনা করেছে । এ থেকে উত্তরণ , নিজের আকীদা - বিশ্বাস সঠিক করা এবং ইসলামের শ্বাশত সত্য - সুন্দর ও শান্তিময় পথে জীবনকে পরিচালিত করার জন্য তার জীবনী পড়া আবশ্যক । এ গ্রন্থে ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহার যাপিত , জীবনের পাশাপাশি তার সম্পর্কে রচিত বিভিন্ন মিথ্যা বর্ণনা ও অপবাদ খণ্ডন করা হয়েছে । সম্ভবত এ অসাধারণ গ্রন্থটি পাঠ না করে থাকলে ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসই আপনার অজানা থেকে যাবে ।

বইঃ জীবন ও কর্ম ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহা ।
মূলঃ আব্দুস সাত্তার আশ - শায়খ
অনুবাদঃ মাওলানা মঈনুদ্দীন তাওহীদ
সম্পাদনাঃ মুহাম্মাদ আদম আলী ।
পৃষ্ঠাসংখ্যা ৩১০
মুদ্রিত মূল্য ৫০০

🖱যেভাবে অর্ডার করবেনঃ
আপনার নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে মেসেজ করুন।
আমাদের পেইজে
মেসেঞ্জারে- m.me/shopkureghor
অথবা কল করুন ☎ 01918889116,01837464316
#কুঁড়েঘর
★★★বিঃদ্রঃ★★★
১/ঢাকার মধ্যে ক্যাশ অন ডেলিভারি
২/সারাদেশে কুরিয়ারে বই পাঠানো হয়

গল্পে আঁকা মহীয়সী খাদিজা লেখকঃ ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী



বইঃ গল্পে আঁকা মহীয়সী খাদিজা
লেখকঃ ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী
প্রকাশনীঃ রাহনুমা প্রকাশনী
মূল্যঃ ৩০০৳
ইস্যু ফিঃ ১০৳
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂

: প্রতিজ্ঞাঃ(বই থেকে কিছু অংশ)

কাফেলা কাছাকাছি চলে এসেছে। সারা মক্কা জেগে উঠলো কাফেলাকে স্বাগত জানাতে। অনেক চিন্তার ভিড়ে শাম থেকে আসা নতুন পণ্য এবং আগামী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে খাদিজা ভাবনা শুরু করে দিলেন। এর মাঝেই ঘোষক আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রচার করলো মক্কায়। আশা করা হচ্ছে, রাত পোহালেই শামের কাফেলা মক্কায় পৌঁছে যাবে!
সবাই গুদামঘর ঠিকঠাক করতে ব্যস্ত হয়ে উঠলো। পণ্যশালায় ভিড় বাড়তে লাগলো। শুরু হলো আলোচনাঃ লাভ-ক্ষতির। ইয়েমেনী পণ্যে কী পরিমাণ লাভ হতে পারে কিংবা ক্ষতি, সে হিসাবও মুখে মুখে ঘুরতে লাগলো। শাম (সিরিয়া) থেকে বয়ে আনা পণ্যের চাহিদা ও বাজারমূল্য ঠিক আছে তো?
* * *
পরদিন ভোরে মক্কার দৃশ্য বদলে গেলো। সবাই ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে উঠলো। কাফেলাকে স্বাগত জানাতে মক্কার উপকণ্ঠে এসে বসে রইলো। অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো। এ অপেক্ষায় যোগ হলো কতো মানুষ! যোগ দিলো অসহায় দরিদ্ররাও, যারা বাণিজ্য-কাফেলা ফিরে এলে কিছু না-কিছু পেয়েই যায়। কোলাহল শুরু হয়ে গেলো কুলি ও বোঝা বহনকারীদের মাঝেও, এদেরও এখন কিছু পাওয়ার সময়। অপরদিকে উৎকণ্ঠাভরে অপেক্ষা করছেন একদল মা, যাদের সন্তানেরা গিয়েছিলো এ কাফেলায়, শ্রম দিতে, মজুরির বিনিময়ে! সবাই ফিরে এসেছো তো?! কোনো বিপদ হয় নি তো?! এসব নীরব জিজ্ঞাসাই ভেসে বেড়াচ্ছিলো তাদের চোখে-মুখে.....।

এ দলে দাঁড়িয়ে আছে আরেকদল উদ্বেগাক্রান্ত স্ত্রীও, যারা এখনো জানে না, তাদের স্বামীরা কি সবাই ফিরে এসেছে? নাকি কুদরতের অমোঘ বিধানে কেউ কেউ হারিয়ে গেছে, চলে গেছে না-ফেরার দেশে!
.
সবার মতো খাদিজাও নিজের পণ্যসম্ভার গ্রহণ করতে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। আগের মতোই তার আঙিনায় অনেক প্রার্থী। দীন-দুঃখী অসহায়দের ভিড়। খাদিজার বাঁদিরাও প্রাণবন্ত হয়ে ছুটোছুটি শুরু করে দিলো। পরস্পরে বলাবলি করতে লাগলো মালিকান প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির কথা। ওদের চোখ হাসছিলো। ওদের মুখ হাসছিলো। ওদের আশাঃ কাফেলা অনেক লাভবান হয়ে ফিরে আসছে। কাফেলা যতো লাভবান ওদের পুরষ্কার ততো ফলবান।
জোহরের পর, আসরের একটু আগে। খাদিজা ভবনের দোতলায় দাঁড়িয়ে আছেন। অপেক্ষা করছেন অধীরচিত্তে। পথের দিকে তাকিয়ে আছেন অনিমেষ (অপলক) চোখে। তাঁকে বেষ্টন করে থাকা বাঁদিরা তাকিয়ে আছে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে, মালিকানকে সুসংবাদ জানাতে মরিয়া হয়ে। অবশেষে কাফেলা দেখা গেলো, দূর-দিগন্তে। এগিয়ে আসছে মক্কার দিকে। খাদিজা অনুভব করলেন যতো না আনন্দ তারচেয়ে বেশি হৃদয়ের ক্রমবর্ধমান ধুকধুকানি। তিনি যতোটা সম্ভব দৃষ্টি মেলে তাকালেন। হ্যাঁ, এই তো উট গুলো আস্তে আস্তে বড় হয়ে আসছে! কাফেলা ধীরে ধীরে অবয়ব ফিরে পাচ্ছে! হঠাৎ এক বাঁদি সোল্লাসে চিৎকার করে উঠলোঃ
-মালিকান! মুহাম্মদ, ওই-যে আল-আমীন! পাশে মায়সারা!!
মুহাম্মদ ছিলেন তাঁর উটে, পাশেই মায়সারা আরেকটি উটে। পেছনেই পণ্যবাহী উটের সারি। তখন ঠিক তখনই খাদিজা দেখলেন এক বিস্ময়কর দৃশ্য! খাদিজা লক্ষ করলেন, কাফেলার সবাই পুড়ছে রৌদ্রে আর মুহাম্মদ চলছে একখন্ড মেঘছায়া মাথায় নিয়ে!! এমনকি তাঁর পাশের মায়সারাও রোদে জ্বলছে!! খাদিজা কি ভুল দেখছেন? এমনই তো দৃশ্যটা! মুহাম্মদ একা মেঘের ছায়ায়! বাকি সবাই রোদের ঘেরায়!! খাদিজা দেখলেন হঠাৎ এক বাঁদি চিৎকার করে বলছেঃ
-মালিকান! লক্ষ করেছেন? কী বিস্ময়কর দৃশ্য? মুহাম্মদের উপর রোদ নেই, সবার উপর রোদ?! মালিকান! মুহাম্মদ যেখানে ছায়াটাও সেখানে! এমনকি মুহাম্মদ নিচু হলে মেঘখন্ড-টাও নিচে নেমে আসছে! আয় আল্লাহ!!
ঘোরলাগা দৃষ্টিতে বিস্ময়-বিমুগ্ধ খাদিজা বাঁদির কথায় নিজের পর্যবেক্ষণের উপর আস্থা ফিরে পেলেও নীরব রইলেন, কোনো উত্তর করলেন না। তিনি কাফেলার দিকে নির্নিমেষ তাকিয়েই রইলেন।
কাফেলা এসে থামলো। উটের দল বসতে লাগলো। লোকেরা ছুটোছুটি শুরু করে দিলো। ছেলে ছুটে গেলো বাবার দিকে। বাবা ছুটে গেলো ছেলের দিকে। কেউ-বা ভাইয়ের দিকে। শুরু হলো খোঁজ-খবর। স্বাগতিকরা জানতে চাচ্ছে, কে এলো আর কে এলো না। সফরের সময়টা কেমন কাটলো ... ইত্যাদি।


#Read_to_Lead

মনের উপর লাগাম লেখকঃ ইবনুল-জাওযী রহ.




বইঃ মনের উপর লাগাম
লেখকঃ ইবনুল-জাওযী রহ.
অনুবাদঃ মাসুদ শরীফ
প্রকাশনীঃ ওয়াফি পাবলিকেশন
মূল্যঃ ১৭০৳
ইস্যু ফিঃ ৫৳
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂

ইবনুল জাওযীর "আত-তিব্বুর-রূহানী" বইটির বাংলা অনুবাদ "মনের উপর লাগাম" সম্পর্কে লেখক Abdullah Mahmud Nazib এর মতামত।

"হরেক রকম অসুখে ভুগি আমরা। দেহের অসুখ, মনের অসুখ। প্রথমটা দৃশ্যমান, রোগের অস্তিত্ব টের পাওয়া শুরু করলেই কালবিলম্ব না করে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। দ্বিতীয়টা নিজের কাছে সহজে প্রকাশ পায় না, প্রতিবিধান করতে বিলম্ব হয়ে যার হরহামেশাই। তাছাড়া মনের অসুখ এত বেশি বিচিত্র যে, এগুলোর গতি-প্রকৃতি বোঝাও মুশকিল। এই ধরনের অসুখ, অসুখের নেপথ্য তত্ত্ব এবং পথ্য সম্পর্কিত তথ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কুরআন ও সুন্নাহর পাতায়। ইমাম ইবনুল জাওযী সেগুলোকে একত্রিত করে 'আত-তিব্বুর রূহানী' গ্রন্থের অবতারণা করেছেন। সেই কালজয়ী গ্রন্থের সফল বাঙলায়ণ 'মনের উপর লাগাম'। অগ্রজপ্রতিম কথাশিল্পী জনাব মাসুদ শরীফ অনুবাদক হিসেবে ইতোমধ্যেই লব্ধপ্রতিষ্ঠিত। মূল গ্রন্থ ও অনুবাদের পাণ্ডুলিপি পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে দেখার পর মনে হচ্ছিলো, লেখক যদি বাঙলা-ভাষাভাষী হতেন, বোধ করি ঠিক এভাবেই তিনি লিখতেন। এই মন্তব্য যে মোটেও অত্যূক্তি নয়, পাঠক তাঁর পাঠযাত্রার বাঁকে বাঁকে সহসাই উপলব্ধি করতে পারবেন।
.
শুদ্ধাচারী হৃদয়ের সবুজ তৃণভূমিতে জন্মানো আগাছা উপড়ে ফেলার জন্যে এই গ্রন্থ নিড়ানি হয়ে কাজ করবে। বিশ্বাসী অন্তরের ভারী নিঃশ্বাস-কে হালকা করার জন্যে 'মনের উপর লাগাম' হতে পারে একটি আগাম প্রতিষেধক।"
.

লেখকের কথাঃ
"পাঠক, মানুষের জন্য আল্লাহ যা কিছু বরাদ্দ রেখেছেন তার সবই অথবা তাদের মঙ্গলের জন্য। হয় কোনো উপকারের জন্য- যেমন ক্ষুধা-অথবা কোন ক্ষতিরোধের জন্য- যেমন রাগ। কিন্তু ক্ষুধা যদি বেশি বেড়ে যায় তা হলে সেটা অতিভোজনে রূপ নেয়। তখন কিন্তু সেটা ক্ষতিকর। আবার রাগ যদি বেসামাল হয়, মানুষ তখন অশান্তি সৃষ্টি করে। বেশ কয়েকটি উদ্দেশ্য মাথায় রেখে আমি এই বইটি লিখেছি:
-মনকে সঠিক সন্দুরভাবে নিয়ন্ত্রণ
-খায়েশের মুখে লাগাম পরানো
-অসুস্থ ইচ্ছার চিকিৎসা

পরবর্তী ৩০টি অধ্যায়ে এ বিষয়গুলো আমি ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করেছি।"

রোগ-বালাইয়ের শেষ নেই। মাঝে মধ্যে এমন এমন অসুখের নাম শুনি, যার অস্তিত্ব আগে কখনো টেরই পাইনি। অসুখগুলোর যদি তালিকা করা হয়, তা হলে মোটা দাগে দুটো শিরোনামে সবগুলো অসুখ চলে আসবে। দেহের অসুখ আর মনের অসুখ। হরহামেশাই এই দুই শ্রেণির কোনো না কোনো অসুখ আমাদের লেগেই থাকে। দেহের অসুখের অবস্থাটা দৃশ্যমান। প্রাত্যহিক জীবন বাঁধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তাই এর চিকিৎসায় আমরা কাল-বিলম্ব করি না। কিন্তু মনের অসুখগুলো মনের গহীনে থেকে যায়। অবহেলায় উপেক্ষায় একটা সময় সেগুলো কঠিনভাবে বাসা বাঁধে আমাদের হৃদয়ের মাঝারে। দেহের রোগ যখন প্রকট আকার ধারণ করে, মানুষ তখন মরে যায়। আর রূহের রোগ যখন প্রকট আকার ধারণ করে, তখন রূহ তার রবের পরিচয় হারিয়ে ফেলে। আর রব-হারা রূহের মাঝে কোনো জীবন নেই। সে মৃত। তার আকাশে কোনো আলো নেই। গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত। তার জমিনে কোনো উর্বরতা নেই। যাই লাগান, ফলাফল অস্থায়ী।
তাই রূহের চিকিৎসা দেহের চিকিৎসার চেয়েও বেশি জরুরী। এ জন্য কুরআন সুন্নাহ জুড়ে আমরা রূহের চিকিৎসার আলোচনাই বেশি পাই। ৫০০ হিজরি সনের মহান ইমাম ইবনুল-জাওযী রহ. কুরআন সুন্নাহয় ছড়িয়ে থাকা সেই চিকিৎসা পথ্যগুলো একত্র করে রচনা করেছেন 'তিব্বুর রূহানী', যার বাঙলায়ণ 'মনের ওপর লাগাম' বইটি। বইটির পাতায় পাতায় তিনি এঁটে দিয়েছেন রূহের কার্যকরী সব চিকিৎসা-বিধান। প্রতিটি রোগ ধরে ধরে আলোচনা করেছেন একজন আত্মার চিকিৎসকের ন্যায়।
.
**প্রশ্ন হলো, বইটি এত ছোট কেন? রূহের রোগ-বালাই অসংখ্য, বৈচিত্র্যময়; তা হলে এর চিকিৎসা-বিধানও কি বিস্তারিত হওয়া জরুরী ছিল না?**
.
আসলে সালাফ আর খালাফ, তথা পূর্ববর্তী আর পরবর্তীদের মাঝে তফাৎটা এখানেই। পূর্ববর্তীরা কথা বলতে গাছের গোঁড়া নিয়ে। প্রতিটি শব্দ বলতেন গুণে গুণে। আর আমরা বলি ডাল পালা নিয়ে। ফলে আমাদের কথাগুলোও হয় গাছের পাতার মতো গুণে শেষ করা যায় না। মজার ব্যাপার হচ্ছে, লেখক গোটা বইতে শুধু প্রধান প্রধান রোগ বালাই নিয়ে কথা বলেছেন। যে রোগগুলোর সূত্র ধরে হাজারো রোগের জন্ম হয়, সেগুলোর গতি-প্রকৃতি এবং পথ্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। যেমন দেখুন,

(১) প্রথম অধ্যায়টি বিবেকের গুণ নিয়ে। আর দ্বিতীয় অধ্যায়টি কামনার সমালোচনা। এ দ্বারা লেখক যেন পাঠকের সামনে বিবেকের আসল অবস্থা এবং কামনার সাথে এর গভীর সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করছেন। তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন, প্রত্যেক অন্তরেই একটি দরজা, নাম কামনা-বাসনা। কামনার এই দরজা দিয়েই সকল রোগ-বালাইয়ের অনুপ্রবেশ ঘটে।

(২) এরপর তৃতীয় অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন প্রেমের ভূত নিয়ে। অধ্যায়টি পড়ে আমার ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ রহ.-এর কথা মনে পড়ে গেল। তিনি তাঁর 'আল-উবূদিয়্যাহ' গ্রন্থে অনেকটা এরকম বলেছিলেন, 'ব্যক্তির সকল নড়াচড়ার মূলে থাকে ভালোবাসা। মানুষ যা ভালোবাসে, যা পছন্দ করে, সে সেই ব্যাপারেই চাহিদা অনুভব করে এবং সে দিকেই ধাবিত হয়।' ইবনুল-জাওযী রহ.-ও একই সুরে কথা বলে গেছেন। আর এজন্যই অন্য যে কোনো অসুখের আগে এনেছেন আগে প্রেমের ভূত তাড়ানোর কথা।

(৩) চতুর্থ অধ্যায়টি 'শারাহ তাড়ানো' নিয়ে। শারাহকে 'অতিভোজন' বলা হলেও বাস্তবিক অর্থের এর রকমারি ধরণ আছে। সম্পদের স্তূপ করা, অপচয়, অত্যধিক দৈহিক মিলন সেগুলোর অন্যতম। মোট কথা শারাহ এর আলোচনা টেনে লেখক আমাদেরকে ভোগবাদী নফসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। কামনা-বাসনা আর প্রেমের ভূত, এগুলোর বহিঃপ্রকাশ ঘটে ভোগের মধ্য দিয়ে।

(৪) মজার ব্যাপার হচ্ছে, এরপরের অধ্যায়গুলো ধারাবাহিকভাবে প্রাপ্তি বিষয়ে কথা বলেছে। দুনিয়াবি পদের লোভ, কিপটামি, পয়সা ওড়ানো, আয়-ব্যয়ের ব্যাখ্যা, মিথ্যা, হিংসা, এভাবে পঞ্চম থেকে দশম অধ্যায় পর্যন্ত আলোচনা করেছেন। মানুষ যখন নিয়ামতের মাঝে ডুবে যায়, কামনা-বাসনা পেয়ে বসে, তখন সে মনে যা চায় তা-ই করে। অর্জিত সম্পদ ধরে রাখতে চায়, আর খায়েশ পূরণে হয় লাগামছাড়া। মিথ্যা আর হিংসার জন্ম এভাবেই।

(৫) আর ওপরের বিষয়গুলো যাদের কাবু করে ফেলে, অহংকার তাদের তুঙ্গে থাকে। আর তাই ৩৭ থেকে ৪৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত আক্রোশ, রাগ, মনের অহংবোধ, হামবড়া ভাব তথা আত্মতুষ্টি, লোক-দেখানি কাজকারবারের মতো অসুখগুলোর চিকিৎসা বাতলে দিয়েছেন লেখক।

(৬) ওপরের রোগগুলো ব্যক্তি ভেদে বৈচিত্র্যময়। মাত্রায় কারও কম, কারও-বা বেশি। তা সত্ত্বেও কিছু রোগ থাকে কমন। যেমন অতিরিক্ত চিন্তা, একটুতেই ভেঙ্গে পড়া, দুশ্চিন্তা উদ্বেগ উৎকণ্ঠা, অতিরিক্ত ভয়, মাত্রাতিরিক্ত খুশি, আলসেমি এগুলো আমাদের রন্ধে রন্ধে ঘুরে বেড়ায়। আর মানুষকে যখন এতগুলো অসুখ পেয়ে বসে, তখন সে আর নিজের রোগ শনাক্ত করতে পারে না। তাই ২২ নং অধ্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের টিপস দিয়েছেন লেখক।

(৭) পরিশেষে লেখক পরিবেশ নিয়ে কথা বলেছেন। মানুষ পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়। পরিবেশই বলে দেয় একটি বাচ্চার স্বভাব-প্রকৃতি কেমন হবে। আর একজন মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি রেখাপাত তৈরি করে স্ত্রী, সন্তান। তাই বইয়ের শেষের দিকে লেখক আশেপাশের মানুষগুলোর দেখভাল নিয়ে কথা বলেছেন। কীভাবে সন্তানকে শাসন করবেন, আদর্শ স্ত্রী নির্বাচন করবেন, পরিবার থেকে শুরু করে কাজের লোকদের সাথে আপনার ব্যবহার কেমন হবে, মোদ্দাকথা যারা আপনার রূহানী জগতের সাথী হয়ে পাশে থাকবে আমৃত্যু, তাদের চিকিৎসা বাতলে দিয়েছেন।

(৮) এভাবে লেখক আত্মার পরিচর্যার একটি রুটিন সাজিয়ে দিয়েছেন ধরে ধরে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আত্মার চিকিৎসা করতে গিয়ে আমরা কখনো কখনো আসল রোগটার কথাই বেমালুম থেকে যাই। নিখাদ চরিত্র গড়া। তাই বইয়ের শেষে এসে লেখক যেন পাঠকের মনে একটু টোকা দিয়ে গেলেন, তোমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়।
.
মোট কথা গোটা বই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সাজিয়েছেন লেখক। যা কলেবরে ছোট হলেও প্রজ্ঞায় আর গভীরতায় বড় বড় বইগুলোকে হার মানায়। তাত্ত্বিক কথা ছেড়ে রোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দুগুলো যেভাবে চিহ্নিত করেছেন, যেন অন্তরকে হাতে নিয়ে প্রতিটি শিরা-উপশিরা কেউ একজন ব্যাখ্যা করছেন! বইটি পড়ার সময় এমনই মনে হয়েছে আমার। অনুবাদক মাসুদ শরীফ আর সম্পাদক শ্রদ্ধেয় আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বইটির যে বাংলা রূপ দিয়েছেন, মাঝপথে ভুলে যেতে বাধ্য হয়েছি এটি একটি অনূদিত বই!

মন্তব্যঃ
বই কি জীবন পরিবর্তন করতে পারে!!
এই বইটি পারে।

#Read_to_Lead

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২ লেখকঃ আরিফ আজাদ


বইঃ প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২
লেখকঃ আরিফ আজাদ
প্রকাশনীঃ সমকালীন প্রকাশন
মূল্যঃ ৩৬৯৳
ইস্যু ফিঃ ১০৳
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ সিরিজের প্রথম বইটি অনেকগুলো অবিশ্বাসী যুক্তির বিশ্বাসী উত্তর দিতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন তো আর থেমে থাকে না অবিশ্বাসের, তেমনি বিশ্বাসের উত্তর দেয়াতেও ক্লান্তি আসার কথা না। অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসতে আরিফ আজাদের সে প্রচেষ্টার দ্বিতীয় নিদর্শন- প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২।
এই এই বই টি নাস্তিকতা বিরোধী বললে ভুল হবে, কারন এবারের বইতে নাস্তিকদের প্রস্নের উত্তরের পাশা পাশি খ্রিস্টান মিশনারিদের কিছু প্রশ্নের উত্তরের পাশাপাশি
কুরআনের কিছু অলৌকিক কিছু ব্যাপার, আর কিছু ভাষা তাত্তিক মিরাকল স্থান পেয়েছে।
এই বইয়ের মূল আকর্ষণ হল এটি কোন প্রচলিত গল্প উপন্যাসের মতো না হয়েও গল্প উপন্যাসের স্বাদ দিচ্ছে পাঠক কে তাই এটি পড়তে কোন বোর হয় না।
পাঠক যে কোন সময় যে কোন অধ্যায় পড়তে পারে এতে বইয়ের মূল আকর্ষণ এর কোন ক্ষতি হয় না ।
বইয়ের অধ্যায় গুলি নিম্নে দেওয়া হল --
১) কুরআন কি নারীদের শস্যক্ষেত্র বলেছে?
২)A Reply to Christian Missionary
৩) ইসলাম কি অমুসলিমদের অধিকার নিশ্চিত করে?
৪) কুরআনে বৈপরীত্যের সত্যাসত্য
৫) বনু কুরাইজা হত্যাকাণ্ড - ঘটনার পিছনের ঘটনা
৬) স্যাটানিক ভার্সেস ও শয়তানের ওপরে ঈমান আনার গল্প
৭) রাসুলের একাধিক বিবাহের নেপথ্যে
8) জান্নাতেও মদ?
৯) গল্পে গল্পে ডার উইনিজম
১০) কুরআন কেন আরবি ভাষায়?
১১) সূর্য যাবে ডুবে
১২) সমুদ্র বিজ্ঞান
১৩) লেট দেয়ার বি লাইট
১৪) কাবার ঐতিহাসিক সত্যতা
১৫) নিউটনের ঈশ্বর
১৬) পরমানুর চেয়েও ছোট
একটা জিনিস যত মিথ্যা ও অযৌক্তিকই হোক না কেন, সেটা বারবার বলতে থাকলে চিন্তার জগতে সেটা একটা বিকৃতি আনেই। একজন ব্যক্তি হয়তো অজাচার বা সমকামিতার মতো বিষয়গুলো মাথায়ই আনতে পারে না। কিন্তু মুক্তবুদ্ধি চর্চার নাম দিয়ে তার সামনে এগুলো বারবার আলোচনা করা হলো। তাকে যদি সেসব বিশ্বাস করতে চাপ প্রয়োগ না-ও করা হয়, ওই বারবার বলাটাই তার মনে একটা প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে নিজের বাবা-মা বা সমলিঙ্গের বন্ধুর সাথে চলাফেরা করতে গিয়ে এসব চিন্তা তার মাথায় অস্বস্তিকর একটা স্ট্রাগলের জন্ম দেয়।
এই চিন্তার ফীল্ডটা দখল করার কাজটা নাস্তিকরা খুব ভালো মতো পারে। তাদের মিথ্যা বিশ্বাসগুলোকেই বারবার নানাভাবে উপস্থাপন করে মন-মগজে এমন একটা ট্রমা তৈরি করে দেয়।
মুসলিমদের মনে এসব ট্রমা সৃষ্টি হলেও তাদের একটা আশ্রয় আছে। প্রতিটা সেজদার সাথে তারা সেসব ট্রমা মাটিতে ফেলে দিতে পারে। কিন্তু অবিশ্বাসীদের ওই আস্থার জায়গাটা নেই। সত্যগ্রহণে প্রস্তুত বুদ্ধিমান অবিশ্বাসীর কথা আলাদা, মূলত এরা এ বই থেকে উপকৃতই হবে। কিন্তু গোঁয়ার অবিশ্বাসীর সামনে একইভাবে আপনি আপনার সত্য বিশ্বাসগুলো তুলে ধরুন, তাদের মিথ্যা যুক্তিগুলো তুলাধুনা করুন, দেখবেন এরা কেমন কুঁকড়ে ছোট্ট হয়ে যায়। অন্ধকার, আশাহীন, স্যাঁতস্যাঁতে, বদ্ধ একটা পৃথিবীতে তারা দেয়ালে মাথা ঠুকে নিরন্তর মারা যেতে থাকে। ভ্লাদিমির-এস্ট্রাগনদের মতো কোনো গডো’র আগমনের আশায় বসেও থাকতে পারে না, মরেও যেতে পারে না। এই বইটাতে সেই কাজগুলো খুব সুচারুভাবে করা হয়েছে।
লেখক সাজিদ চরিত্রকে দিয়ে একটা কথা একাধিক জায়গায় পরিষ্কার করে বলিয়ে নিয়েছেন যে কুরআন বিজ্ঞানের বই না। বিজ্ঞানের সকল খুঁটিনাটি নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করা কুরআনের উদ্দেশ্য না। কিন্তু বিজ্ঞানমনস্কদের মনোযোগ কাড়ার জন্য যথেষ্ট এলিমেন্টস এতে আছে। কুরআনের সব আয়াত থেকে জোর করে বিজ্ঞানের সব তত্ত্ব খুঁজে বের করার যে পরাজিত মানসিকতা অনেকের মাঝে আছে, তা থেকে লেখক মুক্ত।
লেখকের আরেকটি অসাধারণ দিক হলো মুক্তিযুদ্ধের কনসেপ্টের ব্যবহার। বইয়ের যে টার্গেট অডিয়েন্স, তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ খুব গুরুতর একটা ইস্যু। এই কনসেপ্টের সাথে তুলনা করে বোঝালে অনেক বিষয়ই আমরা বাঙালিরা সহজে বুঝতে পারি।
''সাজিদ বলল,'আমি আপনাকে 'রমেশ দা' বলে ডাকতে পারি?'
'অবশ্য পারো' সামনে উপবিষ্ট লোকটি বলল।
'আচ্ছা রমেশ দা,আপনি কি কখনো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী পড়েছেন?'
'তা পড়িনি অবশ্য তবে নানা জনের কাছ থেকে কিছু কিছু ব্যাপারে শুনেছি।'
(রাসূলের একাধিক বিবাহের নেপথ্য,পৃষ্ঠা ১০১)
আরিফ আজাদ আর সাজিদ নাম দুটি পরিপূরক। আরিফ আজাদ নাম এলেই আসে সাজিদের কথা। হ্যা। আরিফ আজাদের 'সাজিদ' সিরিজের দ্বিতীয় বইয়ের নাম 'প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২'। প্রকাশের পর পরই নন্দিত পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এটি। দ্রুত স্থান করে নিয়েছে বেশি বিক্রি বইয়ের তালিকায়।
বইটিতে মোট ১৬টি গল্প আছে। প্রত্যেকটি গল্প লেখক লিখেছে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে। সাজিদের সরব উপস্থিতি, গল্প-আড্ডা,যুক্তি-তর্ক গল্পকে করেছে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়। সংক্ষেপে বইটির গল্পসমূহের নাম ও আলোচনা।
বইয়ের প্রথম গল্প'কুরআন কি নারীদের শস্যক্ষেত্র বলেছে' শিরোনামের। গল্পে দেখি নীলু দা আর সাজিদকে কোরানের একটি আয়াতের উপর তর্ক করতে। আয়াতটি সূরা বাকারার ২২৩ নাম্বার। যেখানে আল্লাহ বলেছে -নারীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র। নীলু দা এই আয়াতে আপত্তি জানিয়েছে। তিনি বলতে চাই কেন কোরান নারীকে শস্যক্ষেত্রের সাথে উপমিত করে। দাদার এই আপত্তির যৌক্তিক নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে জবাব দেয় সাজিদ।একই সাথে গল্পে উঠে এসেছে সেই সময়ের ইহুদি গোষ্ঠীর জাহেলী সংস্কৃতি।
'A Reply to Christian Missionary' এই বইয়ের দ্বিতীয় গল্প।এখানেও লেখক সাজিদ চরিত্র দিয়ে মিশনারিদের মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্যের সমুচিত জবাব দিয়েছে। খ্রিস্ট মিশনারিদের একটি প্রোপাগান্ডা হলো ইব্রাহিম আ. ইসমাইল আ.কে কোরবানি দেয় নি বরং ইসহাক আ.কে কোরবানি দিয়েছে। এই ভ্রান্ত তথ্যে প্রভাবিত গল্পের আহসান আংকেল। সাজিদ ইব্রাহিম আ.এর সময় কাল,ঋতু, মক্কায় আগমন ইত্যাদির প্রমাণ দিয়ে বুঝিয়েছে ইসহাক আ. নয়,ইসমাইল আ.-কেই কোরবানি দিতে নেয়া হয়েছে।
'ইসলাম কি অমুসলিমদের অধিকার অনিশ্চিত করে'-এটি বইয়ের তৃতীয় গল্প।এখানে সাজিদ বরাবরের মতো হাজির। ভ্রমণ থেকে আসতে ট্রেনের এক ভদ্র লোকের প্রশ্নের উত্তরে সাজিদ আর লেখক ইসলাম অমুসলিমদের জন্য কি কি অধিকার দিয়েছে তার বর্ণনা দিয়েছে কোরান আর হাদিসের বিভিন্ন রেফারেন্স দিয়ে।
'বনু কুরাইজা হত্যাকাণ্ড-ঘটনার পেছনের ঘটনা',স্যাটানিক ভার্সেস ও শয়তানের ওপরে ঈমান আনার গল্প','রাসূলের একাধিক বিবাহের নেপথ্যে'বইয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গল্প। বনু কুরাইজার হত্যার ঘটনা আর তা নিয়ে নাস্তিকদের আস্ফালনের একটি যথার্থ জবাব; দানব সালমান রুশদীর মিথ্যা বানোয়াট ও শয়তানের কোরান পাঠ, আর ইতিহাসের অগ্রহণযোগ্য কাহিনীর সত্যতা; রাসূল সা.এর একাধিক বিবাহের পিছনে বাস্তবতা,কৌশল আর হিকমার গুরুত্ব -লেখক তুলে এনেছেন গল্প তিনটিতে।
'জান্নাতেও মদ?' 'গল্পে গল্পে ডারউনিজম','কুরআ
ন কেন আরবী ভাষায়','সূর্য যাবে ডুবে','সমুদ্র বিজ্ঞান','লেট দেয়ার বি লাইট','কাবার ঐতিহাসিক সত্যতা','নিউটনের ঈশ্বর','পরামাণুর চেয়ে ছোট'- বইয়ের এই গল্পসমূহে রয়েছে সাজিদের অসম্ভব চিন্তা শক্তি,তর্কের শীতল মেজাজ,ইতিহাসের অনু-পরমাণু নিয়ে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ দক্ষতা, আর অন্যতম একটি বিষয় নাস্তিকদের ধর্ম 'বিজ্ঞান' নিয়ে গভীর পারদর্শীতা। সাজিদ এখানে বিজ্ঞান চেতনার অনেক অজানাকে জানিয়েছে আমাদের যা নাস্তিকতার অগোচরে ঢেকে রাখা হয়। তার মধ্যে নিউটনের ইশ্বর,পরামাণুর চেয়ে ছোট,সূর্য যাবে ডুবে উল্লেখযোগ্য।
.
বইটি বর্তমান শিক্ষিত সংশয়ের ব্যাধিতে আক্রান্ত তরুণদের জন্য খুবি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ বইটি যদি একবার পড়ে নেয় তাহলে সংশয়ের যে ব্যাধি তাকে আক্রান্ত করেছে তা থেকে সে অন্যরকম একটি স্বস্তি পাবে ইনশাআল্লাহ।
সমালোচনা:
বইটির আলোচ্য বিষয়সমূহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বইটির পাঠ আমার কাছে খুব বিরক্তিকর লেগেছে। এখানে লেখকের দুর্বলতা।তিনি গল্পগুলোকে গল্পের মানে উত্তীর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, বইয়ের নাম,বিষয়বস্তুর সূচির মাঝে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। বিষয়সমূহের শিরোনাম দেখলে মনে হয় যেনো সবগুলো 'প্রবন্ধ'।এরকম লেখা পণ্ডিতমহলে স্থান নিতে ব্যর্থ হবে। বইয়ের পেজের মান উন্নত। বিশেষ আকর্ষণও আছে।প্রচ্ছেদও যথার্থ হয়েছে।
এছাড়া আমার ইসলামি সামান্য জ্ঞানের আলোকে বইটির উল্লেখযোগ্য কিছু ভুল চোখে পড়েছে। যেমন-
প্রথম টপিকে লেখক সূরা বাকারার ২২৩ নাম্বার আয়াতের যে ব্যাখ্যা দিয়েছে সেখানে একটা মোটা ভুল করেছেন তিনি। তিনি এই বিষয়টা এখানে স্পষ্ট করেন নি যে, স্ত্রী'র সাথে পায়ু পথে সঙ্গম করা হারাম যা প্রত্যেকেটা তাফসিরে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে। বরং এই জঘণ্য কাজের জন্য আল্লাহ একটি জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে যা কোরানে উল্লেখ আছে।ফলে এই ভুলটি অনেকের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে।
(কেউ ইচ্ছে করলে এই আয়াতটির তাফসির
এপ্স 'কোরআন মাজিদ' থেকে পড়ে নিতে পারেন।)
দ্বিতীয় টপিকে লেখক মাওলানা আকরাম খাঁ'র 'মোস্তফা চরিত' গ্রন্থটিকে হাইলি প্রমোট করেছেন। এমনভাবে বলেছে ওটিই একমাত্র পৃথিবীর অদ্বিতীয় সিরাত! কিন্ত প্রজ্ঞাবান আলেমরা এই গ্রন্থের উপর অনেক অভিযোগ করেছেন।
তৃতীয় টপিকে লেখক দাঁড়ি আর চুলে মেহেদি লাগানোকে শৌখিন বলেছেন। যা হাদিসে রাসূল সা. নিজেই সাদা চুলকে মেহেদি লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এখানেও কিছু অস্পষ্ট বিষয় আছে যা অবশ্য সচেতন মুসলিমের জানা থাকা অপরিহার্য।
৪৫ পৃষ্টায় তিনি হাদিসের রেফারেন্স দিয়ে বলেছেন,ধর্মে জোরজবরদস্তি নেই।কিন্তু হাদিসে এর বিপরীতে বলা আছে, আমি তাদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করবো যতক্ষণ না তারা এক আল্লাহর স্বীকৃতি না দেয়। সুতরাং কখন ধর্মে জোর করা নেই আর কখন বাধ্যবাধকতা আছে তা তিনি এখানে স্পষ্ট করেন নি।
ষষ্ঠ টপিকের আলোচ্য বিষয়ের তিনি খুব সুন্দর একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন।সত্য আর মিথ্যা স্পষ্ট করেছেন। কিন্তু স্যাটানিক ভার্সেস লিখা লেখকদের জন্য ইসলামে যে একটি কঠোর শাস্তির বিধান আছে তা লেখক এখানে উল্লেখ করে নি। তা গল্পে না এনে চাইলে ফুটনোট আকারেও দেয়া যেতো।
'লেট দেয়ার বি লাইট' গল্পে লেখক মতি সম্পর্কে একটি প্রেমের ইঙ্গিত দিয়েছে যা অকাম্য ইসলাম সম্পর্কিত বই হিশেবে।আর এই সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কি তাও ব্যক্ত হয় নি।
লেখকের আরেকটি সবচেয়ে বড় ত্রুটি হলো বইটি কোনো প্রজ্ঞাবান আলেম দ্বারা শরিয়া সম্পাদনা না করা কিংবা যদি কেউ করে থাকে তবে বইতে তারও নামের উল্লেখ না থাকা।
গ্রন্থটি নাস্তিকেরা যত বেশি পড়ে না আস্তিকেরা তত বেশি পড়ে।এজন্য ইসলামের বিধিবিধানসমূহ স্পষ্ট হওয়া জরুরি কেননা যার পরিচিতি যতদূর তার বার্তাও ততদূর পৌঁছায়।আর এটা সঠিক হলে কল্যাণকর আর ভুল হলে ক্ষতিকর।
লেখক ভাই আরিফ আজাদ একজন উদীয়মান বিখ্যাত তরুণ লেখক। হয়তো আলোচ্য বইতে উনার যা ভুল হয়েছে তা অনিচ্ছাকৃত। লেখকের আরেকটি গুণ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।তিনি বইয়ের 'লেখকের কথা'য় বলেছেন- কেউ ভুল ত্রুটি উল্লেখ করে জানালে তিনি সংশোধন করে নিবেন।আমিও আশাকরি লেখক বইয়ের পরবর্তী সংস্করণে কোনো প্রজ্ঞাবান আলেম দ্বারা সম্পাদনা করে প্রকাশ করবেন আর ইতিমধ্যে পাঠক মাঝে ছড়িয়ে যাওয়া ভুলগুলো নিয়ে সামাজিক সাইটে সংশোধনী বার্তা দিবেন।
প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ পড়েছে তারা তো অবশ্যই সংগ্রহ করছে দ্বিতীয় খণ্ডটি। কিন্তু যারা প্রথমটি পড়ে নি তারাও চাইলে দ্বিতীয় খণ্ডটি পড়তে পারে কোন সমস্যা ছাড়াই। বিশ্বাসের আলোতে চলুন আরও একবার উদ্ভাসিত হই।
#kureghor.com.bd
#Read_to_Lead

মুহাম্মাদ ﷺ হৃদয়ের বাদশা (দুই খণ্ড) লেখক: ড. রাশীদ হাইলামায



#মুহাম্মাদ ﷺ হৃদয়ের বাদশা (দুই খণ্ড)
আমাদের প্রিয় নবি মুহাম্মাদ ﷺ-এর অনুপম জীবনী নিয়ে প্রতিনিয়ত লেখা হচ্ছে। মূলত এটি শেষ হবার নয়। কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্বের বর্ণনাধারা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি রাসূল ﷺ-এর ব্যাপ্তিময় জীবনও একই সাথে উচ্চারিত হতে থাকবে। 'মুহাম্মাদ ﷺ হৃদয়ের বাদশা' গ্রন্থটি এ ধারারই নতুন সংযোজন। আলহামদুলিল্লাহ, ১ম খণ্ডের পর এখন ২য় খণ্ড প্রকাশিত হলো।
.
এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এখানে ঘটনা বর্ণনায় এমন এক অভিব্যক্তি ব্যবহার করা হয়েছে—যা পাঠককে আলোড়িত করে, চিন্তায় নিমগ্ন করে এবং সামনে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করে। এজন্য গতিশীল পাঠের নিমিত্তে প্রতিটি ঘটনায়-ই সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। কেবল সেইসব ঘটনার ক্ষেত্রে ফুটনোট ব্যবহার করা হয়েছে—যা প্রসিদ্ধ সিরাতগ্রন্থে বিস্তারিতভাবে উল্লেখিত হয়নি। আশা করি, পাঠকগণ এ গ্রন্থে রাসূল ﷺ-এর জীবনী সম্পর্কে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা লাভ করবে।
.
বই: মুহাম্মাদ ﷺ হৃদয়ের বাদশা (দুই খণ্ড)
লেখক: ড. রাশীদ হাইলামায
প্রকাশনী: মাকতাবাতুল ফুরকান
দুই খণ্ডই পাচ্ছেন ৪০% ছাড়ে ৯৬০৳

🖱 যেভাবে অর্ডার করবেনঃ
আপনার নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে মেসেজ করুন।
আমাদের পেইজে
মেসেঞ্জারে- m.me/shopkureghor
অথবা কল করুন ☎ 01918889116
#কুঁড়েঘর
★★★বিঃদ্রঃ★★★
১/ঢাকার মধ্যে ক্যাশ অন ডেলিভারি
২/সারাদেশে কুরিয়ারে বই পাঠানো হয়

জুমুআর বয়ানে সমকালীন বিশ্ব লেখক : মুফতী মুহাম্মদ জাহীদুল ইসলাম



'জুমুআর বয়ানে সমকালীন বিশ্ব'



জুমআ। মুসলিম জাতির সাপ্তাহিক মিলনকেন্দ্র। শত ব্যস্ততা পেছনে ফেলে মুমিনরা ছুটে আসে মসজিদপানে। জড়ো হয় মিম্বারের সামনে। শুনতে থাকে দ্বীনি আলোচনা। ওয়ারিশে আম্বিয়ার মুখনিঃসৃত মুক্তাতুল্য বাণিগুলো কুড়িয়ে নেয় । সাজিয়ে নেয় জীবনকে। গড়ে তুলে আখিরাতকে। নবী করীম ﷺ এর ইন্তিকালের পর থেকেই এই মহান কাজ প্রতি যুগে আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী উলামায়ে কেরাম। তাঁরা মিম্বারের ধ্বনিতে আলোড়িত করেন মানুষের জীবন। আলোকিত করেন বিদ্ঘুটে অন্ধকারে ছেয়ে যাওয়া অন্তরাত্মাকে। নাড়িয়ে তুলেন পাপের ভারে জমে যাওয়া মনজগতকে। আন্দোলিত করেন উদাসীন মনকে। জাগিয়ে তুলেন ঘুমন্ত ব্যক্তিসত্ত্বাকে। মনে করিয়ে দেন জাতীয় চেতনা, দেশীয় গৌরব ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। তাঁরা অশ্লীলতায় ছেয়ে যাওয়া সমাজে ছড়িয়ে দেন সংশোধনী বার্তা। পৌঁছে দেন ঈমানের স্বচ্ছ ও নির্ভেজাল বাণি।



জুমুআর এই খুৎবাহ মানবজীবনে বিস্তর প্রভাব ফেলে। ব্যাক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক, জাতীয় ও ধর্মীয় চেতনা বজায় রাখতে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই দ্বীনি বার্তা প্রচারকারী এই জুমুআর খুৎবাহ হওয়া চাই বিষয়ভিত্তিক, সারগর্ভপূর্ণ, সাজানো-গুছানো, মর্মস্পর্ষী ও যুগের চাহিদানির্ভর। সেই চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই নববী শিক্ষার সৎসাহস বুকে নিয়ে জাতির খেদমতে এগিয়ে এসেছেন মুফতি জাহিদুল ইসলাম। রচনা করেছেন 'জুমুআর বয়ানে সমকালীন বিশ্ব' নামের অমূল্য এই গ্রন্থ। বইটিতে ব্যাক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও ধর্মীয় নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে।



বইটি প্রকাশ করেছে এ-দেশের স্বনামধন্য অভিজাত প্রকাশনী 'আনোয়ার লাইব্রেরী'। ইসলামপ্রিয় রুচিশীল পাঠকদের কাছে খুবই প্রিয় ও গ্রহণযোগ্য একটি নাম। উম্মাহর খেদমতে যারা কাজ করে যাচ্ছেন সাধ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে। ইসলামের আলো বিলিয়ে চলেছেন শহরের অলি-গলি ও গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ--সর্বত্র।



৬২৪ পৃষ্ঠার এই বইটিকে সাজানো হয়েছে মোট 'ছয়টি অধ্যায়ে'। মূল্য সাধ্যের মাঝে। বাধাই, কভার, কাগজ সবই মানসম্মত, সন্তুষজনক।





বইয়ের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, প্রতিটি আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে। বইয়ের পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সালফে সালেহীন ও আকাবির উলামায়ে কেরামের মুক্তাতুল্য বাণিসমূহ এবং বিভিন্ন তাফসীর ও ব্যাখ্যাগ্রন্থের উদ্ধৃতি। আলোচনাকে বাস্তবতার নিরিখে মনে গেঁথে দিতে আনা হয়েছে নানা ঘটনা। বিষয় ভিত্তিক গোছালো আলোচনা বইয়ের সৌন্দর্যকে আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বেশ তথ্য ও তত্ত্ব সমৃদ্ধ; যা চিন্তাশীল যে-কোনো মনে মুগ্ধতা ছড়াবে। পাঠককে বইয়ে ধরে রাখতে এবং আলোচনা সহজে আত্মস্থ করতে আলোচ্য বিষয়ের ধারাবাহিকতা বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি।





সংক্ষেপে ছয়টি অধ্যায়ের পাঠপর্যালোচনা তুলে ধরছি:



* প্রথম অধ্যায়:[৩১-৩২৬]

গ্রন্থটির বিশাল এক অংশ জুড়ে আছে অধ্যায়টি। শুরু হয়েছে আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্ববাদ সম্পর্কীয় বিস্তর আলোচনা ও প্রামাণাদি উল্লেখের মধ্য দিয়ে। কুফর, শিরক ও বিদআত বিষয়ে এসেছে বিস্তারিত প্রামাণ্য পর্যালোচনা। নবী-রাসূল পরিচিতি, সংখ্যা ও আম্বিয়ায়ে কেরাম সংক্রান্ত অন্যান্য আকীদা, বিশেষত খতমে নবুওয়াত নিয়ে প্রামাণিক বিশ্লেষণ। মীলাদুন্নবীর পোস্টমর্টেম, স্বরুপ, দলিলনির্ভর খন্ডন ও ইতিহাস। ওরশের ভেতর বাহির। মি'রাজের প্রেক্ষাপট, মহাকাশ, ঐশী দলীল ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ এবং অর্জন। মৃত্যুকালীন শান্তি ও যন্ত্রণা। শা'বান ও শবে বরাত--ফযীলত, বিভ্রান্তি, বাড়াবাড়ি ও করণীয়। রমজান, যাকাত, লাইলাতুল কদর, ইতিকাফ বিষয়ক তথ্যবহুল ইনসাফপূর্ণ আলোচনা। কুরআনের মাহাত্ম। হজ ও বাইতুল্লাহর পুননির্মাণ ও তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়। দুই ঈদ--করণীয় বর্জনীয়। কুরবানীর বিস্তর আলোচনা। হিজরী সনের তাৎপর্য, ইতিহাস এবং বিভিন্ন মাসের নির্দিষ্ট আমল ও ভ্রান্তি নিরসন। কারবালা ট্রাজেডি, নির্বাচন পদ্ধতি-ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি এবং রিজিক সংক্রান্ত বিভিন্ন দিকের আলোচনা।





* দ্বিতীয় অধ্যায়: ইবাদত[৩২৭-৩৭৬]

এতে ফাযায়েলে নামাজ তথা গুরুত্ব ও তাৎপর্য, স্বরুপ, দলিল, পুরস্কার এবং মাসায়েলে নামাজ তথা নামাজ সংক্রান্ত বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জামাআতের গুরুত্ব ও পরিত্যাগের শাস্তি এবং খুশু বিষয়ে মর্মস্পর্ষী আলোচনা এসেছে। রয়েছে জুমআ সংক্রান্ত বিস্তর আলোচনা।



* তৃতীয় অধ্যায়: মুআমালাত [৩৭৭-৪৩৬]

এই অধ্যায়ে উঠে এসেছে পিতা-মাতা ও সন্তান সম্পর্কীয় আলোচনা, লালন-পালনে করণীয় বর্জনীয় সহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য দিক। স্বাভাবিক চলাফেরায় আচার-আচরণের নানাদিক নিয়ে ইসলামি নির্দেশনাগুলো সহজে তুলে আনা হয়েছে। নারীবাদ, সমঅধিকারের এপিঠ ওপিঠ সহ এই বিষয়ের বেশ কিছু আলোচনা স্থান পেয়েছে। মানব অঙ্গের খেয়ানত, ময়নাতদন্ত, কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন ও রক্ত ক্রয় বিক্রয় সহ অন্যান্য কিছু মাসআলা আলোচিত হয়েছে।



চতুর্থ অধ্যায়: [ তাযকিয়ায়ে নাফস: ৪৩৭-৪৮৬ ]

এই অধ্যায়ে আত্মশুদ্ধির পরিচয়, হাকীকত, প্রয়োজনীয়তা ও পদ্ধতি এবং এই লক্ষ্যে সুহবতের অপরিহার্যতার ব্যাপারে বিস্তর আলোচনা এসেছে। দুআ কবুলের মর্ম, পদ্ধতি, কবুল না হওয়ার কারণ এবং কবুল হওয়ার শর্তগুলো খুলে খুলে বর্ণনা করা হয়েছে।



পঞ্চম অধ্যায়: [ ইলম: ৪৮৭-৫১৬ ]

ইলমের মর্যাদা, ইলম না থাকার ভয়াবহতা, শেখার বিধান ইত্যকার বিষয়ে প্রামাণ্য আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয়ত আলোচনা হয়েছে কওমী মাদরাসা বিষয়ক। কওমী মাদরাসার পরিচয়, প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, পদ্ধতি, মূলনীতি, অবদান এবং কওমী মাদরাসার আধুনিকায়ন, কওমী মাদরাসা ও জঙ্গি-সন্ত্রাস বিষয়ে।



ষষ্ঠ অধ্যায়: [বিবিধ]

এই অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে 'সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ইসলাম' শীর্ষক শিরোনামের মাধ্যমে। এ-বিষয়ে হয়েছে নিরপেক্ষ তাত্ত্বিক আলোচনা। এরপর নানা দিবসের ইতিহাস, হাকীকত, পালনের বিধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেমনঃ এপ্রিল ফুল, ভালোবাসা দিবস, মাতৃভাষা দিবস, শ্রমিক দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বাংলা নববর্ষ, ইংরেজি হ্যাপি নিউ ইয়ার সহ অন্যান্য 'ডে' সম্পর্কে। সর্বশেষ আলোচনা হয়েছে তাবলীগ জামাআতঃবিশ্ব ইজতেমা ও আখেরী মুনাজাত বিষয়ে।







'একের ভেতর সব' এবং গ্রহণযোগ্য ও উপকারী নানা গুণে বিশেষিত হওয়ায় অল্প সময়েই পাঠক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে গ্রন্থটি। মিম্বারের সীমানা পেরিয়ে খুৎবার আলোকময় কন্ঠস্বর ছড়িয়ে পড়ুক জীবন, সমাজ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল--সর্বত্র!


'আনোয়ার লাইব্রেরী'

বই: জুমুআর বয়ানে সমকালীন বিশ্ব
লেখক : মুফতী মুহাম্মদ জাহীদুল ইসলাম
প্রকাশনী : অানোয়ার লাইব্রেরী
বিষয় : প্রয়ােজনীয় , ব্যক্তিগত , পারিবারিক , সামাজিক ও আন্তর্জাতিক
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২৪
'মুদ্রিত মূল্যঃ ৭০০টাকা'

রিভিও লেখকঃ রিফাত হাসান

Report Abuse

About Me

Tags

Search This Blog

Categories

Categories

Advertisement

40% Off

Popular Posts