আল্লাহর ওলী হওয়ার (পথ ও পাথেয়)



একজন সাধারণ মুমিন বান্দা যেসব আমলের মাধ্যমে আল্লাহর ওলী হওয়ার বিরল সৌভাগ্য |
অর্জন করতে পারেন , যেমন : বিনয় ও নম্রতা , অন্যের সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রাখা , ক্ষমা ও উদারতা , ধৈর্য ও সহনশীলতা , দুনিয়াবিমুখতা |
ও অমুখাপেক্ষিতা , দানশীলতা ও আতিথেয়তা , | তাকওয়া , পরহেযগারী , খােদাভীতি ও পরকালের |
ভাবনা ইত্যাদি মহামূল্যবান গুণাবলী অর্জনের উপায় এবং আমাদের আকাবির - আসলাফ কীভাবে এই গুণগুলাে অর্জন করেছেন , তার । কিছু চমৎকার ঘটনার প্রাঞ্জল ও সহজবােধ্য |
বর্ণনায় সমৃদ্ধ “ আল্লাহর ওলী হওয়ার পথ ও পাথেয় ” শীর্ষক এই মূল্যবান বইটি । এর |
পাশাপাশি ইলমে - দ্বীন ও উলামায়ে - দ্বীন সংশ্লিষ্ট গুরুত্ববহ কিছু আলােচনা , আসাতিযায়ে কেরাম ও উলামা হযরতের জন্য আকাবিরগণের কিছু মূল্যবান নসীহত এই বইটিকে এ - বিষয়ে অনন্যতার আসনে সমাসীন করেছে । সমকালীন উলামায়ে কেরাম ও তলাবায়ে ইযামের কাছে কিতাবটি লাভ করেছে ঈর্ষণীয় গ্রহণযােগ্যতা ।

বইঃ আল্লাহর ওলী হওয়ার (পথ ও পাথেয়)
সংকলনেঃ আল্লামা মুফতী সাইয়েদ সালমান মনসুরপূরী (দা.বা.)
ভাষান্তরেঃ মুফতী বিলাল হুসাইন খান
সম্পাদনাঃ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন
প্রকাশনায়ঃ আনোয়ার লাইব্রেরী
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩০০ টাকা

যেভাবে অর্ডার করবেনঃ
আপনার নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে মেসেজ করুন।
আমাদের পেইজে
মেসেঞ্জারে- m.me/kureghor.com.bd
অথবা কল করুন ☎ 01918889116

খুলাফায়ে রশিদীন প্যাকেজ লেখক: ড. আলী মুহাম্মদ আস-সাল্লাবী


নবীজি ﷺ ছিলেন আল্লাহর রাসূল, তাই থাকতেন তাঁর বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে। মি'রাজে রাতে আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন, জান্নাত-জাহান্নাম দেখেছেন স্বচক্ষে, কথা বলেছেন মালাইকাদের সাথে। কিন্তু সাহাবীগণ আমার আপনার মতোই মানুষ। সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে তাঁরা নবীজির ﷺ-এর দাওয়াহ কবুল করেছেন, ঈমান এনেছেন অদেখা বিষয়ে যেভাবে আমরা এনে থাকি। কিন্তু আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে এবং নবীজির আনুগত্যে তারা যে নিরেট ঈমানের পরিচয় দিয়েছেন তা অতুলনীয়। এছাড়া আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত সারা পৃথিবীতে পৌঁছে দিতে এবং মানুষকে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে যে ত্যাগের পরিচয় রেখেছেন, কিয়ামত পর্যন্ত ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবে।
.
তাই ইসলামের ইতিহাসে আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা রয়েছে সাহাবীদের জীবনে। তারাই ছিলেন নবিজি ﷺ-এর শিক্ষার বাস্তব নমুনা, কুরআনে বর্ণিত ‎سَابِقُوْن (অগ্রগামী)-দের অন্তর্ভুক্ত। আর লক্ষাধিক সাহাবীদের ভিতর ৪ খলিফার জীবনে সবচেয়ে বেশি শিক্ষা পাওয়া যায়। কারণ, তাদের দ্বারাই ইসলামী ইতিহাসের লেখা শুরু হয়েছিল। তাঁরাই ছিলেন নবীজির ইন্তেকালের পর উম্মতের রাহবার। বিদায় হজের ভাষণে তাদের পথকেই আঁকড়ে ধরার জন্য তাগিদ দিয়ে গেছেন নবীজি ﷺ।
.
তাই সেই চার খলিফার জীবনী নিয়ে আমরা এসেছি 'খুলাফায়ে রশিদীন প্যাকেজ'। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ইতিহাসবিদ ড. আলী মুহাম্মাদ সাল্লাবীর রচিত সীরাত গ্রন্থগুলোর সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে, যে গ্রন্থগুলো সারা বিশ্বে নানান ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং হচ্ছে।
.
বই: খুলাফায়ে রশিদীন প্যাকেজ
লেখক: ড. আলী মুহাম্মদ আস-সাল্লাবী
প্রকাশনী: মাকতাবাতুল ফুরকান
মূল্য: ৫০% ছাড়ে ৩০০০ ৳ এবং সারা দেশে ডেলিভারি চার্জ ফ্রি!

যেভাবে অর্ডার করবেনঃ
আপনার নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে মেসেজ করুন।
আমাদের পেইজে
মেসেঞ্জারে- m.me/kureghor.com.bd
অথবা কল করুন ☎ 01918889116

ভারতীয় নওমুসলিমদের ঈমানদীপ্ত সাক্ষাৎকার 



ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কারণে যে ব্যাক্তি নিজের ভাতিজিকে পেট্রল গায়ে ঢেলে দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ছিল সেই ব্যাক্তি কিনা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হাজারো মানুষের মাঝে ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দিচ্ছে।
এই ধরনের ১২৮ জন নওমুসলিমদের সাক্ষাৎকার নিয়ে ৬ খণ্ডের অনবদ্য বইটি।
সাক্ষাৎকার নিয়ে লিখা হলেও বইগুলোর মাঝে আছে ঈমান মজবুত রাখার মহৌষধ।

📕ভারতীয় নওমুসলিমদের ঈমানদীপ্ত সাক্ষাৎকার
🔖তত্ত্বাবধানঃ মাওলানা কালিম সিদ্দিকি
🔖সাক্ষাৎকার গ্রহণঃ মাওলানা আহমাদ আওয়াহ নদবি
🔖সংকলকঃ মুফতি রওশন শাহ কাসেমি
📖অনুবাদকঃ মাওলানা শামসুদ্দীন সাদী
📚প্রকাশকঃ আনোয়ার লাইবেরী
৬ খণ্ডের একত্রে মুদ্রিত মূল্য ১৩০০ টাকা
৪৫% ছাড়ে আমাদের মূল্য ৭১৫ টাকা

বইগুলো নিতে আজ ই যোগাযোগ করুন। 
☎ হেল্পলাইনঃ 01918889116
অথবাঃ m.me/kureghor.com.bd
ঢাকায় হোম ডেলিভারি
সারাদেশে কুরিয়ারে বই পাঠানো হয়

ফুল হয়ে ফোটো মূল : শাইখ আহমাদ মুসা জিবরীল ও মোহাম্মাদ হোবলস



আমাদের বোনদের মুক্ত করুন!
আরবের বুরাইদাহ্য় আমাদের নির্যাতিত বোনদের প্রতি অগণিত শ্রদ্ধা। কেবল বুরাইদাহতেই নয়, দুনিয়ার যেকোনো প্রান্তের নির্যাতিত বোনেরাই এ শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। কিন্তু বুরাইদাহর প্রসঙ্গটি এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক, তাই আমি সেখানকার বোনদের কথা উল্লেখ করলাম। তাদের মর্মস্পর্ষী, হৃদয় বিদারক ও অত্যন্ত বেদনাদায়ক পরিস্থিতির সাথে সংহতি প্রকাশ করে আমি সে প্রসঙ্গেই এ সপ্তাহে আপনাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলার ইরাদা (ইচ্ছা) রাখি ইন-শা-আল্লাহ।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে গত কয়েকদিনে এ ব্যাপারে কিছু আলোচনা করার জন্য আমার কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমান অনুরোধ এসেছে। সেজন্য আজকের আলোচনায় আমরা মূলত এ বিষয়ে কিছু বক্তব্য রাখবো। বাস্তব ক্ষেত্রে কিভাবে আপনি আপনার অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগ করবেন? কারণ, তাওহীদের শিক্ষা দেয়ার সময় আমরা এ বিষয়ে লিখিত বইয়ের মাধ্যমেই শিক্ষা দিয়ে থাকি, ব্যবহারিক পদ্ধিতে নয়। আর এতে আমরা অনুসরণ করি সেই বিজ্ঞ আলেমগণের—যারা স্বীয় গ্রন্থ রচনা করেছেন পবিত্র কুরআনের উপর ভিত্তি করে। কুরআনের আলোকেই তারা তাওহীদের বাস্তব প্রয়োগ দেখানোর চেষ্টা করেছেন। অতপর প্রায়োগিক ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। আর আমরাও তাওহীদের শিক্ষা লাভ করছি ব্যবহারিক জীবনে তা প্রয়োগ করার লক্ষ্যে। জ্ঞান শুধু মগজে ধারনের জন্য নয়। আমরা কোনো কিছুর শিক্ষা দিই এ কারনে—যেন আপনারা সে শিক্ষাকে হৃদয়ঙ্গম করে তা বাস্তব ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন। মূলত বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগই হল জ্ঞানের মূল নির্যাস। একজন সাধারণ মানুষ দ্বীন সম্পর্কিত অর্জিত জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকতেই পারে। কিন্তু একজন জ্ঞান-পিপাসু আলেম যদি অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মতো আচরন করেন, তবে তা তার চরিত্রের অযোগ্যতাকেই ফুটিয়ে তোলে। আর এ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে কোথা থেকে শুরু করবো তা আমি সত্যিই জানিনা। সম্মানিত এই মুসলিম উম্মাহ যখন সীমাহীন লাঞ্ছনার শিকার, তখন কেউ কিভাবে বিশ্রাম নিতে পারে? তার খাবার ও পানীয় উপভোগ করতে পারে? কেউ কিভাবে তার সন্তানের সাথে খেলাধুলায় মত্ত থাকতে পারে? কিভাবে কেউ হাসি-আনন্দমুখর দুশ্চিন্তাহীন জীবনযাপন করতে পারে? আমি আপনাদের ইতিহাসের দিকে একটু দৃষ্টি ফেরানোর অনুরোধ করবো। সেই উম্মাহর কথা একবার ভাবুন—যে উম্মাহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ উম্মাহ। যাদের রয়েছে একটি সোনালী অতীত।
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُم مِّنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ.
“তোমরাই (ঈমানদার, মু’মিন, তাওহিদের বাণীতে যাদের অন্তর পরিপূর্ণ এবং যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রকৃত অনুসারী) হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর আহলে-কিতাবরা যদি ঈমান আনত, তাহলে তা তাদের জন্য মঙ্গলকর হত। তাদের মধ্যে কিছু তো রয়েছে ঈমানদার আর অধিকাংশই হলো পাপাচারী।” (সুরা আলে-ইমরান : ১১০)
এ উম্মাহর ইতিহাস হচ্ছে সমাজে নেতৃত্ব দেওয়ার ইতিহাস। এ উম্মাহর ইতিহাস হচ্ছে অর্ধ-দুনিয়া শাসনের ইতিহাস। এ উম্মাহর ইতিহাস হচ্ছে সমাজ সংস্কারের ইতিহাস; মানবজাতিকে অন্ধকার অমানিষা থেকে আলোর পথে চালিত করার ইতিহাস। এ সেই উম্মাহ, যে উম্মাহ কখনও কারও অন্যায়-অত্যাচার কিংবা সীমালঙ্ঘন সহ্য করে না। (আমরা অনেকেই বলি) নির্যাতিত হোক সে, তাদের জিম্মায় থাকা কোন অমুসলিম অথবা কোন মুসলিম কিংবা নারী—এই হচ্ছে আমাদের মুসলিম উম্মাহর বৈশিষ্ট্য, যার কথা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কুরআনে উল্লেখ করেছেন,
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرجَتْ للنَّاس.
“তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে।”
এই সেই উম্মাহ, যে অজ্ঞতার ধূসর মরুভূমি থেকে জন্ম দিয়েছে মানবতার স্বপ্নপুরির। এই উম্মাহ মানজাতিকে মুক্তি দিয়েছে জাহেলিয়্যাতের অন্ধকার অমানিশার কবল থেকে। সামাজিক কলুষতার কবল থেকে রক্ষা করে মানবজাতিকে নিয়ে গিয়েছে ন্যায়বিচার, সম-অধিকার এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’-এর পতাকাতলে। ইসলামের আলোকিত অতীতের পানে মনোনিবেশ করলে আপনারা কি তা দেখতে পান?
চলবে ইনশা আল্লাহ...।

....
বই : ফুল হয়ে ফোটো
মূল : শাইখ আহমাদ মুসা জিবরীল ও মোহাম্মাদ হোবলস
মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৪০
প্রকাশনায় : Pothik prokashon

ছোটদের ইমান সিরিজ ▫ লেখকঃ সমর্পন টিম 




#ঈমান_সিরিজ_প্রিভিউ_প্রতিযোগিতা

বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

ছোটরা গল্পপ্রিয়। সবারই শৈশব কাটে গল্প শুনে ও গল্প পড়ে। তবে সাধারণতই এই গল্প জুড়ে থাকে দৈত্য-দানব, রাজা-রানি, জাদুর বুড়ি- রুপকথার আরো কত কি। শিশুমনে কত চিন্তার উদ্রেকই না হয়! চিন্তাগুলো ঘিরে থাকে এসব অর্থহীন রুপকথার গল্পের চরিত্রে। 

যেমন আমরা যখন ছোটবেলায় সুপারম্যান নিয়ে পড়তাম তখন ভাবতাম, "আমি যদি সুপারম্যান হতাম?"। যখন পড়তাম হ্যারি পটারের গল্প তখন ভাবতাম, "ইস! আমিও যদি জাদু করতে পারতাম"। আমাদের চিন্তা আটকে থাকতো এই কাল্পনিক সুপারম্যান, দৈত্য-দানব, হ্যারি পটারদের মাঝে।

এই অর্থহীন গল্পগুলো থেকে কোনো সুশিক্ষা পাওয়া যায় না ঠিকই, হয়ত কিছু বিনোদন পাওয়া যায়। কিন্তু এই বিনোদনের আড়ালে থাকে ইমান ধ্বংসাত্মক, ভ্রান্ত শিক্ষা। যা ধীরে ধীরে চারা বপন করে হৃদয়ে। এই ভ্রান্তির চারা থেকে একসময় ভ্রান্তির ফল হয়। যে ফল তিক্ত এবং কটু!

কিন্তু কেমন হয়? যদি ছোট থেকেই সোনামণিদের জানানো হয়, আমাদের রব কে? কে এই মহাবিশ্বের প্রতিপালক? কার হাতে জীবন-মৃত্যু? কুরআন কার বাণী? নবী-রাসূল কারা? ফেরেশতারা কারা? আখিরাতে কি হবে? তাকদ্বীর কী? ইমান কি? 

অর্থহীন কাল্পনিক গল্পের জায়গায় যদি থাকে গল্পে গল্পে তাওহীদের শিক্ষা? যা নিয়ে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া ছেড়ে যেতে হবে তা নিয়েই যদি কাটে সোনামণিদের শৈশব? যদি শৈশব থেকেই তারা বেড়ে উঠতে পারে দ্বীন ইসলামের শিক্ষা নিয়ে? চারাগুলো যদি হয় ইমান ও আল্লাহভীরুতা বা তাক্বওয়ার? -তাহলে চিন্তা করুন তার ফল কতই না সুমিষ্ট হবে!

◽কতইনা সুন্দর করে বলেছিলেন ইমাম ইবন আল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ),

"সবার হৃদয়ের স্বাভাবিক অবস্থাই হচ্ছে উর্বর, এতে যা বপন করা হয় তাই সহজে বেড়ে উঠে। যদি ইমান এবং আল্লাহভীরুতা বা তাক্বওয়ার চারা এতে রোপণ করা হয়, তবে তা এমন সুমিষ্ট ফল দান করবে যা হবে চিরন্তন। আর যদি অজ্ঞতা এবং কামনা-বাসনার চারা রোপণ করা হয় তাহলে তার ফল হবে তিক্ত এবং কটু" [আল-ফাওয়াইদ,পৃঃ৭০]

সোনামণিদের মাঝে গল্পে গল্পে সেই সত্যের চারা রোপণ করার জন্যই "সমর্পণ টিম" নিয়ে আসছে কুরআন, হাদীস কিংবা তাফসীর গ্রন্থের আলোকে "ছোটদের ইমান সিরিজ"। যেখানে থাকছে ইমানের মৌলিক বিষয় নিয়ে ছোট ছোট গল্পে সাজানো মোট ছয়টি বই। 

◾চলুন জেনে আসি বইগুলো সম্পর্কে,

▫ বইঃ ছোটদের ইমান সিরিজ


▫ লেখকঃ সমর্পন টিম 



▫ শারঈ সম্পাদকঃ শাইখ আবদুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ (হাফিঃ)

▫ প্রকাশনীঃ সমর্পন প্রকাশন

▫ মোট বইঃ ৬ টি [ ১.আল্লাহ আমার রব ২. ফেরেশতারা নূরের তৈরি ৩.আসমান থেকে এলো কিতাব ৪.দুনিয়ার বুকে নবি রাসূল ৫.বিচার হবে আখিরাতে ৬.তাকদীর আল্লাহর কাছে ]

▫ প্রতি বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৩৬ পৃষ্ঠা

▫ ছাপাঃ ৪ কালার (আর্টপেপার)

▫ বইয়ের সাইজঃ ৮ X ৯ ইঞ্চি

🔸"আল্লাহ আমার রব" বইয়ে-

'কে তোমার রব?' গল্পে সোনামণিরা জানতে পারবে, মানুষের হাতে তৈরি মূর্তি কখনো কারো রব হতে পারে না, তেমন হতে পারে না চন্দ্র-সূর্যও কারো রব। বরং রবতো তিনি যিনি হলেন চন্দ্র-সূর্যের সৃষ্টিকর্তা, যিনি এই মহাবিশ্বের প্রতিপালক। আর তিনিই হলেন আমাদের সকলের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ সুবাহানওয়াতা'য়ালা।

'আল্লাহ আমার রব' গল্পে সোনামণিরা জানতে পারবে, এক কিশোরের দু'য়া কবুলের কথা। জানতে পারবে তার ছিল আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস, যে বিশ্বাস অটল ছিল মৃত্যুর মুখেও। আরো জানতে পারবে, আল্লাহর হুকুম ছাড়া এই দুনিয়ায় কিছুই হয় না। আল্লাহর হুকুমেই আমরা মারা যাই। আল্লাহর হুকুমেই আমরা বেঁচে থাকি। জীবন-মৃত্যু সবই আল্লাহর হাতে৷ তিনিই সবকিছুর মালিক। চন্দ্র-সূর্য, গাছ-পালা, নদী-নালা, জ্বীন-ইনসান সবকিছুর মালিক তিনি। আমরা হলাম তার দাস তাই আমরা তার হুকুম মানতে বাধ্য।

'অচেনা অতিথি' গল্পে সোনামণিরা জানতে পারবে, কিভাবে ফেরেশতা জিবরীল (আঃ) মানুষের রুপে এসে দ্বীন শিখিয়ে গেলেন। কিভাবে তিনি ইসলাম সম্পর্কে ও ইমানের ছয়টি মৌলিক বিষয় সম্পর্কে জানালেন! যেগুলো বিশ্বাস করা ব্যাতিত মুসলিম হওয়া যায় না!

🔸"আসমান থেকে এলো কিতাব" বইয়ে- 

'জিবরীল এলেন ওহি নিয়ে' গল্পে সোনামণিরা জানতে পারবে, কিভাবে মুহাম্মদ (ﷺ) এর উপর কুরআন নাজিল হলো। কিভাবে মুহাম্মদ (ﷺ) কে জিবরীল (আঃ) কুরআন শিক্ষা দিলেন। কিভাবে মুহাম্মদ (ﷺ) তার নবুয়াতের কথা জানতে পারলেন -সেই গল্প। 

'শুনলে কুরআন জুড়ায় প্রাণ' গল্পে সোনামণিরা জানতে পারবে, যে উমার (রাযিঃ) মুহাম্মদ (ﷺ) কে মারার জন্য খোলা তলোয়ার হাতে নিয়ে বেরিয়েছিল তিনি কিভাবে সূরা ত্ব-হা পড়ে বদলে গেলেন। কিভাবে কুরআন তার হৃদয় জুড়িয়ে দিল। কিভাবে তিনি ইসলাম কবুল করলেন -সেই গল্প।

 এরকম সুন্দর সুন্দর গল্পে সাজানো "ছোটদের ইমান সিরিজ" যা নিয়ে আসছে "সমর্পন প্রকাশনী"। বইগুলোর প্রচ্ছদ এবং পাতা খুবই দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয়। বইগুলো দেখতে খুবই চমৎকার। সুতরাং বলাই যায় ছোট সোনামণিরা বইগুলো পেয়ে খুব আগ্রহের সাথেই পড়বে। 

চলুননা ছোট সোনামণিদের উর্বর হৃদয়ে বপন করি ইমান এবং তাক্বওয়ার চারা.................

সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ হৃদয়ের বাদশাহ ১ম খন্ড লেখক : ড. রাশীদ হাইলামায, ফাতিহ হারপসি



#বুক_রিভিউ

সীরাত নিয়ে অনেকেই অনেক বই পড়ে থাকেন।কিন্তু "মুহাম্মাদ হৃদয়ের বাদশাহ" বই সত্যিই অন্যরকম লেগেছে। চমৎকার ভাষাশৈলী ও প্রত্যকটি বিষয় কে এতো সুন্দর ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন যে এই বইটি যেকোন পাঠকের হৃদয় ছুয়ে যাবে।

🎋লেখক পরিচিতঃএই কিতাবটি মূলত তার্কিস ভাষায় লিখা যার মূল লেখক ড. রাশীদ হাইলামায যার লিখিত আরো দুইটি গ্রন্থ মাকতাবাতুল ফুরকান থেকে প্রকাশিত হয় এবং পাঠক সমাদ্রীত হয়। ড. রাশীদ হাইলামায- যিনি একজন ইসলামী গবেষক ও সীরাত লেখক, তাঁর সাথে কিতাবটিতে রচনায় কাজ করেন ফাতিহ হারপসি যিনি তুরস্কের মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়,ইস্তাম্বুল থেকে গ্রাজুয়েশন করেন এবং ফিলাডেলফিয়ারের টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব রিলিজিয়ন থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। ২০০৬ সালে কিতাবটি তার্কিস ভাষায় প্রকাশ হওয়ার পর গ্রন্থটি পাঠক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে এমনকি তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বইয়ের তালিকায় গ্রন্থটি স্থান লাভ করে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে আমেরিকার নিউজার্সির ‘তুগরা বুকস পাবলিকেশন’ থেকে উক্ত গ্রন্থটি অনূবাদিত হয়ে ”Sultan of Hearts: Prophet Muhammad” নামে ২ খন্ডে প্রকাশিত হয় যা এখনো এমাজন বুক স্টোরে রয়েছে। অনূদিত ইংরেজি সংস্করণ থেকেই বাংলা অনূবাদ করা হয়ঃ সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সাঃ) হৃদয়ের বাদশাহ। বাংলা অনূবাদ করেন মুহাম্মদ আদম আলী যিনি মাকতাবাতুল ফুরকানের প্রকাশক এবং এর আগেও ড. রাশীদ হাইলামায এর দুটি বই তিনিই অনুবাদ করেন যা উলামায়ে কেরামসহ সকল শ্রেণির পাঠকের কাছে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়।


🎋অনুপম লেখনীর বইটি সীরাত জগতে এক নতুন ধারা উন্মোচন করেছে।সীরাত গ্রন্থটি প্রারম্ভিকেই বইটি সম্পর্কে পাঠককে এমন একটা ধারনা দিয়েছে, যা গ্রন্থ অন্তর্নিহিত আলোচনার সারসংক্ষেপ। এবং পরবর্তীতে সূচী পত্র। গ্রন্থটি মূলত তিঁতত্রিশ টি পরিচ্ছেদ নিয়ে ঘটনা গুলো আলোকপাত করা হয়েছে। প্রতিটি বিষয় পয়েন্ট আকারে আলোচনা করায় বিষয় গুলো পাঠকের নিকট আলাদা আলাদা ভাবে উপস্থাপিত হয়।এতে পঠন সহজবোধ্য।
গ্রন্থটিতে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামে "বাক্কা উপত্যকার প্রতিধ্বনি” আর ”ইব্রাহিম আঃ-এর দুআ” দিয়ে এক আখেরী নবী এ আগমনের সংবাদ দিয়ে শুরু করা হয়েছে।সংক্ষিপ্ত ভাবে আদম আঃ থেকে শুরু করে মূসা (আ:) এর তূর পাহাড়ের ঘটনা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর্বিভাবের আগে সেসময়ের ধর্মযাজক বা পন্ডিতদের ভবিষ্যতবানী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর আরিয়ান ও আবরাহা এর শাসন আমল হস্তিবাহিনীর ঘটনা ইত্যাদী সহজ সাবলীল ভাষায় আলোকপাত করা হয়েছে।
রাসূল সাঃ এর শৈশব হতে কৈশর কিকরে কাটলো।দুধমাতা হলিমা হতে আবু তালিবের সহোদরে এবং খাদিজা রাঃ পর্যন্ত বিষয় গুলো সুক্ষ্ম ভালো তুলে ধরা হয়েছে।রাসূল সাঃএর মক্কায় ব্যবসায়, বিবাহ, জাহেলী যুগের ঘটনা ও রাসূল সাঃ এর মক্কা জীবন সমূহ আলোচনা করা হয়েছে। নবুওয়াতের পূর্বে এবং পরে মক্কার পরিবেশ,মক্কাবাসীদের নিকট কালেমার দাওয়াত,অবিশ্বাসীদের অমানবিক নির্যাতন, অনাহারে জীবন-যাপন।এরপর আল্লাহর নির্দেশে দারুল আরকাম,আবিসিনিয়া,মদীনায় হিজরত ও হিজরতকালীন নানা বিপদ মুসিবত গুলো এমন ভাবে আলোকপাত করা হয়েছে যে,কল্পনায় সেই সময় গুলো চক্ষুদয়ে ভেসে বেড়াবে। এর পরবর্তীতে ইরসা ও মিরাজের ঘটনাবলী।এভাবেই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার রচনা হল।প্রতিটি ঘটনা এমন ভাবে আলোচনা করা হয়েছে যে,পাঠকের নিকট সবচেয়ে সহজবোধ্য।
 

🎋বইটির প্রচ্ছদ উন্নতমানের প্রিন্টিং,হার্ডকভারের বাইন্ডিং এবং পাতা গুলো সুন্দর ভাবে সাজানো।পাঠকের অধ্যয়ের সুবিধার্থে লেখক প্রতিটি ঘটনা সুস্পষ্ট ও সহজ সাবলীল করে সাজিয়েছেন। এখানে ঘটনা বর্ণনায় এমন এক অভিব্যক্তি ব্যবহার করা হয়েছে—যা পাঠককে আলোড়িত করে, চিন্তায় নিমগ্ন করে এবং সামনে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করে। এজন্য গতিশীল পাঠের নিমিত্তে প্রতিটি ঘটনায়-ই সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। কেবল সেইসব ঘটনার ক্ষেত্রে ফুটনোট ব্যবহার করা হয়েছে—যা প্রসিদ্ধ সিরাতগ্রন্থে বিস্তারিতভাবে উল্লেখিত হয়নি। প্রথম খণ্ডে নবিজি ﷺ-র জন্ম থেকে নিয়ে ইসরা-মেরাজ পর্যন্ত আলোচিত হয়েছে। আশা করি, পাঠকগণ এ গ্রন্থে রাসূল ﷺ-এর জীবনী সম্পর্কে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা লাভ করবে।

বই:সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ হৃদয়ের বাদশাহ ১ম খন্ড
লেখক : ড. রাশীদ হাইলামায, ফাতিহ হারপসি
প্রকাশনী : মাকতাবাতুল ফুরকান
ইংরেজি অনুবাদঃ নাযিহান হালিলৌলু
বিষয় : সীরাতে রাসূল | সা. |
অনুবাদ: মুহাম্মাদ আদম আলী
প্রথম প্রকাশঃ জুলাই ২০১৯ ইং
পৃষ্ঠা: ৪৯৬
মুদ্রিত মূল্য : ৮০০

#বইকেন্দ্র_ফুরকান_রিভিউ_প্রতিযোগিতা_অক্টোবর_২০১৯
.

তাম্বীহুল গাফিলীন ( পথহারাদের পথের দিশা )  রচনাঃইমাম আবুল লাইস নসর বিন মুহাম্মাদ হানাফী সমরকন্দী রহ .



#তাম্বীহুল_গাফিলীন_বই_পরিচিতি
যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ের পরিশুদ্ধি ও আত্মার খােরাক হিসেবে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়ে আসছে কালজয়ী এই কিতাবটি । এর পূর্ণ নাম : “ তাম্বীহুল গাফিলীন | আহাদীসি সাইয়্যিদিল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন ” । ' নাম থেকে স্পষ্টই বােঝা যায় যে , এটি হাদীসভি ত্তিক একটি নসীহতের কিতাব । ইমাম সমরকন্দী রহ . এই কিতাবের প্রতিটি অধ্যায়ে এত বিশাল পরিমাণ হাদীস ও আছার সংকলন করেছেন , যা । প্রতিটি পাঠকের কাছে হাদীসশাস্ত্রে তার সমুদ্রসম । জ্ঞানের পরিচয় করিয়ে দেয় । এর অসাধারণ ইলমী ও জ্ঞানগত মর্যাদার আরাে একটি কারণ , এটি কোরআনুল কারীমের বিষয়ভিত্তিক আয়াতের তাফসীরে পরিপূর্ণ । ইলমে তাফসীরেও যে ফকীহ আবুল লাইস র . অতুলনীয় প্রতিভা ছিলেন , এটি তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ । । এই কিতাবে তিনি আলােচনা করেছেন - আমলের এখলাস , মৃত্যু ও মৃত্যুযন্ত্রণা , কবর ও কবরজগতের ভয়াবহ অবস্থাসমূহ , জান্নাত ও এর নেয়ামতসমূহ , জাহান্নাম ও এর শাস্তিসমূহ ইত্যাদি বিষয়ে । একইভাবে তিনি মানুষকে তাম্বীহ ( সতর্ক ) করেছেন পবিত্রতা , ভালােভাবে ওযু করা , নামাযের মধ্যে খুশু - খুযু অর্জন , রােযায় এখলাস বজায় রাখা , যাকাত প্রদানে সচেতনতা , ফরজ হজ্জ আদায়ে সচেষ্ট হওয়া , জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ - এ অংশগ্রহণ । করা ইত্যাদি আমলের প্রতি । বহু হৃদয়ের বদ্ধ দুয়ার খুলে দিয়েছে এই কিতাবটি । বহু পথহারা মানুষের পথের দিশা হয়েছে এই গ্রন্থটি । আমলী ' যিন্দেগী গঠনের দুর্লভ পাথেয় রয়েছে এই ইতিহাস খ্যাত গ্রন্থটিতে । ।

#লেখক_পরিচিতি
তাম্বীহুল গাফিলীন কিতাবের লেখক ইমাম নসর বিন । মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম আবুল লাইস । সমরকন্দী রহ . ছিলেন একাধারে একজন বরেণ্য । ফকীহ , মুহাদ্দিস ও আবেদ - যাহেদ ব্যক্তিত্ব । তাঁর উপাধী ছিল ‘ ইমামুল হুদা ' । বহু প্রসিদ্ধ ও কালজয়ী । গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন তিনি । ইমাম আবু জাফর । হিন্দাওয়ানী বলখী ( মু . ৩৬২ হি . ) - এর কাছে তিনি । ইলমে ফিকহ হাসিল করেন , যিনি তাঁর অনুপম । ফিকহী দক্ষতার কারণে “ আবু হানীফা আস - সগীর ” । নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন । হাদীসের ইলম গ্রহণ করেন । ইমাম মুহাম্মাদ বিন ফযল বিন আনীফ আল - বুখারী ’ র । কাছে । আল্লামা সমরকন্দী ’ র শিষ্যত্ব লাভ করেন । যারা , তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিশিষ্ট মুহাদ্দিস । ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহীম । আত - তিরমিযী ( রাহিমাহুমুল্লাহ ) । তিনি জীবনভর অক্লান্ত - অবিশ্রান্তভাবে কোরআনুল । কারীম , তাফসীর , ফিকহ ও উসূলে ফিকহ , ইসলামী আকিদা - বিশ্বাস ও সংশ্লিষ্ট ইলমসমূহ শেখা ও । শেখানাে , মহৎ ব্যক্তিদের জীবনী সংগ্রহ ইত্যাদি । মহকর্মে ব্রতী ছিলেন । তাঁর মূল্যবান সেসব রচনাব লীর মধ্যে উল্লেখযােগ্য হচ্ছে : তাফসীরুল কুরআনিল । কারীম , উমদাতুল আকায়েদ , বুসতানুল আরিফীন , তাম্বীহুল গাফেলীন , উক্বাতু আহলিল কাবাইর , । মুখতালিফুর রিওয়ায়াহ , শিরআতুল ইসলাম , খাযান তুল ফিকহ , রিসালাহ ফী উসূলিদ দীন , শারহুল । জামিয়িস সগীর , উয়ুনুল মাসাইল , দাকায়িকুল আখবার , মুখতালিফুর রিওয়ায়াহ , আন - নাওয়াযিল ।
ইত্যাদি । তিনি তার বক্তব্য ও বিশাল রচনাভাণ্ডারের মাধ্যমে । মানুষের কাছে দীনের আহ্বান পৌঁছে দিয়েছেন । ।
দীনী নসীহতের কিতাব রচনার ইতিহাসে তিনি । ছিলেন পথিকৃৎ এর ভূমিকায় । এ - ময়দানের বহু ।
বিখ্যাত ব্যক্তিদের আকাবিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন । তিনি ।
যেমন : ইমাম আবু তালিব মাক্কী ( ৩৮৬ হি . ) , ইমাম গাজালী ( ৫০৫ হি . ) , ইমাম ইবনুল জাওযী ।
( ৫৯৭ হি . ) , ইমাম কুরতুবী ( ৬৭১ হি . ) , ইমাম ইবনে ।
রজব হাম্বলী ( ৭৯৫ হি . ) প্রমুখ ।

বইঃতাম্বীহুল গাফিলীন ( পথহারাদের পথের দিশা )
রচনাঃইমাম আবুল লাইস নসর বিন মুহাম্মাদ হানাফী সমরকন্দী রহ . ( ইন্তিকাল : ৩৭৫ হিজরী )
অনুবাদঃ মুফতী মুহাম্মাদ আল - আমিন নূরী ফাযেল , দারুল উলূম
মুঈনুল ইসলাম , হাটহাজারী ( আরবী বিশ্ববিদ্যালয় ) চট্টগ্রাম । সম্পাদনাঃ মাওলানা নুরুল হাসান ইবনে মুখতার মুতাখাসসিস ফিল ফিকহি ওয়াল হাদীস
প্রকাশনায়ঃ আনােয়ার লাইব্রেরী
মূল্যঃ ৳৮০০ টাকা

🖱 যেভাবে অর্ডার করবেনঃ
আপনার নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে মেসেজ করুন।
আমাদের পেইজে
মেসেঞ্জারে- m.me/kureghor.com.bd
অথবা কল করুন ☎ 01918889116

 দৃষ্টি শয়তানের বিষাক্ত তির লেখক: শাইখ আব্দুল মালিক আল কাসিম



বই: দৃষ্টি শয়তানের বিষাক্ত তির
লেখক: শাইখ আব্দুল মালিক আল কাসিম
অনুবাদ ও সম্পাদনা: হাসান মাসরুর
প্রকাশক: মুফতি ইউনুস মাহবুব
প্রকাশনী: রুহামা পাবলিকেশন
মোট পৃষ্ঠা: ৮৮
মুদ্রিত মূল্য: ১১২ টাকা

নৈতিক চরিত্রের অধঃপতন শুরু হয় দৃষ্টির মাধ্যমে। যিনার সূত্রপাত ঘটে দৃষ্টির মাধ্যমে। যেখানে অপরাধের সূত্রপাত, সেখানেই একজন মুমিনকে আটকিয়ে দিতে চায় ইসলাম। এজন্য শরীয়াত কোনো নারীর দিকে ইচ্ছাকৃত অপ্রয়োজনীয় দৃষ্টিপাতকে জায়েয রাখে নি। কেউ যদি প্রশ্ন করে যে বর্তমান যুব সমাজের ধ্বংসের প্রথম কারণ কী, তাহলে নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে, সেটি হল নারীর ফিতনা। আর এ ফিতনা থেকে নিজেকে দূরে রাখার প্রধান উপায় হচ্ছে দৃষ্টিকে সংযত রাখা।

খারাপ দৃষ্টির কুফলসমূহ, দৃষ্টি সংক্রান্ত শরীয়াতের দিকনির্দেশনা, দৃষ্টি সংযত রাখার উপায় ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা বর্তমানে প্রতিটি মুসলিম যুবকের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করি। এক্ষেত্রে শাইখ আব্দুল মালিক আল কাসিম সাহেবের 'দৃষ্টি শয়তানের বিষাক্ত তির' বইটি অত্যন্ত উপযোগী বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।

☆লেখক পরিচিতি (প্রকাশনীর পেজ থেকে সংগৃহীত)
--------------------------------------------------------------------
ড. শাইখ আব্দুল মালিক আল-কাসিম। আরব-বিশ্বের খ্যাতনামা লেখক, গবেষক ও দায়ি। জন্মেছেন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ১২০ কি.মি. উত্তরে অবস্থিত ‘বীর’ নগরীতে—বিখ্যাত আসিম বংশের কাসিম গোত্রে। তাবলিগে দ্বীন ও ইলমে নববির চর্চা ও প্রসারে এই গোত্রের ব্যাপক অবদান রয়েছে। তাঁর দাদা শাইখ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন কাসিম আল-আসিমি আন-নাজদি রহ. ছিলেন হাম্বলি মাজহাবের প্রখ্যাত ফকিহ। শাইখ আব্দুল মালিক আল-কাসিম সাহেবের পিতা শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান রহ.-ও ছিলেন আরবের যশস্বী আলেম ও বহু গ্রন্থপ্রণেতা।

শাইখ আব্দুল মালিক আল-কাসিম জন্ম সূত্রেই পেয়েছিলেন প্রখর মেধা, তীক্ষ্ণ প্রতিভা আর ইলম অর্জনের অদম্য স্পৃহা। পরিবারের ইলমি পরিবেশে নিখুঁত তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠেছেন খ্যাতনামা এই লেখক। আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ করে আত্মনিয়োগ করেন লেখালেখিতে—গড়ে তোলেন ‘দারুল কাসিম লিন নাশরি ওয়াত তাওজি’ নামের এক প্রকাশনা সংস্থা। প্রচার-বিমুখ এই শাইখ একে একে উম্মাহকে উপহার দেন সত্তরটিরও অধিক অমূল্য গ্রন্থ। তাযকিয়াহ ও আত্মশুদ্ধি বিষয়ক বাইশটি মূল্যবান বইয়ের সম্মিলনে পাঁচ ভলিউমে প্রকাশিত তাঁর ‘আইনা নাহনু মিন হা-উলা’ (সালাফের পথ ছেড়ে কোথায় আমরা?) নামের সিরিজটি পড়ে উপকৃত হয়েছে লাখো মানুষ। উর্দু, পশতু, তুর্কি, বাংলা ও ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এই সিরিজের অনেকগুলো বই। ‘আজ-জামানুল কাদিম’ নামে তিন খণ্ডে প্রকাশিত তার বিখ্যাত গল্প-সংকলনটিও আরব-বিশ্বে বেশ জনপ্রিয়। সাধারণ মানুষের জন্য তিনি প্রাঞ্জল ভাষায় ছয় খণ্ডে রচনা করেছেন রিয়াজুস সালিহীনের চমৎকার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এছাড়াও তাঁর কুরআন শরিফের শেষ দশ পারার তাফসিরটিও বেশ সমাদৃত হয়েছে।

☆বইটিতে যেসব বিষয় আলোচিত হয়েছে:
-------------------------------------------------------
¤প্রবেশিকা:
   দৃষ্টিশক্তি কখন সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামাত আর কখন ধ্বংসের কারণ, এ নিয়ামাতের ব্যাপারে শরীয়াতের দিকনির্দেশনা কী, দৃষ্টির ব্যাপারে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হয়েছে।

¤অবৈধ স্থানে দৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ফিতনা ও ক্ষতিসমূহ:
   হারাম দৃষ্টিপাতের ফলে কী কী ফিতনা-ফাসাদ ও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়- এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে বইটিতে।
 
¤দৃষ্টি সংযত করার প্রতি পরস্পরকে উপদেশ দানের ক্ষেত্রে আমাদের সালাফগণ:
   সুফিয়ান সাওরী রহ., ইবনে সিরিন রহ., আমর বিন মুররাহ রহ., হাসসান বিন আবু সিনান রহ., আবু দারদা রা., ইসা আ., দাউদ আ., ইয়াহইয়া আ., ফুজাইল রহ., ইয়াহইয়া বিন মুআজ রহ., দাউদ তায়ি রহ., আহমাদ রহ. প্রমুখ সালাফগণের বিভিন্ন বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে।

¤বনি ইসরাইলের জনৈক আবিদের ঘটনা:
   •অবৈধ দৃষ্টিপাত কিভাবে একজন আবিদকে যিনা, হত্যা, মিথ্যাবাদিতা, কুফরী প্রভৃতি জঘন্য পাপে লিপ্ত করল, এমন একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।
   •অন্যান্য হদের তুলনায় যিনার হদের তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।
 
¤দ্বিতীয়বার দৃষ্টিপাত:
   অনেকেই মনে করে যে দ্বিতীয়বার দৃষ্টিপাত করা দোষের কিছু না, এতে প্রথম দৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আগুন নিভে যায়। তাদের এ ধারণা যে ভুল এবং দ্বিতীয় দৃষ্টি যে অবৈধ, এ ব্যাপারে ইমাম ইবনুল কাইয়িম আল-জাওজিয়্যাহ দশটি কারণ উল্লেখ করেছেন। সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে এখানে।

¤গাইরে মাহরাম নারীর প্রতি দৃষ্টিপাতের বৈধ ক্ষেত্র:
   কোন কোন ক্ষেত্রে বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেয়া যাবে এবং তার সীমারেখা কতটুকু, এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দেবরের সাথে পর্দা, এক নারী কর্তৃক অপর নারীর দৈহিক বর্ণনা উপস্থাপনের অবৈধতা ইত্যাদি বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে।

¤আল্লাহভীতির তিনটি স্তর:
   তাকওয়া বা আল্লাহভীতির তিনটি স্তর সম্পর্ক সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে।

¤দৃষ্টি সংযত রাখার উপকারিতা:
   •দৃষ্টি সংযত রাখার মোট দশটি উপকার বর্ণনা করা হয়েছে।
   •বিয়ের উপকারিতা সম্পর্কে রাসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের কিছু বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে।
   •আহমাদ বিন হাম্বল রহ. বিয়ের ক্ষেত্রে কেমন মেয়েকে পছন্দ করেছিলেন সে ঘটনা এবং ইবনে তাউস রহ.-এর একটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে সংক্ষেপে।
   •এতিম মেয়েকে বিয়ে করার উপকারিতা, উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব ইত্যাদি বিষয়েও সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে।
   •ইসলামের প্রাথমিক যুগের কিছু ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে যার মাধ্যমে সালাফদের দুনিয়াবিমুখতা, ইনসাফ, তাকওয়া প্রভৃত গুণাবলি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। উমর রা. ও সাইদ বিন আমির-এর ঘটনা থেকে প্রমাণ পেয়েছি দুনিয়াবিমুখতার। মুআজ বিন জাবাল রা.-এর ঘটনা থেকে জানতে পেরেছি যে তিনি কিভাবে তাঁর একাধিক স্ত্রীর মাঝে ইনসাফ কায়েম করেছিলেন। আরো জানতে পেরেছি যে একজন সালাফ তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পরও কিভাবে তার সম্মানের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। হাসসান বিন আবি সিনানের ঘটনা থেকে জানা যায় যে কিভাবে তিনি একজন মুসলিম বোনের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য সম্পদ ব্যয় করেছিলেন।

¤তবুও প্ররোচিত হন নি:
   এ শিরোনামের অধীনে দুটা ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। রবি বিন খুসাইমকে ফিতনায় ফেলার জন্য কিছু লোক এক সুন্দরী নারীকে দায়িত্ব দেয় ও তার জন্য এক হাজার দিরহাম ঘোষণা করে। এরপর কী কী হল সেটা তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। আরেকটি ছোট্ট ঘটনা আছে এক আল্লাহর বান্দা সম্পর্কে।

¤ঘরে প্রবেশ করার সময় অনুমতি গ্রহণের কারণ:
   কারো ঘরে প্রবেশের সময় কেন অনুমতি নিতে হবে, কেউ বিনা অনুমতিতে ঘরে প্রবেশ করলে কী হবে ইত্যাদি বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।

¤জনৈক কসাইয়ের বাসনা এবং তাওবা:
   এক কসাই তার প্রতিবেশী এক মেয়ের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল। এরপর কেন সে তওবা করল, তওবার পর দুনিয়াতেই সে কিভাবে এর ফলাফল দেখতে পেল- এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে উক্ত ঘটনায়।

¤উবাইদ বিন উমাইরের নিকট এক সুন্দরী মহিলার আগমন:
   একজন সুন্দরী নারী তার স্বামীকে বলল, "আপনি কি এমন কাউকে চিনেন, যে আমার এই সুন্দর চেহারা দেখেও ফিতনায় পড়বে না?" স্বামী বলল, "হ্যাঁ"। স্ত্রী বলল, "সে কে"? স্বামী বলল, "উবাইদ বিন উমাইর"। স্ত্রী বলল, "আপনি আমাকে অনুমতি দিন। আমি তাকে ফিতনায় জড়াব।" স্বামী বলল, "অনুমতি দিলাম।"

এর পর কী কী ঘটল সে সম্পর্কে বর্ণিত আছে বইটিতে।

¤আরো কিছু ঘটনা:
   কুদৃষ্টির কারণে কিভাবে কিছু মানুষের শেষ পরিণতি খারাপ হয়েছিল, মৃত্যুর সময় তাদের কী অবস্থা হয়েছিল- এ সম্পর্কে কিছু ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। এদের কেউ কেউ ঈমানহারাই হয়ে গিয়েছিল শুধুমাত্র দৃষ্টি সংক্রান্ত ফিতনার কারণে।

¤ছুটে আসো আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে:
   তওবার গুরুত্ব, মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের ক্ষমাশীলতা ও দয়া, গুনাহ হয়ে যাওয়ার পর মুমিনদের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বইটি শেষ হয়েছে লেখকের কয়েক লাইনের দরদমাখা উপদেশ ও দুআর মাধ্যমে।

☆বইটা থেকে কিছু উদ্ধৃতি:
----------------------------------
   "তুমি যখন এটা পছন্দ করো না যে, তোমাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করে- এমন কেউ তোমাকে গুনাহ করতে দেখুক, তাহলে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, তোমাকে রিজিক দেন এবং যাঁর হাতে এই পৃথিবীর রাজত্ব, তাঁর সামনে কিভাবে গুনাহ করা পছন্দ করো? কীসের ভিত্তিতে তুমি তাঁকে রাগিয়ে তোলো?"

   ওহাইব বিন ওয়ারদ রহ. বলেন, "আল্লাহ তাআলাকে সে পরিমাণ ভয় করো, যে পরিমাণ তিনি তোমার ওপর শক্তি রাখেন। তাঁকে সে পরিমাণ লজ্জা পাও, যে পরিমাণ তিনি তোমার নিকটে রয়েছেন।

   ইবনে আব্বাস রা. বলেন, "হে পাপাচারী, পাপের বিপদ ও শেষের মন্দ পরিণামের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থেকো না। গোপন গৃহে দরজা বন্ধ করে যখন তুমি গুনাহ করো, তখন বাতাসের ঝাপটায় তোমার দরজা খুলে যাওয়াকে ভয় করো; অথচ আল্লাহ তাআলার দৃষ্টির ভয়ে তোমার হৃদয় প্রকম্পিত হয় না।"

☆বইটির কিছু বৈশিষ্ট্য:
-----------------------------
¤বইটি কুরআনের আয়াত, রাসূল (সা)-এর হাদিস, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈসহ সালফে সালেহীনদের বক্তব্য, বিভিন্ন ছোট ঘটনা, লেখকের দরদমাখা উপদেশ ইত্যাদি দিয়ে সাজানো।

¤বইটি পড়ার সময় মনে হতে পারে, একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ও কল্যাণকামী দ্বীনী ভাই বা বন্ধু তার অপর একজন দ্বীনী ভাই বা বন্ধুকে হৃদয়ের আকুতি দিয়ে ডেকে ডেকে যেন বলছেন, "ফিরে এসো সত্যের পথে। অন্যায় দৃষ্টি দিয়ে নিজেকে শেষ করে ফেলিও না।" লেখক পাঠককে কখনো সম্বোধন করেছেন 'প্রিয় ভাই' বলে, কখনোবা 'প্রিয় বন্ধু' বলে, কখনো আবার 'হে প্রিয়' বলে, কখনো 'হে যুবক' বলে, কখনো 'প্রিয় মুসলিম ভাই আমার' বলে। কত দরদমাখা বর্ণনাভঙ্গি!

¤বইটি ছোট। কেউ চাইলে এক বসাতেই পড়ে ফেলতে পারেন। তবে মাঝে মাঝে একই জাতীয় কথা বারবার আসাতে একটু একঘেয়েমি লাগতে পারে। এক্ষেত্রে প্রতিদিন কয়েক পৃষ্ঠা করে পড়া যেতে পারে।

¤কিছু ক্ষেত্রে শিরোনামের সাথে ভিতরের কথায় পুরোপুরি মিল নেই। ভিতরে অন্য বিষয়ে হালকা আলোচনা আছে। তবে ভিতরে যে কথাগুলো লেখা আছে সেগুলোও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অপ্রাসঙ্গিক বলার সুযোগ নেই।

¤বইয়ের মূল লেখা ৮৫ নং পৃষ্ঠা পর্যন্ত। এরপর 'পাঠকের পাতা' নামে দুটা পৃষ্ঠা রাখা হয়েছে যেখানে পাঠক প্রয়োজনীয় কিছু কথা লিখে রাখতে পারবেন। সেটা হতে পারে বইটি পড়ার পর তার অনুভূতি অথবা বইটির শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ অথবা বইয়ের উল্লেখযোগ্য কিছু লাইন।

☆বইটি যাদের কেনা উচিত:
------------------------------------
৹অবিবাহিত ও বিবাহিত প্রতিটি যুবকের উচিত বইটি কিনে পড়া। একবার নয়, বারবার পড়া, মাঝে মাঝেই পড়া।
৹দৃষ্টি সংক্রান্ত গুনাহ যদিও ছেলেদের দ্বারা বেশি সংঘটিত হয়, কিন্তু মেয়েরাও এ থেকে মুক্ত নয়। একদিকে কোনো ছেলের দিকে কুচিন্তাসহ দৃষ্টিপাত বৈধ নয়। আরেকদিকে ছেলেদের কুদৃষ্টি থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য পর্দা করা উচিত। এ উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে আমি মনে করি বোনদেরও উচিত এ বইটি কিনে পড়া।
৹যেসব অভিভাবকের যুবক সন্তান আছে, তাদের উচিত বইটি কিনে সন্তানদের পড়তে দেয়া।
৹যারা বিভিন্নভাবে যুবকদের মাঝে দাওয়াতী কাজ করেন, তাদের উচিতএ বইটি কিনে উপহার দেয়া।
৹বিভিন্ন পাঠাগারে এ বইটি ও এ জাতীয় আরো কিছু বই রাখা উচিত, যেগুলো যুব সমাজের চরিত্র গঠনে সহায়ক।


ইসলাম ও আমাদের জীবন-১-১৫ (সকল খণ্ড) ১৫ ভলিউম লেখক: শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী





ইসলাম ও আমাদের জীবন-১-১৫ (সকল খণ্ড) ১৫ ভলিউম
“ইসলাম ও আমাদের জীবন” সিরিজ মূলত শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুমের ইসলাহী খুতুবাত, ইসলাহী মাজালিস, ইসলাহী মাওয়ায়েয, ইসলাহী বয়ান তথা সকল বয়ান সংকলন এবং নির্বাচিত রচনাসমগ্র। যা সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেছেন,

“বছরের পর বছর ধরে কলম ও যবান নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী কসরত করে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য—জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের যে কালজয়ী দিকনির্দেশনা রয়েছে, তা দ্বারা নিজেও উপকৃত হওয়া এবং অন্যদের কাছেও সে দিকনির্দেশকে পৌঁছে দেওয়া। বিভিন্ন বিষয়বস্তু সম্পর্কে এজাতীয় লেখাজোখা ও বক্তৃতা-বিবৃতি যেমন পত্র-পত্রিকায় ছাপা হয়েছে, তেমনি স্বতন্ত্র পুস্তক-পুস্তিকা কিংবা বিশেষ সংকলনের অংশরূপেও প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলোর একটি বিষয়ভিত্তিক সমগ্রের রূপ দেয়া হয়েছে ‘ইসলাম ও আমাদের জীবন’ সিরিজে।

এই সিরিজের প্রথম খণ্ড : ইসলামী আকীদা-বিশ্বাস, দ্বিতীয় খণ্ড : ইবাদত-বন্দেগী, তৃতীয় খণ্ড : ইসলামী মুআমালাত : চতুর্থ

খণ্ড : ইসলামী মুআশারাত : পঞ্চম খণ্ড : ইসলাম ও পারিবারিক জীবন, ষষ্ঠ খণ্ড : তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি, সপ্তম খণ্ড : মন্দ চরিত্র ও তার সমাধান, অষ্টম খণ্ড : উত্তম চরিত্র, নবম খণ্ড : ইসলামী জীবনের কল্যাণময় আদব, দশম খণ্ড : দৈনন্দিন কাজে প্রিয়নবীর সা. প্রিয় দুআ ও আমল, একাদশ খণ্ড : ইসলামী মাসসমূহ, দ্বাদশ খণ্ড : সীরাতে রাসূল সা. ও আমাদের জীবন, তৃয়োদশ খণ্ড : দ্বীনী মাদরাসা, উলামা ও তলাবা, চতুর্থদশ খণ্ড : ইসলাম ও আধুনিক যুগ।

প্রতিটি খণ্ড ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে, তাই সিরিজের সকল কিতাব যেমন সামগ্রিক উপকার দিবে, তেমনি যেকোনো একটি খণ্ডও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্ঞান দান করে সুপথ দেখাবে।

১. ইসলামী আকায়েদ

২. ইবাদাত-বন্দেগী

৩. ইসলামী মু‘আমালাত

৪. ইসলামী মু‘আশারাত

৫. ইসলাম ও পারিবারিক জীবন

৬. তাসাউফ ও আত্মশুদ্ধি

৭. মন্দ চরিত্র ও তার সংশোধন

৮. উত্তম চরিত্র

৯. ইসলামী জীবনের কল্যাণময় আদব

১০. প্রিয় দুআ ও আমল

১১. ইসলামী মাসসমূহ ফাযায়েল ও মাসায়েল, করণীয় ও বর্জনীয়

১২. সীরাতে রাসূল স. ও আমাদের জীবন

১৩. দ্বীনী মাদরাসা, উলামা ও তলাবা

১৪. ইসলাম ও আধুনিক যুগ

১৫.মুসলিম মনীষীগণের শিক্ষণীয় ঘটনাবলী

বইঃ ইসলাম ও আমাদের জীবন-১-১৫ (সকল খণ্ড) ১৫ ভলিউম
লেখক: শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী
অনুবাদক: মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
প্রকাশনী: মাকতাবাতুল আশরাফ
প্রথম প্রকাশ: জুন, ২০১২

🖱 যেভাবে অর্ডার করবেনঃ
আপনার নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে মেসেজ করুন।
আমাদের পেইজে
মেসেঞ্জারে- m.me/kureghor.com.bd
অথবা কল করুন ☎ 01918889116

শয়তানের চক্রান্ত মূল: ইমাম ইবনু আবিদ দুনইয়া রহ.



শব্দতরু ইসলামি বই গ্রুপ রিভিউ প্রতিযোগিতা জানুয়ারি ২০২০

বই: শয়তানের চক্রান্ত
মূল: ইমাম ইবনু আবিদ দুনইয়া রহ.
অনুবাদক: শরীফুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ ওসমান
সম্পাদক: আবদুল্লাহ আল মাসউদ
প্রকাশনী: মাকতাবাতুল আসলাফ
মোট পৃষ্ঠা: ১৩২
মুদ্রিত মূল্য: ১৯০ টাকা

☪বইটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
-------------------------------------
'শয়তানের চক্রান্ত' বইটি মূলত লেখকের দুইটি বইয়ের অনুবাদগ্রন্থ। একটি হচ্ছে 'মাকায়িদুশ শাইতান', আরেকটি 'যাম্মুল মালাহি'। 'মাকায়িদুশ শাইতান' বইয়ে শয়তানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে কুরআন ও হাদিসের আলোকে তুলে ধরা হয়েছে। 'যাম্মুল মালাহি' বইয়ে গান, নাচ, পাশা, যিনা, সমকাম ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

☪সংক্ষেপে লেখক পরিচিতি: (বইয়ে প্রদত্ত তথ্যের
-----------------------------------------------------------------
 আলোকে):
---------------
ইমাম ইবনু আবিদ দুনইয়া রহ. হিজরী তৃতীয় শতাব্দীর একজন বিখ্যাত আলেম। তৎকালীন বাগদাদের প্রসিদ্ধ সকল মাশায়েখের নিকট থেকে তিনি ইলম হাসিল করেন এবং অল্প সময়েই সমকালীন আলেমদের মধ্যে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হন। ইবনে কাসীর রহ. লিখেছেন, "প্রত্যেক শাস্ত্রে তাঁর লিখিত কিতাব রয়েছে। তিনি প্রসিদ্ধ ও উপকারী বহু গ্রন্থের প্রণেতা। তার লিখিত একশ'র বেশি কিতাব রয়েছে। তবে এর বেশি বা কম হওয়ার ব্যাপারেও অনেকের মতপার্থক্য রয়েছে।"

☪বইটিতে যা আছে:
---------------------------
¤সম্পাদকীয় ভূমিকা: (১৬-৩৫ নং পৃষ্ঠা)
   বলা যায়, সম্মানিত সম্পাদক সাহেব তাঁর লেখা ভূমিকাতে পুরো বইটির সারনির্যাস তুলে ধরেছেন। খেলাধুলা বিষয়ে ইসলামের মৌলিক নীতিমালা উল্লেখ করেছেন তিনি। শরীয়াতের আলোকে খেলাধুলার প্রকারভেদ ও সেগুলোর হুকুম, পাশা খেলার পরিচয় ও হুকুম, দাবা খেলার পরিচয় ও হুকুম, ফিকহে হানাফীতে পাশা ও দাবা খেলার অবস্থান, সমকামিতা ও তার শাস্তি, সমকামিতা নামক রোগের নয়টি চিকিৎসা প্রভৃতি বিষয় আলোচনা করেছেন। কোন ধরণের খেলাধূলা হারাম, কোনগুলো হালাল, কোনগুলো শর্তসাপেক্ষে হালাল, সে শর্তসমূহ কী কী-এসব বিষয় জানার জন্যও এ ভূমিকাটা অধ্যয়ন করা জরুরি। এসব বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে সম্পাদক সাহেব কুরআনের আয়াত, বিভিন্ন হাদিস ও সালাফদের বক্তব্যসমূহ তুলে ধরেছেন। সেগুলোর তথ্যসূত্রও যথাযথভাবে উল্লেখিত হয়েছে।

¤জিন ও শয়তানদের সম্পর্কে: (৩৬-৭৪ নং পৃষ্ঠা)
   জিনদের তিনটা দল, দুষ্ট জিনদের অবস্থা, ভূত-প্রেত, জিনদের বাসস্থান ও খাবার, তাদের আদি পিতা, জিন সম্পর্কিত কিছু ঘটনা, জিনের সর্দারের চিঠি, খারাপ জিন থেকে রক্ষা পাওয়ার দুআ ও তাদের উৎপাত থেকে মুক্তির উপায়, তাদেরকে দেখলে করণীয়, শয়তানের হাত থেকে রক্ষায় সূরা ইয়াসিন ও আয়াতুল কুরসী, খারাপ জিনদের ফল চুরি, শয়তানের ওপর কুরআনের প্রভাব, যিকিরের উপকার, শয়তানের অবস্থান, তাদের আকৃতি বিকৃত হওয়া, মুমিনের মৃত্যুতে শয়তানের ক্রন্দন, শিরা-উপশিরায় ঘুরে বেড়ানো, শয়তানের কথোপকথন, হিংসা ও লোভের মাধ্যমে তাদের চক্রান্ত, তাদের অহংকার, তাদের কুবুদ্ধি প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। এছাড়া আরো উল্লেখ করা হয়েছে ইয়াহইয়া আ., ঈসা আ., রাসূল স., উমর রা. ও আম্মার রা.-এর সাথে; ইবনু হানযালা, কারুন, একজন সন্ন্যাসী প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গের সাথে শয়তানের চক্রান্তের প্রচেষ্টাসমূহ। ইবলিসের কাছে সবচেয়ে প্রিয় ও ঘৃণিত মানুষ কে, মৃত্যুর সময় ইবলিসের ধোঁকা, ইবলিসের নাম, শয়তানের ক্ষমতা, তাদের কুমন্ত্রণা দেয়ার ধরণ, উমর রা.-কে দেখে শয়তানের পলায়ন, শয়তান থেকে মানুষকে রক্ষায় ফেরেশতাদের ভূমিকা-এসব বিষয়ও বাদ যায় নি বইটিতে। আদম আ.-এর সাথে শয়তানের কী কী কথোপকথন হয়েছিল, সেটাও জানা যায় এ বইটি থেকে।

¤পাপাচারের শাস্তি: (৭৫-৮৪ নং পৃষ্ঠা)
   কিয়ামতের আগে কী কী আযাব আসবে, কোন পনেরটি অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আযাব আসবে, বাদ্যযন্ত্রের প্রসার ঘটলে কোন শাস্তি আসবে, কেন বানর ও শুকরে বিকৃত করে দেয়া হবে, কাদের ওপর পাহাড় উঠিয়ে নিক্ষেপ করা হবে, ভূমিকম্পের শাস্তি কখন আসবে, কোন বিষয়গুলো না ঘটা পর্যন্ত কিয়ামত আসবে না- এসব বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এ অধ্যায়টিতে। এসব ব্যাপারে রাসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস ও সালাফদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। হাদিসের ক্ষেত্রে তথ্যসূত্র ও হাদিসের মান উল্লেখিত হয়েছে টিকায়।

¤গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র: (৮৫-৯৬ নং পৃষ্ঠা)
   বাদ্যযন্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের হুকুম, পবিত্র কুরআনে গান-বাজনার উল্লেখ ও সালাফগণের ব্যাখ্যা, গানের ক্ষতি ও যিকিরের লাভ, গায়কের কাছে শয়তানের আগমন, গায়ক ও শ্রোতার উপর অভিশাপ, অশ্লীল গান-বাজনার আসক্তি, গায়কের কাছে প্রেরিত চিঠি, সঙ্গীতকর্মের বিনিময়, গায়িকা নারীদের ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি বিষয়ের বর্ণনা দেখতে পাওয়া যায় এ অধ্যায়টিতে। কোন চার শ্রেণীর মানুষের প্রতি আল্লাহ অসন্তুষ্ট, কেন একজন আবেদ ব্যক্তি দাওয়াতের স্থান থেকে না খেয়ে বিদায় নিলেন, কেন সুলাইমান বিন আবদুল মালিক কিছু লোকের অণ্ডকোষ কেটে দিতে বলেছিলেন-এসব প্রশ্নের উত্তর উল্লেখিত আছে 'গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র' নামক এ অধ্যায়ে। উমর বিন আবদুল আযীয রহ. তাঁর ছেলের শিক্ষকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেটিও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এ অধ্যায়ে।

¤বাঁশি বিষয়ে সতর্কতা: (৯৭-১০১ নং পৃষ্ঠা)
   দুইটি অভিশপ্ত শব্দ কী কী, সবচেয়ে নিকৃষ্ট উপার্জন কোনটি, মদ পান করার শাস্তি কী, তা থেকে বিরত থাকার পুরস্কার কী, গান-বাজনা থেকে বিরত থাকার পুরস্কার কী-এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে পড়তে হবে উক্ত অধ্যায়টি। উচ্চাভিলাষী মেয়ের পরিবর্তে সাধারণ মেয়েকে বিবাহ করার ব্যাপারে মালিক বিন দিনার রাহিমাহুল্লাহ-এর দিকনির্দেশনা সম্পর্কে জানতে, বাঁশির শব্দ শোনার পর রাসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আবদুল্লাহ ইবনু উমর রা.-এর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে এ অধ্যায়টি পড়তে হবে।

¤পাশা বা লুডু খেলা: (১০২-১০৬ নং পৃষ্ঠা)
   পাশার ঘুঁটি দিয়ে উপার্জন, লুডু খেলা, বাজি ধরে পাশা খেলা, পাশা খেলার ব্যাপারে ইবনু যুবায়ের রা.-এর ভাষণ, পাশা খেলোয়াড়দের অন্তরের উদাসীনতা, শুকরের রক্তে হাত চুবানোর সাথে এ খেলার তুলনা-এসব বিষয় আলোচিত হয়েছে এ অধ্যায়ে। রাসূল সা., সাহাবায়ে কেরামসহ সালফে সালেহীনদের বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে পাশা খেলার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা উপস্থাপিত হয়েছে এখানে। এক্ষেত্রেও তথ্যসূত্রসমূহ যথাযথভাবে লেখা হয়েছে।

¤দাবা খেলা: (১০৭-১০৯ নং পৃষ্ঠা)
   দাবা অগ্নিপূজকদের খেলা, এটি অভিশপ্ত খেলা, এটি পাশার চেয়েও নিকৃষ্ট, এটি আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ রাখে- এসব কথার সপক্ষে সালাফদের উক্তিসমূহ তুলে ধরা হয়েছে। এ খেলার কুফলসমূহও সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখিত হয়েছে। দাবা ও পাশা খেলার ব্যাপারে ইবনু আব্বাস রা.-এর ছোট্ট একটি ঘটনাও বর্ণিত হয়েছে।

¤গুটি খেলা: (১১০ নং পৃষ্ঠা)
   এ খেলার ব্যাপারে ইবনু উমর (রা), সালামা বিন আকওয়া (রা) ও উম্মে সালামা (রা)-এর ভূমিকা ও বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে।

¤বরই বিচি দিয়ে খেলা: (১১১ নং পৃষ্ঠা)
¤তবলা: (১১১ নং পৃষ্ঠা)
¤জুয়া বা বাজি ধরা: (১১২-১১৩ নং পৃষ্ঠা)
¤কবুতর দিয়ে বাজি ধরা: ( ১১৪ নং পৃষ্ঠা)
¤সমকামিতা: (১১৫-১১৯ নং পৃষ্ঠা)
   সমকামিতার শাস্তি, সমকামিতার মিথ্যা অপবাদ দেয়ার শাস্তি, সুশ্রী বালকের দিকে তাকানো ও তার সাথে রাত্রিযাপন- এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
¤নারী সমকাম: (১২০-১২৩ নং পৃষ্ঠা)
¤পুরুষ সমকাম: (১২৪-১২৫ নং পৃষ্ঠা)
¤হিজড়া: (১২৬-১২৯ নং পৃষ্ঠা)
   হিজড়াদের থেকে পর্দার আদেশ, তাদের ইমামতি, হিজড়াকে ঘরে আসতে নিষেধ করা, কাউকে হিজড়া বলার শাস্তি ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হয়েছে।

☪কেন পড়বেন বইটি:
-----------------------------
শয়তান আমাদের এমন এক শত্রু যে সবসময় আমাদের সাথে লেগেই থাকে। সে আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে কুমন্ত্রণা দেয়। আমরা যখন কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাই, তখন পরামর্শদাতা হিসেবে উপস্থিত হয় শয়তান। আমরা যখন কোনো ভালো কাজ করতে যাই, তখন সেটার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী হিসেবে হাজির হয়ে যায় শয়তান। যখন কোনো খারাপ বা অনৈতিক কাজ করতে যাই, তখন সেটার সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করে শয়তান। এখন আমরা যদি শয়তানকে সুযোগ দেই, তাহলে তো সে আমাদেরকে জাহান্নাম পর্যন্ত না পৌঁছিয়ে ক্ষান্ত হবে না। এজন্য আমাদের উচিত এ চিরশত্রুকে কখনোই সুযোগ না দেয়া। বরং প্রতিটি মুহূর্তে নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে শয়তানের সাথে যুদ্ধ করা উচিত। এখন এ যুদ্ধে জয়ী হওয়াটা কঠিন হয়ে যাবে, যদি আমরা আমাদের এ চির প্রতিপক্ষ সম্পর্কে না জানি। শয়তান কে, কী তার পরিচয়, সে কোথায় থাকে, সে কিভাবে মানুষকে ধোঁকা দেয়, কিভাবে তার আক্রমণ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য এ বইটি পড়া উচিত।

গান-বাজনা, পাশা খেলা, দাবা খেলা, জুয়া, কবুতর বাজি, সমকামিতা ইত্যাদি শয়তানী কর্মকাণ্ডের সাথে আমরা অনেকেই জড়িত। এগুলো যে কত বড় অন্যায় সে সম্পর্কে হয়তো আমাদের কোনো ধারণাই নেই। হতে পারে এ জঘন্য অপকর্মগুলোই আমাদের জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হয়ে যাবে। এসব কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে শরীয়াতের বিধান কী, রাসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কেরামসহ সালফে সালেহীনগণ এসবের ব্যাপারে কী বলেছেন- সে সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা অনেক জরুরি। এক্ষেত্রে এ বইটি অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করি।

☪বইটির কিছু ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য:
------------------------------‌--------------
•প্রায় পুরো বইটি সাজানো হয়েছে রাসূল (সা)-এর হাদিস, সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য ও অন্যান্য সালাফদের বাণী দিয়ে।
•টিকায় বিভিন্ন তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।
•বইটির সম্মানিত সম্পাদক সাহেব তাঁর ভূমিকাতে জরুরি মাসয়ালা-মাসায়েলসমূহ উল্লেখের মাধ্যমে বইয়ের সৌন্দর্য্য ও কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলেছেন।
•বইয়ের কভার, কাগজের মান, লেখার ফন্ট ইত্যাদি ভালো লেগেছে।
•বইয়ের শেষের দিকে পাঠকের নোট করার জন্য দুটা পৃষ্ঠা রাখা হয়েছে। এ দিকটা ভালো লেগেছে। বই পড়ার সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় যেগুলো লিখে রাখা উচিত। এক্ষেত্রে এ পৃষ্ঠা দুটি যথেষ্ট সহায়ক হবে বলে মনে করি।
•সর্বশেষ পৃষ্ঠায় মাকতাবাতুল আসলাফ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রকাশিতব্য বইয়ের একটি তালিকা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়টিও ভালো লেগেছে। এতে করে পাঠক অন্যান্য আরো কিছু বই কেনার ব্যাপারে উৎসাহিত হতে পারেন।

☪দুটি নেতিবাচক কথা:
--------------------------------
   >বইটিতে অনুবাদকগণের পরিচিতি উল্লেখ করা হয় নি। সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও তাঁদের পরিচিতি উল্লেখ করলে ভালো হত।
   >বইটিতে অনেক উপশিরোনাম উল্লেখ করা হয়েছে। কখনো কখনো একটা উপশিরোনামের অধীনে একটি মাত্র বাণী। কখনো আবার একই উপশিরোনাম একাধিকবার।
 
☪পাঠকদের প্রতি একটি কথা:
----------------------------------------
যদিও উক্ত বইটি অনেক তথ্যবহুল, কিন্তু শয়তানের চক্রান্ত সম্পর্কে জানার জন্য ও ভালোভাবে বোঝার জন্য এ একটি বইকেই যথেষ্ট মনে করলে ভুল হবে। আরো ভালোভাবে জানার জন্য 'নেক সুরতে শয়তানের ধোঁকা', 'শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও প্রতিকার', 'মৃত্যুশয্যায় শয়তানের ধোঁকা', 'ওয়াসওয়াসা: শয়তানের কুমন্ত্রণা' ইত্যাদি বই পড়ার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করছি।

পরিশেষে বলতে চাই, শয়তানের পরিচয় ও তার চক্রান্ত সম্পর্কে ভালোভাবে জানা উচিত প্রতিটি মুসলমানের। কারণ সে-ই আমাদের এক নাম্বার শত্রু। এজন্য এ বইটিসহ এ সংক্রান্ত আরো কিছু বই পড়া উচিত বলে মনে করি। সব মুসলিম পরিবারে এবং প্রতিটি পাঠাগারে যেন এ জাতীয় বই থাকে, সে ব্যাপারে আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে।

#ইসলামি_বই_রিভিউ_প্রতিযোগিতা_জানুয়ারি_২০২০

কাসাসুল কুরআন কালেকশন (১ থেকে ১১ খণ্ড) (নবী-রাসুল সিরিজ) 



#কাসাসুল_কুরআন_কালেকশন (১ থেকে ১১ খণ্ড)

৫৪% নিশ্চিত ছাড়ে কিনুন "কাসাসুল কুরআন কালেকশন (১ থেকে ১১ খণ্ড)

যুগে যুগে পথভোলা মানবজাতিকে সত্য ও হিদায়াতের পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তায়ালা নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। আদম (আঃ) থেকে মুহাম্মাদ (সাঃ) সবাই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত। পবিত্র কোরআনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে প্রাচীন জাতিগোষ্ঠী ও নবী রাসূলদের কার্যকলাপ। কিন্তু কতজন মানুষ প্রাচীন জাতিগোষ্ঠী ও নবী রাসূলদের জীবনকর্ম সম্পর্কে সঠিক রাখে। আর যে কাহিনীগুলো লোকমুখে শোনা সেগুলোও বেশিরভাগ সত্যমিথ্যা মিশ্রিত।
পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী প্রাচীন জাতিগোষ্ঠী ও নবী রাসূলদের পরিচয়, ব্যক্তিত্ব, দা'ওয়াহ কার্যক্রম, সময়কাল ও তাদের সঠিক জীবনচরিত্র ও কর্ম নিয়ে ১১ খণ্ডের কাসাসুল কুরআন কালেকশন।

মাওলানা হিফযুর রহমান সিওহারবি রহ. রচিত কাসাসুল কুরআনের কিছু বৈশিষ্ট ------
* এই কিতাবে (কাসাসুল কুরআনে) কুরআনকেই সমস্ত ঘটনার ভিত্তি বানানো হয়েছে। বিশুদ্ধ হাদিস ও ইতিহাসের ঘটনাবলীর আলোকে সেগুলো ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
* প্রত্যেক নবীর ( আ.) অবস্থা কুরআনের কোন কোন সুরায় বর্ণনা করা হয়েছে সেগুলোকে একটি নকশার আকারে এক জায়গায় দেখানো হয়েছে।
* এসব ঘটনার সংগে সংগে ' উপদেশ ও শিক্ষা' শিরোনামে ঘটনাটি বর্ণনা করার মূল উদ্দেশ্য ও আসল লক্ষ্য,অর্থাৎ শিক্ষা ও উপদেশের বিষয়টিকে বিশেষভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

আজই সংগ্রহ করুন ৪৫% ছাড়ে!

book:কাসাসুল কুরআন কালেকশন (১ থেকে ১১ খণ্ড) (নবী-রাসুল সিরিজ)
Author: মাওলানা হিফযুর রহমান (রহ.)
Translator: মাওলানা আবদুস সাত্তার আইনী
Editor: মাকতাবাতুল ইসলাম
Publisher: مكتبة الاسلام (মাকতাবাতুল ইসলাম)
Category: কোরআন, তরজমা ও তাফসির
Language: বাংলা
Edition: 2nd Published, 2016
Quality: হার্ডকভার

🖱 যেভাবে অর্ডার করবেনঃ
আপনার নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে মেসেজ করুন।
আমাদের পেইজে
মেসেঞ্জারে- m.me/kureghor.com.bd
অথবা কল করুন ☎ 01918889116

তাতারীদের ইতিহাস লেখকঃড. রাগেব সারজানী






#ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভাল_লাগা_জানুয়ারি_২০২০


                          ||তাতারীদের ইতিহাস||


তাতারীদের ইতিহাস। তাতারদের সম্পর্কে ছোট্টবেলা থেকেই নানা কথা শুনি। তখন থেকেই বর্বর এক জাতি হিসেবে ওরা পরিচিতি পায় আমার মনে। ওদের নিয়ে বিস্তারিত জানার আগ্রহ তখন থেকেই। তাই ভালো মানের বই খুজতাম সবসময়ই। হঠাৎ একদিন বাংলাবাজার বইটা দেখে লুফে নেই সাথে সাথে। তাছাড়া হাসান সম্পর্কে জানাশোনা আছে আগে থেকেই, জানতাম লেখক সম্পর্কেও। তাই অন্তরও সাক্ষ্য দিলো বইটা ভালো হওয়ার ব্যাপারে। তর সইছিল না। বাসায় ফেরার পথে গাড়িতে বসেই পড়তে শুরু করে দেই। দেড় দিনেই শেষ করে ফেলি বইটি। 


                        |পাঠ প্রতিক্রিয়া|

বইটি আমায় অনেক কাঁদিয়েছে। জীবনে খুব বেশি বই পড়ে আমি কাঁদিনি। তবে কেঁদেছি এই বইটি পড়ে। খুব কেঁদেছি। মানুষ মানুষের উপর এভাবেও নির্যাতন করতে পারে! এমন নির্মম হত্যাযজ্ঞ কোনো মানুষ চালাতে পারে! এরা কি আমাদের মতোই রক্তে মাংসের মানুষ ছিল! তবে কিভাবে পারল তারা মানুষ হয়ে! মনগুলো কি একবারও কেপে উঠল না! 


বেশ কয়েকবার এমনও হয়েছে যে, ওদের নির্মম হত্যাকান্ড আমাকে থামিয়ে দিয়েছে। হৃদয়বিদারক করুণ কাহিনী আমাকে সামনে এগুতে দেয়নি। পারিনি। বইটা বন্ধ করে ঝিম ধরে বসে ছিলাম। চোখ বেয়ে অঝোরে অশ্রু ঝরেছে। কিছুই ভাবতে পারিনি। এ-ও সম্ভব! আমার কান আগে কখনো এমন নির্মমতার কথা শুনেনি, আমার চোখ কখনো এমন নির্মমতা দেখেনি। আমার মন কখনো কল্পনাও করেনি। 


অন্যদিকে বারবার হতাশ হয়েছি মুসলমানদের ঈমানী দূর্বলতা দেখে। বারবার প্রশ্ন এসেছে মনে, আমরা কি আসলেই খালিদ বিন ওয়ালিদ, সালাউদ্দীন আইয়ূবীর উত্তরসূরী! আমরাই কি শ্রেষ্ঠ জাতি! তবে কেন আমাদের এই দূরাবস্থা! আমরা কেন কাফেরদের ভয়ে নাস্তানাবুদ হয়ে থাকব!  


আর হ্যা - প্রচ্ছদ, বাধাই ভালো হয়েছে। অনুবাদ সুখপাঠ্য, তবে কিছু জায়গায় আরো ভালো হতে পারত। সব মিলিয়ে আপত্তির তেমন কিছু নেই।


                 |কেন পড়বেন বইটি?|


'তাতারীদের ইতিহাস' গ্রন্থটি ষষ্ঠ শতাব্দীতে মুসলিম সাম্রাজ্যের উপর হানা দেওয়া রক্তচোষা তাতারী আগ্রাসনের ইতিহাস নিয়ে রচিত। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. রাগেব সারাজানী বর্বর তাতারীদের ঘৃন্য জঘন্য ইতিহাস নিয়ে রচনা করেছন গ্রন্থটি। 


তাতারীদের বর্বরতা মুসলিম ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইতিহাস; বরং এভাবে বললে অত্যুক্তি হবে না যে, সর্বদিক বিবেচনায় পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস তাতারীদের এই ইতিহাস।


রাগিব সারজানি আমাদের বাংলায় এখন পরিচিত এক নাম। ঐতিহাসিক হিসেবে তিনি বাংলাভাষী পাঠক মহলে বেশ পরিচিত ও সর্বজনগৃহীত ব্যক্তিত্ব। তার লেখনীর অন্যতম বৈশিষ্ট হলো, তার লেখায় কেবল ইতিহাসই উঠে আসে না, বরং ইতিহাস থেকে চালনীর ছাচে বের করে আনা হয় বিভিন্ন শিক্ষা। তখনকার ঘটনাগুলোকে মিলিয়ে দেখানো হয় আমাদের যুগের সাথে। ফলে উম্মাহ পেয়ে যায় চিন্তার খোরাক, খুজে পায় মুক্তির দিশা। 

এই বইটিও তেমনি, ব্যতিক্রম কিছু নয়। বইয়ের ভূমিকায় লেখক যথার্থই বলেছেন- '"আমরা কেবল উত্থান পতনের ইতিহাস গবেষণার জন্য বক্ষ্যমান গ্রন্থ রচনা করিনি; বরং সেই সব কারণ অনুসন্ধানের জন্য রচনা করেছি, যদ্দরুণ জাতির উন্নতি ও অবনতি ঘটে। ইতিহাস তো বারংবার পুনরাবৃত্ত হয় আশ্চর্য মহিমায়।"


ধারাবাহিক বর্ণনা, তথ্যের সহজ উপস্থাপন, কাহিনীর বিন্যাস, জয়-পরাজয়ের যৌক্তিক, স্পষ্ট ও প্রকৃত কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে। মুসলমানদের মাথায় উঠিয়ে রাখতে ইতিহাস বিকৃতি ঘটানো হয়নি। বরং লেখক উচিৎটা বলে গেছেন নিরপেক্ষতার চশমা লাগিয়ে। 


লেখক ইতিহাসের নিরিখে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন মুসলমানদের পরাজয়ের কারণ, বের করে এনেছেন আমাদের জন্য শিক্ষা ও বলে দিয়েছেন আমাদের বর্তমান করনীয়। তিনি কখনো মমতার হাত বুলিয়ে, কখনো বা ধমকের সুরে বারবার জাগিয়ে তুলেছেন মুসলিমদের ঈমানীসত্ত্বাকে। পূর্বেকার ঘটনাগুলোকে বর্তমানের সাথে মিলিয়ে দিয়েছেন, তখনকার গাফেলরা কী করেছিল আর আমরা এখন কী করছি এসবও বলে গেছেন নির্দ্বিধায়। তাদের থেকে কী কাম্য ছিল আর তারা কী করেছে, এবং আমাদের কী করনীয় আর আমরা কী করে যাচ্ছি এসব সূক্ষ বিষয়গুলো তুলে এনেছেন ইতিহাসের শিক্ষা থেকে। ঘটনার বিভিন্ন দিককে কুরআন হাদীসের সুসংবাদ, সতর্কবানি ও ঘোষিত পরিণতির সাথে মিলিয়ে দেখিয়েছেন। 


আমাদের গর্বের ধন প্রিয় কুতয ও তার বিজয়াভিযানগুলো তুলে ধরেছেন খুবই যত্নের সাথে। বর্ণনা করেছেন তার চারিত্রিক উৎকৃষ্টতা, সামরিক অভিজ্ঞতা ও দুনিয়া বিমুখতার কথা।অচেতন মুসলিমদের ঈমান জাগানিয়া কর্মপন্থার কথাও আলোচনা করেছেন খুব দরদ নিয়ে।পারস্পরিক আত্মকলহের অপনোদন করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে তিনি কিভাবে বেধেছিলেন গোটা জাতিকে, সেই অভূতপূর্ব কর্মপন্থা আলোচনায় এনেছেন খুব সতর্কতার সাথে।


তাতারীদের ইতিহাস আমাদের দৃষ্টির আড়ালেই রয়ে গেছে। অথচ এনিয়ে আমাদের জানা দরকার, অতিব জরুরী। সাইফুদ্দীন কুতুয! আমাদের চেতনার আদর্শ! আমাদের গর্বের ধন! 


                          |পরিশিষ্ট|

পরিশোষে বলব, আপনি যদি বই-পাঠক হয়ে থাকেন, বরং যদি পাঠে অভ্যস্ত না-ও হয়ে থাকেন, তবুও বলব, এই বইটি পড়ুন! মনটা একটু হলেও নরম হবে। শহীদদের জন্য মন থেকে দুআ আসবে। 

আপনি যদি ইসলামিক মাইন্ডের না-ও হোন, এমনিতেই একজন ইতিহাস প্রেমী হয়ে থাকেন তবুও বইটি পড়ুন! ভালো ও উপকারী কিছু আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।


আল্লাহ প্রিয় কুতয, রুকন উদ্দীন বাইবার্স সহ অন্য সকল মুজাহিদ ও মজলুম শহীদদের জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন! আমীন!


                        |সংক্ষিপ্ত বই পরিচিতি|


বই:..................তাতারীদের ইতিহাস

লেখক:.............ড. রাগেব সারজানী

অনুবাদক:.........মাওলানা আবদুল আলীম

সম্পাদনা:..........মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন

প্রকাশনায়:.........মাকতাবাতুল হাসান

মুদ্রিত মূল্য:........৪৪০টাকা-----ছাড় মূল্যঃ২২০ টাকা

পৃষ্ঠা সংখ্যা:........৪০০ 

সিক্রেটস অব জায়োনিজম (বিশ্বব্যাপী জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্রের ভেতর-বাহির)



নতুন বই ডিক্লারেশন

সিক্রেটস অব জায়োনিজম (বিশ্বব্যাপী জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্রের ভেতর-বাহির)

লেখকঃ হেনরি ফোর্ড (বিশ্বখ্যাত ফোর্ড গাড়ি কোম্পানির মালিক)

অনুবাদঃ ফুয়াদ আল আজাদ (মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

বই সম্পর্কেঃ

আমেরিকার বিখ্যাত ফোর্ড মোটরগাড়ি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মালিক হেনরি ফোর্ড। কোম্পানি পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি তো চক্ষু চড়কগাছ! এ কী! ইহুদিদের জায়োনিষ্ট জাল অক্টোপাসের মতো ঘিরে ধরেছে পৃথিবীকে!

ফোর্ড ১৯২০ সালে শুরু করলেন নিজের পত্রিকা 'দ্য ডিয়ারবর্ন ইনডিপেন্ডেন্ট'। সেখানে ৯১ পর্বের কলামে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরলেন ইহুদি জাল ও নেটওয়ার্ক। বিশ্বব্যাপী তুমুল হইচই শুরু হলো। জায়োনিষ্ট মুখোশ উন্মোচিত হলে আমেরিকান ব্যবসায়ীর কলমে। ইতোমধ্যে ফোর্ড-এর কলামগুলো নিয়ে চার খণ্ডের বই তৈরি হলো; নাম- 'The International Jew'। প্রতিক্রিয়ায় ইহুদি লবি জবাব দিতে লাগল। আমেরিকা থেকে কয়েকদিনের ব্যবধানেই সব বই লাপাত্তা হলো। পত্রিকার বিরুদ্ধে সম্প্রিতি নষ্টের উস্কানির অভিযোগ উঠল। ১৯২৭ সালে বন্ধ করে দেওয়া হলো তার পত্রিকা এবং আলোচিত এই বই।

কিন্তু চাইলেই কি সব বন্ধ করে দেওয়া যায়? আশির দশকে আবার প্রকাশিত হলো বইটি। দুনিয়াব্যাপী ২৩টি ভাষায় অনূদিত হলো। বিশ্বখ্যাত সেই বইটির বাংলা অনুবাদ 'সিক্রেটস অব জায়োনিজম'।

অনুবাদ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের মেধাবী মুখ Fuad Al Azad। একটা শিহরণ জাগানিয়া বই পাঠকদের হাতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ।

চিন্তাপরাধ লেখক- আসিফ আদনান



শব্দতরু ইসলামি বই গ্রুপ রিভিউ প্রতিযোগিতা জানুয়ারি ২০২০

বই- চিন্তাপরাধ
লেখক- আসিফ আদনান
প্রকাশক- ইলমহাউস পাবলিকেশন
নির্ধারিত মূল্যঃ ১৯০ টাকা

📌বই রিভিউঃ
'চিন্তাপরাধ' বইটিতে অনেকগুলো প্রবন্ধ আছে, যার মূল বিষয় হলো বিশ্বরাজনীতি ও ইসলাম। সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুগুলোকে আমরা কোন দৃষ্টিতে দেখব, আমাদের চিন্তার মাপকাঠি কেমন হবে, এসবই এই বইয়ের মূল আলোচ্য বিষয়। বইটির বেশিরভাগ লেখাই মৌলিক, এছাড়া চারটি লেখা অনুবাদ, এর মধ্যে তিনটি আবার সংযোজন, পরিবর্তন, পরিমার্জন করা। বইটা একটু কঠিন ভাষায় লেখা। এটা সবার জন্য না। কেউ যদি নিরীহ- নিষ্ক্রিয়-গৎবাঁধা চিন্তার বাইরে গিয়ে সমসাময়িক বিশ্বরাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুগুলোকে একটু অন্যভাবে দেখতে চান, তাহলে এটাই হবে তার অপরাধ। চিন্তাপরাধ। এই বইটা যারা পড়বেন তারা প্রত্যেকেই হবেন চিন্তাপরাধী।

1⃣
"সহস্র সূর্যের চেয়ে উজ্জ্বল"- চিন্তাপরাধ বইয়ের প্রথম চ্যাপ্টার এটা। চিন্তার জগতে প্রথম আঘাত। কঠিন কঠিন শব্দ দিয়ে সাজানো প্রত্যেকটা বাক্যে স্পষ্ট করে বণর্না করা হয়েছে আমেরিকা কত সালে কোথায় কোথায় গণহত্যা করেছে, কত মানুষ মারা গেছে, এবং প্রত্যেকটা সন্ত্রাসী হামলার পর আমেরিকা নির্লিপ্তভাবে দায় স্বীকার করেছে বিশ্ববাসীর সামনে। সেই ১৯৪৬ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা ফেলার পর থেকে এখন ২০২০ সাল পর্যন্ত আমেরিকা হত্যা করেছে প্রায় ২ কোটি মানুষ। যখন যাকে দরকার মেরেছে, দখল করেছে, ধ্বংস করেছে। এবং আমেরিকার করা প্রতিটি ধ্বংসযজ্ঞ ঘটার সাথে সাথে বৈধতা পেয়েছে। অবাস্তব হলেও সত্য, এই আমেরিকাই নিজেকে উপস্থাপন করেছে সভ্যতার ত্রানকর্তা হিসেবে!

2⃣
'সাম্রাজ্যের সমাপ্তি'- এই লেখাটা "End of Empire" এর সরাসরি ভাবানুবাদ, লেখকের নিজস্ব লেখা নয়। বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সামরিক সম্প্রসারণ ও গনহত্যা চালানো এই আমেরিকার পতন ঘনিয়ে আসছে। আমেরিকার সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো- ইরাক ও আফগানিস্তান আক্রমণ। আমেরিকা তার মিস্টিক হারিয়েছে। আমেরিকা এখন বিশ্বজুড়ে উপহাস ও ঘৃণার পাত্র। ঐতিহাসিক আলফ্রড ম্যকয়ের ধারণা, আমেরিকা সাম্রাজ্যের পতন আসবে ২০৩০ সালের মধ্যে। সাম্রাজ্য ধ্বসে পড়বে, যার আলামত এখনই দেখা যাচ্ছে।

3⃣
"হাউস নিগার"- এই লেখাটা পশ্চিমের কাছে মুসলিমদের পরাজিত মানসিকতার প্রসঙ্গে। মডারেট ও সংস্কারপন্থী ইসলামিস্টদের মুখে আজ আমরা বারবার শুনি- আমরা পশ্চিমের কাছ থেকে ভালোটা নিবো, মন্দগুলো বাদ দিবো। অথচ, ইসলাম পরিপূর্ণ। এটা একটা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, ও স্বাধীন দৃষ্টিভঙ্গি। ইসলামের কোনটা রেখে কোনটা বর্জনের কোন সুযোগ নেই। এ শতাব্দীর মডারেট ইসলামিস্টরা পশ্চিম ও ইসলামের মৌলিক সংঘর্ষকে অস্বীকার করে। ফলে, 'ইসলাম'কে পাওয়া যাচ্ছে ইসলাম ও কুফরের অদ্ভুত এক মিশেলে। যেকারনে খিলাফাহ, শরীয়াহ শাসন, হুদুদ, বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহ, জিহাদ থেকে শুরু করে দাড়ি-টুপি কিংবা হিজাব-নিকাবের মতো জিনিসকে পশ্চিমা তর্কের ভাষায় সমর্থন করা হচ্ছে।

চিন্তার জগতকে ঝাঁজরা করে দেয়ার মত আরও অনেকগুলো লেখা আছে এই বইতে। 'ফিরিঙ্গিসেন্ট্রিক', 'গোড়ায় গলদ', 'শুভঙ্করের ফাঁকি', 'ভুল মাপকাঠি', 'সমকামী এজেন্ডা : ব্লু প্রিন্ট', 'শ্বেত সন্ত্রাস' এই লেখাগুলো আমাকে জানিয়েছে না জানা অনেক কথা, উপস্থাপন করেছে সমসাময়িক ঘটনাগুলোকে বিচার করার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।

📌বইটির সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে:
১. বইটিতে শুধু সমস্যার কথাই বলা হয়েছে, কিন্তু সমাধানের রাস্তা দেখানো হয়নি।
২. বইটি খুবই কঠিন ভাষায় লেখা। লেখার ভাষা মোটেও প্রাঞ্জল না। আরেকটু সহজ করে লিখলে পড়তে সুবিধা হতো।

📌ভাল লাগার মতো বিষয়:
১. বইটিতে প্রচুর রেফারেন্স দেয়া হয়েছে। আগ্রহী পাঠক চাইলে মূল সোর্স থেকে দেখে নিতে পারবেন।
২. কিছু লেখার শিরোনাম অদ্ভুত সুন্দর। যেমনঃ ফিরিঙ্গিসেন্ট্রিক, হাউস নিগার।
৩. উৎসর্গপত্রটি অন্যরকম। ৩৩:২৩। কুরআনের সূরা আহযাবের ২৩ নাম্বার আয়াতের দিকে ইঙ্গিত করেছেন লেখক।
"মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা আল্লাহর সাথে করা তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে।তাদের কেউ কেউ তাদের দায়িত্ব পূর্ন করেছে, আবার কেউ কেউ প্রতীক্ষায় আছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তনই করেনি।"(সূরা আহযাব, ৩৩ঃ২৩)

📌শেষকথাঃ
পশ্চিমের তৈরী চোখ ধাঁধানো সভ্যতার দিকে আমরা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি। কিন্তু আমরা কখনো তাকাই না সভ্যতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সমকামিতা, শিশুকামিতা, এমনকি পশুকামিতাসহ নানান বিকৃতিতে সভ্যতার নোংরা, দুর্গন্ধময় দগদগে গায়ের দিকে।

বইটির লেখককে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন।

#ইসলামি_বই_রিভিউ_প্রতিযোগিতা_জানুয়ারি_২০২০

দাস্তানে মুহাম্মাদ ﷺ লেখক : শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহঃ), শাইখ আহমাদ ইযযুদ্দিন বায়ানূনী



নবীজি ﷺ-এর জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনাদর্শ। তাঁর গোটা জীবন ইসলামের প্রকৃত রূপ। সুতরাং একজন পরিপূর্ণ আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়তে হলে প্রিয়তম রাসূলের জীবনী অধ্যয়ন করা, তাঁর তথ্যপূর্ণ সীরাত সংক্রান্ত সহীহ ও বিশুদ্ধ বই পড়া একান্ত কর্তব্য
.
নবীজি ﷺ-কে নিয়ে বহু বই রচিত হয়েছে। কিন্তু এই বইটির বিশেষত্ব কী?
.
–যে কারণে বইটি অনন্য–

• প্রিয় নবীর পূর্ণ জীবনের 'সারসংক্ষেপ' সহজ ও সাবলীল ভাষায় পরম মাধুর্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
• অত্যন্ত নান্দনিকভাবে নবীজীর আদর্শ, বৈশিষ্ট্য, শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর অনুপম দৈহিক সৌন্দর্যের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
• সীরাত সম্পর্কে নির্ভেজাল ও সত্য জ্ঞান লাভের জন্য প্রতিটি বর্ণনা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎসগ্রন্থসমূহের সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
• নবীজীর ওপর আরোপিত তথাকথিত আধুনিক বুদ্ধিজীবীদের কিছু অসাড় ও অবান্তর প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে সহজ ও ঋজু ভাষায়, যুক্তিপূর্ণ উপস্থাপনায়।
• নববী আদর্শে আলোকিত হওয়ার জন্য সংক্ষিপ্তাকারে রচিত এ বইটি এক বসায় পড়ার মতো সেরা আয়োজন।
.
বই: দাস্তানে মুহাম্মাদ ﷺ
লেখক : শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহঃ), শাইখ আহমাদ ইযযুদ্দিন বায়ানূনী
প্রকাশনী: আর রিহাব পাবলিকেশন
মূল্য: ৪০% ছাড়ে ২০৪ ৳
অর্ডার করতে ভিজিট করুন: https://bit.ly/2Gb5uU8

রাজকুমারির আর্তনাদ মূল: খাজা হাসান নিজামি



'শব্দতরু ইসলামি বই গ্রুপ রিভিউ প্রতিযোগিতা জানুয়ারি ২০২০'

                        ||রাজকুমারীর আর্তনাদ||

'রাজকুমারীর আর্তনাদ' ১৮৫৭ সাল পরবর্তী সময় নিয়ে সবচে বেশি গ্রন্থ রচনাকারী খ্যাতিমান উর্দূ সাহিত্যিক খাজা হাসান নিজামির জীবনের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। বইটি প্রকাশের পর পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। তার জীবদ্দশাতেই এর ত্রয়োদশ সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

বাবরের প্রতিষ্ঠিত প্রভাবশালী মোগল সাম্রাজ্যের পতন ঘটে বাহাদুরাহ শাহ জাফরের সময়ে। যিনি প্রাচীন ঐতিহ্য হিসেবে মসনদের চেয়ারটিতে বসে থাকতেন রাষ্ট্রীয় কোনো সিদ্ধান্তের অধিকারী না হয়েও। আদতে তিনি ছিলেন কাব্যপ্রেমী সাতেপাঁচে না জড়ানো একজন মানুষ। ইংরেজদের সেসব আগ্রাসনে ব্যর্থ-দুশ্চিন্তায় তিনি মাথা ঘামাতেন না। তবে ধর্ম ও রাষ্ট্রপ্রেমীদের মনে জমতে থাকা সেই তুষের আগুন দাউদাউ করে জলে উঠে ১৮৫৭ সালে 'আযাদী আন্দোলন' (সিপাহী বিপ্লব) নাম নিয়ে। তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও সম্রাট এতে জড়িয়ে পড়েন।

নানা কারণে আন্দোলন ব্যর্থতায় রুপ নেওয়ায় তিনি মৃত্যুদন্ড থেকে বেঁচে গেলেও নির্বাসিত হোন রেঙ্গুনে। রাজকীয় চেয়ার ছেড়ে সুদূর রেঙ্গুনে চরম দুঃখ-দুর্দশা ও অভাব-অনটনের তিক্ত স্বাদ মেনে নিতে না পেরে ১৮৬২ সালে এই ধরা থেকে তাকে বিদায় নিতে হয়। কিন্তু মোগল পরিবারের অন্য সদস্যদের পরিণতি কি হয়েছিল? শাহজাদা, রাজকণ্যা হয়েও তাদের খুঁজে বেড়াতে হয়েছিল মুখে তুলে নেয়ার মতো দু'মুঠো খাবার। আলিশান প্রাসাদে থেকে বড় হলেও হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়েছিল মাথা গোঁজার ঠাই পেতে। পৃথিবীর বিস্তৃত এই ভূমিও তাদের জন্য হয়ে উঠেছিল সংকীর্ণ। ১৮৫৭ পরবর্তী মোগল পরিবারের সেসব হৃদয়বিদারক করুণ কাহিনী নিয়ে রচিত খাজা হাসান নিজামির বিখ্যাত বই 'বেগমাত কে আঁসু'; যা রাজকুমারীর আর্তনাদ নামে অনূদিত হয়ে আজ আমাদের হাতে।

লেখক খাজা হাসান নিজামির জন্ম সিপাহী বিপ্লবের মাত্র ১৬ বছর ১৮৭৩ সালে। তাই জীবনের নানা বাঁকে, নানান জায়গায় তিনি দেখা পেয়েছেন মোগল পরিবারের অনেকেরই। তাদের খোঁজে ছুটে বেরিয়েছেন ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে। শুনেছেন ১৮৫৭ পরবর্তী তাদের বিড়ম্বনার গল্প তাদের মুখ থেকে কিংবা তাদের মুখ থেকে শুনা শ্রুতাদের কাছ থেকে। ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন ১৮৫৭ পরবর্তী ইতিহাস নিয়ে রচিত বইপুস্তক। এ বিষয়ে লেখা 'দাস্তাম্বু', 'আসবাবে বাগাওয়াতে হিন্দ', নওবত পাঞ্জে রুযা', বেলা ম্যায় মেলা', 'বাহাদুর শাহ জাফর' ও দ্য লাস্ট মোগল' গ্রন্থ অন্যতম। তবে ১৮৫৭ সাল পরবর্তী ইতিহাস নিয়ে সবচে বেশি লিখেছেন খাজা হাসান নিজামি। আর 'বেগমাত কে আঁসু' ( রাজকুমারীর আর্তনাদ) বইটি ভারতবর্ষের বেশিরভাগ সাহিত্যিকের মতে তার জীবনের লেখা শ্রেষ্ঠ বই। বইটি প্রথমত ছোট-বড় বেশ কয়েক ধাপে একাধিক নাম পরিবর্তনে প্রকাশিত হলেও সংযোজন বিয়োজনের পর পরিশেষে এই সুরতে, এই নামে এসে স্থিরতা পায়।

১৯২ পৃষ্ঠার এই বইটিতে স্থান পেয়েছে মোট ২৬ টি শিরোনাম। প্রতিটি শিরোনামের অধীনে লেখক তুলে ধরেছেন মোগল পরিবারের নির্মম ভাগ্যকথা। কারো মৃত্যুদন্ড, কারো নির্বাসন। কারো বা আবার তৃতীয় শ্রেণির চাকরি করা। দাসী বাদীদের খেদমত ছাড়া যাদের একমুহূর্তও চলত না, তাদেরই হতে হয় অন্যের ঘরের চাকরানি। খাট পালঙ্ক ছাড়া যাদের এক মূহুর্তের নিদ্রা ছিল কল্পনাতীত, তাদেরও ঘুমাতে হয় মাটির বিছানায়। যাদের উচ্ছিষ্ট দিয়ে চলে যেত শত মানুষের খাবার, তারাই দু'মুঠো খাবারের আশায় করে বেড়াত ভিক্ষাবৃত্তি। 

বইটির পরতে পরতে ফুটে উঠেছে এমন কিছু চিত্র যা পড়লে মন আঁতকে উঠে। দিলে ক্ষত হয়। অন্তর কেঁদে উঠে। শরীর শিউরে ওঠে। যেই মুসলমানদের হওয়ার কথা ছিল সকলের জীবন চলার আদর্শ, শ্রেষ্ঠ জাতি, যারা এত দীর্ঘকাল সুনামের সাথে শাসন করে গেলেন ভারতবর্ষ; তারাই আজ জীবন বাঁচাতে পালানোর পথ খুঁজে পায় না! কারণ তো সেই একটাই--ঈমানী শক্তি দমে যাওয়া। চেতনা হারিয়ে যাওয়া। জাতিসত্তা ভুলে যাওয়া। এর ফলশ্রুতিতে যা হবার কথা ছিল তা-ই হয়েছে। আর যা হয়েছে তার স্পষ্ট চিত্রই ফুটে উঠেছে খাজা হাসান নিজামির এই গ্রন্থে।

নাশাত ইসলামি ঘরনার নতুন এক রুচিশীল প্রকাশনী। যারা ইতিমধ্যেই নিজেদের 'নাশাত' নামের প্রমাণ রাখতে সক্ষম হয়েছেন চিন্তাশীল ও সচেতন লেখক ও পাঠক মহলে। ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন জাতির কল্যাণে নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়ে। সক্ষম হয়েছেন নিজেদের জাত চিনাতে। তাই তো তরুণ লেখক ও পাঠকবৃন্দ রীতিমতোই ঝুকছেন তাদের দিকে। তারা জাতিকে উপহার দিয়ে চলেছেন একের পর এক সাড়া জাগানো গ্রন্থ। এই গ্রন্থও ব্যতিক্রম নয়। অর্থবহ ও দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ, মজবুত বাধাই আর উন্নত পাতায় সন্তুষ্ট হতে বাধ্য যে-কোনো রুচিশীল পাঠক। গায়ের মূল্য মাত্র ৩৪০ টাকা।

আর প্রিয় ইমরান রাইহান ভাই বাংলাদেশী তরুণ ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে খুবই পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য একটি নাম। যিনি ইতিহাস পড়তে ভালোবাসেন। জানতে ভালবাসেন। জানাতে ভালোবাসেন। ইতিহাসের অলিগলি ঘুরে নিখাঁদ ইতিহাস অনুসন্ধানে সুখ খুঁজে পান। সহজবোধ্য করে সেগুলোকে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন। এরই ধরারাবাহিকতায় তিনি হাত দিয়েছেন ভাগ্যবিড়ম্বিত মোগলদের নিয়ে রচিত 'মেগমাত কে আঁসু' গ্রন্থে। ইতোপূর্বে বাংলা ভাষায় এর দুটি অনুবাদ বের হলেও কোনোটিই পূর্ণাঙ্গ ছিল না। তাই নিজের ভেতরের ইতিহাসপ্রেমী সত্তার অনুপ্রেরণা এবং তার কাছে জাতির বিরাট প্রাপ্যের কিঞ্চিত দান হিসেবে এই সমৃদ্ধ অনুবাদগ্রন্থের কাজ করা। অভিজ্ঞ ইতিহাসপ্রেমীর হাতের ছোঁয়ায় অনুবাদ খুঁজে পেয়েছে তার শ্রেষ্ঠ অস্তিত্ব। যার যাদুতে অনাগ্রহী পাঠকও হয়ে উঠবে ইতিহাসপাঠে আগ্রহী। খুঁজে পাবে এতদিনের অজানা শূণ্যতা পূরণের উপযুক্ত উপকরণ। প্রাঞ্জল অনুবাদ ও যথাযোগ্য শব্দচয়ন অনূদিত বইটিকে করেছে মৌলিক বইতুল্য। 

ইতিহাস নির্ভর মৌলিক কিংবা অনূদিত বইগুলোতে আমরা টান অনুভব করি না। আগ্রহী হই সত্য মিথ্যার মিশ্রণে রচিত উপন্যাসের বইগুলোতে। আর এগুলোকেই নির্ধারণ করি ইতিহাসের শুদ্ধাশুদ্ধি যাচাইয়ের নিক্তিরুপে। অথচ বাস্তবতা হলো— উপন্যাস কখনো নিখাঁদ ইতিহাস হতে পারে না! তাই মোগল সাম্রাজ্য পতনের পরবর্তী ইতিহাস জানতে চাইলে বইটি হবে আপনার উত্তম উৎস। আপনি বইয়ের সঙ্গ দিলে আপনাকে নিয়ে সে পাড়ি জমাবে সুদূর ১৮৫৭ সালে। ইতিহাসের অলিগলি ঘুরে ঘুরে আপনাকে দেখাবে তাদের হৃদয়বিদারক জীবনচিত্র। বইয়ের লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক ও বইসংশ্লিষ্ট সবাইকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দান করুন!

এক নজরে বই পরিচিতি:
বই: রাজকুমারির আর্তনাদ
মূল: খাজা হাসান নিজামি
অনুবাদ: ইমরান রাইহান
প্রকাশনা: নাশাত
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯২
গায়ের মূল্য: ৩৪০ টাকা

#ইসলামি_বই_রিভিউ_প্রতিযোগিতা_জানুয়ারি_২০২০

মেমসাহেব লেখকঃ নিমাই ভট্রাচার্ষ


মাঝে মাঝে মনে হয় আমি ভুল,আমি মিথ্যা, আমি ছায়া, আমি অব্যয়।মনে হয় এমন করে নিজেকে বঞ্চনা করে কি লাভ?
মেমসাহেব যদি আমাকে ঠকিয়ে লুকিয়ে থাকতে পারে, তবে আমিই বা তাকে মনে রাখবো কেন? হতচ্ছাড়িকে ভুলবো বলে হুয়াইটস্ হর্স এর বোতল নিয়ে বসে ঢক ঢক করে গিলেছি।
গিলতে গিলতে বুক পেট জ্বলে উঠলেও,আমি স্বাভাবিক থাকতে পারিনি কিন্তু তবুও ওর হাসি,ওর ঔ দুটো চোখ আমার সামনে থেকে সরে যায়নি। আবার মাঝে মাঝে মনে হয়েছে আমি লম্পট, বদমাইশ,দুশ্চরিত্র হবো,যেখানে যে মেয়ে পাবো তাকে নিয়ে ফূর্তি মজা করব। মনে হয়েছে রক্ত মাংসের এই দেহটাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলব। পারিনি। দোলাবৌদি,আমি পারিনি।
সুযোগ-সুবিধা পেলেও পারিনি। মনে হয় মেমসাহেব আমার পাশে দাড়িয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।
,
রাস্তাঘাটে চলতে ফিরতে গিয়ে একটু ময়লা,টানা-টানা চোখের বিরাট খোপাওয়ালা মেয়েকে দেখলেই মনে হয় ঔতো মেমসাহেব। প্রায়ই ছুটে যাই তার পাশে, কোথায় পাবো আমার কালো মেমসাহেবকে?
,
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে মেমসাহেব আমার কাছে এসে ঘুম টা কেড়ে নিচ্ছে। আগে আমার কি বিশ্রী ঘুম ছিল। বিশ্বব্রক্ষান্ড ওলট-পালট হয়ে গেলেও আমার ঘুম ভাঙতো না। ঘুমের জন্য মেমসাহেব ও কি আমাকে কম বকাবকি করেছে?
কিন্তু আজ? ঘন্টার পর ঘন্টা বিছানায় গড়াগড়ি করি কিন্তু ঘুম আসে না। একেবারে শেষ রাত্রের দিকে ভোর বেলায় মাত্র দু'তিন ঘন্টার জন্য ঘুমাই।জীবনটা কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। সব কিছু থেকেও আমার কিছু নেই।
,
মেমসাহেবকে ভুলি কি করে?
ওকে ভুলতে হলে নিজেকে ভুলতে হয়,ভুলতে হয় আমার অতীত, বর্তমান,ভবিষ্যত।
 কিন্তু সে কি সম্ভব, আমি যদি উন্মাদ না হই তাহলে কি করে হবে,আমার জীবনের অমাবস্যার অন্ধকারে ওর দেখা পেয়েছিলাম। কিন্তু পূর্নিমার আলোয় ওকে পাবার আগেই ও পালিয়ে গেল।
,
মেমসাহেবের কন্ঠস্বর চিরদিনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। আজ আমি যত অনিয়মই করিনা কেন, কেউ নেই আমাকে শাসন করার,
কেউ নেই আমাকে বাধা দেবার।
,
কর্ম জীবনের সাফল্য, সমাজ জীবনের প্রতিষ্ঠা, প্রান ভরা ভালবাসা -সব কিছুই দিয়েছে। নিজে কিছুই ভোগ করলো না, কিছুরই ভাগ নিল না। সব কিছু রেখে গেল- নিয়ে গেছে শুধু আমার হৃদপিন্ডটা।

PDF Donwload Link

কয়েদি শ্রেনিঃ গল্পগ্রন্থ লেখকঃ অঞ্জন হাসান পবন




#বই_রিভিউ

বইঃ কয়েদি
শ্রেনিঃ গল্পগ্রন্থ
লেখকঃ অঞ্জন হাসান পবন
প্রকাশনীঃ কিংবদন্তী পাবলিকেশন
২য় প্রকাশঃ বইমেলা-২০২০
ছাড় মূল্যঃ ২০০

-একটা এফআইআর লিখাতে চাই।
"জ্বি, কার বিরুদ্ধে?
-কয়েদির বিরুদ্ধে।
"কয়েদির বিরুদ্ধে?কেন?"
-কয়েদি আমার কাছ থেকে একে একে সব কেড়ে নিয়েছে। কেড়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। ধ্বংস করেছে আমার সুস্থ স্বাভাবিক চিন্তা জগৎ-কে। কিছু বিষাদময় স্মৃতি দ্বারা তিলে তিলে খুন করছে আমাকে। প্রতিটি রাতে শুরু হয় মৃত্যু অভিযান। একেবারে মেরে ফেলতে না পারলেও মৃত্যু যন্ত্রনায় কোণঠাসা করে ফেলেছে আমাকে।আমি টাইটানিকের যাত্রীদের মতো বিষাদের আটলান্টিকে ডুবে যাচ্ছি আর নিজের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শন করছি। আমি আর নিজের মৃত্যু অনুভব করতে চাচ্ছি না। প্লিজ ওসি সাহেব, বাঁচান আমাকে। আমি আর নিতে পারছি না।
"আপনি কী রাকিবের মাহবুবা?"
-হ্যাঁ। আমি ই সেই হতভাগী যার রাকিবকে কেড়ে নিয়েছে কয়েদি। রাকিবের কিছু স্মৃতি আমাকে কাঁদায়, আমি কাঁদি। কিছু স্মৃতি হাসায়, আমি হাসতে থাকি। কিন্তু কখন যে সেই হাসি কান্নায় রূপ নেয়, আমি তখনই তা বুঝতে পারি যখন তপ্ত অশ্রু গাল বেয়ে পড়তে থাকে। কয়েদি আমাকে চন্দ্রমল্লিকা হতে বাধ্য করেছে। রবীন চাইলেই আমাকে তার কাছে রেখে দিতে পারতো। সেই অধিকার তার ছিলো। কিন্তু কয়েদি তেমনটা হতে দেয়নি। কয়েদি আমাকে তুলে দিয়েছিলো শাওন নামক প্রেমিকের হাতে। বিশ্বাস করুন। রবীনের সাথে কাটানো একটা মাত্র রাত আজ আমাকে বড্ড পোড়ায়। আত্মগ্লানির অনলে জ্বলছি প্রতিটি মুহূর্ত। কয়েদি আমাকে বিবেক নামক কারাগারের কয়েদি বানিয়ে দিয়েছে। কয়েদি আমাকে ধর্ষিতা উপাধি দিয়েছে। আরিফকে আমি স্বেচ্ছায় নিজের শরীর দিয়েছিলাম। আরিফ আমাকে ধর্ষন করেছে তার মুখের কথা দিয়ে, তার মস্তিষ্ক দিয়ে। যেদিন রৈখিক ভালোবাসাময় একটি সংসারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরিফ এক অন্য জগৎ এর বাসিন্দা বানিয়ে দিলো ঠিক সেদিনই আমি তার প্রতিশ্রুতির দ্বারা ধর্ষিত হয়েছি। কয়েদি আমাকে এমন এক উপাধি দিয়েছে যে, উপাধি শোনামাত্র সবাই বাঁকা চোখে এক অন্য রকম অনুভূতি নিয়ে আমার দিকে তাকায়। আমি কয়েদির কয়েদি জীবন দাবী করছি, কিন্তু তা সম্ভব নয়- কেননা কয়েদি তার কয়েদি জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে গেছে।
"কে দিয়েছে মুক্তি?"
-শুভ, শূন্য, শাওন এবং নুহান আলিফ। ওরা তো ওর মুক্তির জন্য আবেদন করলো। শুভ বললো কয়েদি তাকে রাত্রি নামক কোনো এক নতুন পৃথিবী দিয়েছে। সাথে দিয়েছে মা-বাবা নামক অক্সিজেন আর পানি। এদিকে শূন্যকে নাকি পুষ্পিতা আর পাখি নামের দুটি নক্ষত্র দিয়েছে কয়েদি। শাওন নাকি অপ্রত্যাশিত ভাবে তার প্রেমিকা চুমকি কে পেয়ে গেছে। পরে শুনতে পেলো কয়েদি'ই নাকি এই মহান কাজটা করেছে। নুহান তো কয়েদির কয়েদ হওয়ার কথা শুনে কেঁদেকেটে অস্থির। কয়েদি নাকি তাকে প্রিয়ন্তী নামের এমন একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো যার সাথে দেখা হওয়ার পর নুহানের জীবনের মোড়টাই পাল্টে যায়। এতো কিছু শোনার পর আর আঁটকে রাখতে পারিনি কয়েদি কে। কয়েদি জীবন থেকে মুক্তি পেলো কয়েদির
নীরবতা। ওসি সাহেব, আপনি দ্রুত অঞ্জন হাসান পবন নামক এই মানসিক সন্ত্রাসীর নামে একটা জিডি করুন। এই মানুষটা কয়েদি জীবন মুক্তি দিলো চার দেয়ালে বন্দি কোন এক জেল কয়েদির, আর আমাকে কয়েদির কয়েদ করে রেখেছে বইটির মাধ্যমে। মাথা থেকে বইটির প্রতিটি চরিত্র আমার ভেতরটা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে আর কোটি কোটি দিচ্ছে ঠোকর! আর একটা প্রশ্ন ছিলো...
"কি প্রশ্ন?"
-ইলিশ মাছের কলিজার ইংরেজী কি হবে?

©Marruz Jahran

নবী ইউসুফের (আঃ) পাঠশালা। লেখকঃ শাইখ আহমাদ মূসা জিবরীল।



❝সুবহানাল্লাহ!! যেন শুধু একটি বই নয়!! এ যেন একটি অভিজ্ঞতা!!

আল্লাহ'র দ্বীনের উপর আপোষহীন ভাবে চলার ক্ষেত্রে কারাগারের জগৎ আরেক অনস্বীকার্য বাস্তবতা। যারা ইসলামের আদর্শ লালন করেন এবং যারা তা নির্ভেজাল ভাবে প্রচারের কাজে নিয়োজিত, এমন এই বাস্তবতা সম্পর্কেও স্বচ্ছ ধারণা থাকা উচিত।

এই বইটি শুধু কারাগার জীবনের অত্যাচার, নির্যাতন ও ভয়াবহতাই আলোচনা করেনি বরং সাথে সাথে আমাদের এ শিক্ষাও দেয়, যদি কখনো আমরা এমন পরিস্থিতির শিকার হই (যা আমরা কক্ষনোই কামনা করবো না) তাহলে কিভাবে নিজের ঈমান রক্ষা করে পুরুষের মতো এর মুকাবিলা করতে পারি।

ইতিহাসের চার সময়ের চার জন মহান ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে (যাদের মধ্যে একজন নবী) কারা জীবনের অভিজ্ঞতা ও তা কিভাবে শ্রেষ্ঠ উপায়ে মুকাবিলা করা যায়, আমাদেরকে বলে দেয়া হয়েছে এই বইটিতে। তাঁরা হলেন- সাইয়্যেদুনা ইউসুফ আলাইহিস সালাম, শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ, ইমামে আযম ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ, শায়েখ নাসির আল ফাহাদ ফাকাল্লাহু আসরাহ।

যুগে যুগে আপোষহীন হক্বপন্থীদের সাথে যালিমদের আচরণ সম্পর্কেও আমরা বইটি থেকে জানতে পারবো ইন শা আল্লাহ। কিভাবে তারা যখন হক্বপন্থীদের আর কোনো ভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারে তখনই তাদেরকে কারাগারে নিক্ষেপ করে। বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা, মিথ্যে জঘন্য অভিযোগ ছড়িয়ে তারা হক্বপন্থীদের জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে দিতে চায়।

বইটি পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম সুবহানাল্লাহ যালিমদের এই একই কর্মনীতি হাজার হাজার বছর ধরে। আর হক্বপন্থীদেরও একই কর্মনীতি। লাশ বের হয়েছে কারাগার থেকে কিন্তু আদর্শ থেকে এক চুল পরিমাণ বিচ্যুতি কেউ ঘটাতে পারে নি। কত নির্যাতন করা হয়েছে, কত ভয় দেখানো হয়েছে, কত কিছুর লোভ দেখানো হয়েছে কিন্তু না, তাঁরা নিজেদের অবস্থানে অটল ছিল। আল্লাহর প্রতি তীব্র ভালোবাসা সৃষ্টি হলে আর তাঁর প্রতিশ্রুত জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা মনে সৃষ্টি হলে বুঝি এমনই হয়।

বইটির আরেকটি অসাধারণ দিক হলো পুরো বই জুড়েই শায়েখ প্রসঙ্গক্রমে নিজের কারাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন যা বইটির সৌন্দর্য আরো হাজার গুন বৃদ্ধি করে দিয়েছে। যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে যিনি এই ঘটনাগুলো বর্ণনা করছেন তিনি নিজেই একজন মজলুম। তিনি নিজেও জীবনে এ ধাপগুলি অতিক্রম করেছেন। তখন বইটি পড়তে এক অন্যধরনের অভিজ্ঞতা হবে ইন শা আল্লাহ।

আল্লাহ তা'য়ালা বইটির সাথে জড়িত সকল ভাইকে উত্তম প্রতিদান দিন। যেটি মূলত শায়েখের লেকচার ❝University of Yusuf❞ এর অনুবাদ। আল্লাহ তা'আলা শায়েখকে ও তাঁর পরিবারকে হেফাযত করুন। আর অন্যায় ভাবে কারাবন্দী বিশ্বের সকল মুসলমানের ও তাদের পরিবারদের যেন আমরা সর্বদা দু'আয় স্মরণ রাখি। আল্লাহ তা'আলা তাদের মুক্তি ত্বরান্বিত করুন। আমিন।

ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ❝মুসলিমদের যা কিছু আছে তার সবটা দিয়ে হলেও মুসলিম বন্দীদের মুক্ত করা বাধ্যতামূলক। আর এ ব্যাপারে কোনো মতপার্থক্য নেই।❞

সকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর!!❞

❝নবী ইউসুফের পাঠশালা❞ নিয়ে এই অসাধারণ রিভিউটি লিখেছেন ভাই মেহরাজ হুসাইন কাউসার। আপনারাও জানাতে পারেন বইটি নিয়ে আপনাদের অনুভূতি, লিখে ফেলতে পারেন সংক্ষিপ্ত রিভিউ ইন-শা-আল্লাহ।

বইঃ নবী ইউসুফের (আঃ) পাঠশালা।
লেখকঃ শাইখ আহমাদ মূসা জিবরীল।
 নির্ধারিত মূল্যঃ ১০০ টাকা।

‘বিয়েঃ স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর’  লেখকঃমির্জা ইয়াওয়ার বেইগ 




বুক রিভিউ

বই : ‘বিয়েঃ স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর’

লেখক : মির্জা ইয়াওয়ার বেইগ


প্রকাশক : সিয়ান পাবলিকেশন

ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেন, ‘একে অন্যকে ভালোবাসে এমন দুজনের জন্য বিয়ের মতো উত্তম আর কিছু আমি দেখি না।’ (ইবনে মাজাহ, অধ্যায়: বিয়ে, হাদীস নং- ১৮৪৭)

বিয়ে সম্পর্কিত পড়া এটাই আমার প্রথম বই। কিন্তু মাত্র ৬২ পৃষ্ঠার বইটাতে লেখক সত্যিই সুন্দরভাবে জীবনসঙ্গিনীর প্রেমে বারবার পড়ার মন্ত্র সাবলীলভাবে বলেছেন।

আসলে শুধু লাইফ পার্টনার না, লেখক এমন অনেক পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করেছেন যেগুলো পরিবার পরিজন এমনকি বন্ধু-বান্ধবিদের সাথেও প্রয়োগ করা যায় বা করা উচিত।

দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার মন্ত্র গুলো লেখক যখন আলোচনা করছিলেন তখন সত্যিই খায়েশ জন্মাচ্ছিল ৩০ বছর পরেও যেন আমি আমার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে প্রেমে পড়তে পারি।

সুখী দাম্পত্য জীবনে কী কী ভূমিকা রাখে এমন প্রশ্নে লেখক মোটামুটি তিনটি বিষয়ে ফোকাস করতে চেয়েছেন তা হলো-

  ১- সত্যবাদিতা
  ২- যত্নবান হওয়া
  ৩- পারস্পরিক সম্মানবোধ

এছাড়াও অনুরাগ প্রকাশে পাগলামি করা। উপহার দেয়া। শুধু মেয়েরা না, ছেলেরাও যে উপহার পেলে খুশি হয় এবং বরং মেয়েদের তুলনায় বেশি খুশি হয় সেটাও হয়ত অনেকের ভাবনাতেও থাকে না।

বিয়েঃ স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর বইতে লেখক মূলত ২০ টি প্রশ্নের উত্তরের উপর আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে আরো একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় আমার কাছে লেগেছে যে, দুজনার একটা ভাষা তৈরি করে ফেলা।

‘যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এ সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে তাদের আপনি দেখবেন যে, তারা হয়ত কোনো বিষয় নিয়ে মুচকি হেসে যাচ্ছে, কী কারণে তারা দুজন হাসছে তা কেবল তারাই বুঝতে পারে। হয়তো দেখবেন তারা এমন একটা ভাষায় কথা বলছে যা কেবল তারাই বুঝতে পারছে। তাদের কথাগুলো হয়তো অন্যদের কাছে একেবারেই সাধারণ মনে হয়, কিন্তু তা তাদের পরস্পরের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এটা যদি আপনি গড়ে তুলতে পারেন তাহলে ৩০ বছর পরেও দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে প্রেমে পড়বেন বারবার।’

এ বিষয়টা লিখতে গিয়ে লেখকের আরো একটা উক্তিও অবশ্য মনে পড়ে গেল,

‘আমি প্রায়ই বলি, ‘ঝগড়াটে কাউকে বিয়ে করার চেয়ে একটি ঘোড়া কেনা ভালো; ঘোড়াটি অন্তত বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে আনতে পারতো।’ ‘ঝগড়াটে’ একটা উভয়লিঙ্গ শব্দ; নারী বা পুরুষ উভয়ের খেত্রেই প্রযোজ্য।’

আমার কাছে মনে হয়েছে অল্প কলেবরের বইটিতে লেখক অত্যান্ত মূল্যবান আলোচনা করেছেন দাম্পত্য নিয়ে। যদিও আমার মনে হয়েছে দাম্পত্যের বাইরেও অন্যান্য ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গুলোর খেত্রেও বইয়ের নাসিহা গুলো মূল্যবান মুক্তোর মত।

লেখক মির্জা ইয়াওয়ার বেইগের সম্পর্কে বলতে গেলে এটা আমার পড়া তার প্রথম বই। তবে তার প্রথম বই পড়েই আমি মুগ্ধ হয়েছি সত্যি। প্রকাশকের কথা থেকে লেখকের পরিচয় টুকলে বলতে হয়,

‘মির্জা ইয়াওয়ার বেইগের জন্ম প্রাচ্যে। জীবনের বড় একটা অংশ পশ্চিমে কাটিয়েছেন। কর্পোরেট জগতের বহু ডাকাবুকোর গুরু তিনি। ইসলামের আলোয় আলোকিত এ মানুষটি এমন এক চশমা দিয়ে দুনিয়াটাকে দেখেন যার জুঁড়ি নেই। আদর্শিক পা হড়কানো থেকে উদ্ভূত সমস্যাগুলোকে তিনি ঝানু ব্যাবসায়ীর চোখ দিয়ে দেখেন, ব্যবচ্ছেদ করেন। এরপর ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান সাধেন।’

এবার আসি প্রকাশনীর কথায়। সিয়ান পাবলিকেশন সম্পর্কে কিছু বলার নেই আসলে। আজ যে এত সুন্দর সুন্দর প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা কনটেন্ট আর নজর কাড়া লুক পৃষ্ঠা বিন্যাস, সুন্দর সাবলীল বানান এবং রুচিশীল শব্দচয়ন ইসলামী প্রকাশনী-বইয়ে আমরা দেখি তার অনেক অবদান সিয়ান পাবলিকেশনের। যার সুচনাটা হয়েছিল তাদের হাত দিয়েই। 

সত্যি বলতে অনুবাদ পড়ার সময় মনেই হয়নি আমি অনুবাদ পড়ছি। আল্লাহ সিয়ানের কাজে আরো বারাকাহ দ্বান করুন। আমার ব্যক্তিগত রেটিং যদি সার্বিকভাবে দেই বইটা সম্পর্কে তাহলে বলতে হবে, সুন্দর প্রচ্ছদ সুন্দর অনুবাদ অসাধারণ কিছু নসিহা যা বইটা পড়ে শেষ করার পর বাস্তব জীবনে এ্যপ্লাই করতে ইচ্ছে করবে। তাই আমার রেটিং- ৯.৪/১০

‘বিয়েঃ স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর’ পড়ার পর আমি উপহার লিস্টে বইটা যুক্ত করেছি। আমার পরিবারের সদস্যদেরকেও যারা বিয়ের উপযুক্ত হয়েছে বা বিয়ে করেছে তাদেরও বইটা উপহার দেয়ার নিয়াত করেছি। শুধু তো দাম্পত্য নয় পরিবারের সকলের সাথে সম্পর্কটা পোক্ত করা প্রয়োজন। আমার অনুরোধ থাকবে বইটা ছেলে-মেয়ে সকলের পড়ার এবং উপহার দেয়ার...

অন্তিম মুহূর্ত ♦️লেখক : শাইখ আব্দুল মালিক আল-কাসিম



প্রিয় নবিজির অন্তিম মুহূর্তের বাণী :
আমাদের নবি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সকল নবি-রাসুলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তিনি। সকল সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম ও সম্মানিত। কিন্তু মৃত্যুযন্ত্রণা তাঁকেও ভোগ করতে হয়েছিল।
ইনতেকালের পূর্ব সময়ে। অন্তিম মুহূর্তে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বারবার পানির পাত্রে হাত দিয়ে নিজের চেহারা মুছে নিচ্ছিলেন। আর বলছিলেন,
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، إِنَّ لِلْمَوْتِ سَكَرَاتٍ
‘আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। নিশ্চয় মৃত্যুর যন্ত্রণা অনেক কঠিন।’
ফাতিমা রা. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে। এ কষ্ট ও যন্ত্রণা দেখে তিনি বললেন, ‘হায়, আমার বাবার কত কষ্ট হচ্ছে!’
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
لَيْسَ عَلَى أَبِيكِ كَرْبٌ بَعْدَ اليَوْمِ
‘আজকের পর তোমার বাবার আর কোনো কষ্ট নেই।’
ভাই! পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব, সৃষ্টিজীবের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত মানবের অন্তিম মুহূর্তের অবস্থার বর্ণনা এটি। যার আগের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। এ বর্ণনা তাঁর অন্তিম মুহূর্তের।
.
আমরা যেদিকেই যাই। যেখানেই আত্মগোপন করি না কেন। মৃত্যু একদিন আমাদের কাছে আসবেই। আমাদের পাকড়াও করবেই। যদি আমাদের এ কথা বলা হয় যে, কয়েক শত বছর পর তোমাদের মৃত্যু হবে। তবুও তো একটি দিন চলে গেলে একটি রাত অতিবাহিত হলে আমাদের চিন্তিত হওয়া দরকার এবং প্রতিনিয়ত আমাদের চিন্তা ও পেরেশানি আরও বৃদ্ধি পাওয়া দরকার। কারণ, এই রাত-দিনের প্রস্থানই তো ধীরে ধীরে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দিকে। কিন্তু আমাদের জীবন তো আরও ছোট, আমাদের হায়াত তো আরও অনেক কম। সাধারণত ষাট-সত্তর বছরের। বরং আমাদের কারও মৃত্যু তো এরও আগে হয়ে যায়। বার্ধক্যে পৌঁছার আগেই, যুবক বয়সে বা তারও আগে। কিন্তু মৃত্যুর জন্য আমাদের সেই চিন্তা কোথায়? মৃত্যুর জন্য আমাদের সেই প্রস্তুতি কোথায়?
আমরা কি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত? আমরা কি সেই দীর্ঘ সফরের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করছি? মৃত্যুর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য কি আমরা প্রস্তুত আছি? আল্লাহর শপথ, মৃত্যুর পর আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে সংকীর্ণ কবর ও তার প্রশ্ন-উত্তর। এরপর কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা। তারপর হয়তো জান্নাত, নয়তো জাহান্নাম।
-
♦️বই : অন্তিম মুহূর্ত
♦️লেখক : শাইখ আব্দুল মালিক আল-কাসিম
♦️অনুবাদক : আব্দুল্লাহ ইউসুফ
♦️প্রকাশনী : রুহামা পাবলিকেশন
♦️বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৮৮
♦️মুদ্রিত মূল্য : ১১৫ টাকা (২৫% ছাড়ে বিক্রয় মূল্য : ৮৫ টাকা)

আল্লাহকে পেতে চাইলে



ব্যক্তিগতভাবে আমি ইবনুল-কাইয়্যিম রহ.-এর কিতাব বেশি পছন্দ করি। তাঁর লেখনীতে আলাদা একটি বৈশিষ্ট্য আছে। প্রতিটি বিষয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণের পাশাপাশি এতটা অন্তর-স্পর্শী ভাষায় লেখেন যে, সরাসরি অন্তরে গিয়ে বিধে। কিন্তু ইমাম গাজালী রহ.-এর লেখনী পড়তে গেলে মাঝে মাঝে আমি নিজের মস্তিষ্কের ওপর কাবু হারিয়ে ফেলি। যেন আমাকে মাতাল করে দিচ্ছে! তিনিও প্রতিটি বিষয়ের অনেক গভীরে যান। মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলি! কীভাবে সম্ভব! আমার মনে আছে, সর্বপ্রথম তার যে বই পড়েছিলাম, সেটা ছিল জবানের হেফাজত নিয়ে। ৭০-৮০ পৃষ্ঠার এই ছোট্ট বইটি পড়ার পর এক সপ্তাহ লেগেছে এর রেষ কাটতে। মুখ দিয়ে কথাই বের হতে চাইতো না!
.
আত্মশুদ্ধির জগতে এই ইমাম অসাধারণ কাজ করে গেছেন। সেসব কাজের ভিতর 'মুকাশাফাতুল কুলূব' বইটি অন্যতম। অন্তরের ব্যাধি, এর প্রতিকার, দুনিয়ার নিন্দা, তাকওয়া, মৃত্যু এবং পরকাল নিয়ে চিন্তাভাবনা, অল্পেতুষ্টি, শোকর, যিকির, তাওবা, কী নেই এই বইতে? ৬৩২ পৃষ্ঠার এই বৃহৎ বইটির বাংলা সংস্করণ 'আল্লাহকে পেতে চাইলে', প্রতিটি হাদীসের তাহকীক তাখরীজ সহ অনুবাদ করেছে কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক।
.
বই: আল্লাহকে পেতে চাইলে
লেখক: হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযযালী (রহ.)
প্রকাশনী: আনোয়ার লাইব্রেরী
মূল্য: ৪২% ছাড়ে ৪০৬৳
অর্ডার করতে ভিজিট করুন: https://bit.ly/33CnAs8

আপনি কি জব খুঁজছেন? | লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী


.
বইঃ আপনি কি জব খুঁজছেন?
লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী
অনুবাদকঃ মাওলানা মাকসুদ আহমাদ
প্রকাশকঃ হুদহুদ প্রকাশন
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৪০৳
পৃষ্ঠাঃ ১৩৬
.
ছোট অবস্থা থেকে আমাদের প্রায় পরিবার ও স্কুলগুলোতে শেখানো হয় লেখাপড়া করে চাকরি করতে হবে। সেই সাথে অর্থ-সম্পত্তি আর্জনের মাধ্যমে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু আমরা ভুলে যাচ্ছি যে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এই ইচ্ছাশক্তি কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য আমানত স্বরুপ। এই আমানতের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া সম্ভব। দুনিয়ার জীবনে চাকরি করলে যেমন শান্তিপূর্ণভাবে থাকা যায়। তেমনিভাবে পরকালীন জীবনে শান্তিপূর্ণ ভাবে থাকতে হলে দুনিয়াবী জীবনের চাকরির উপরেই নির্ভর করতে হয় । যে চাকরি আল্লাহ নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমরা পরকালীন জীবনের জন্য চাকরির চিন্তা ছেড়ে দুনিয়াবী চাকরির দিকেই ঝুকে পড়ছি। কিন্তু আমাদের তো উচিত ছিল পরকালের স্বার্থে দুনিয়ার জীবন পরিচালনা করা।
এখন আমি যে বইটির কথা বলবো তাতে দুনিয়ার চাকরি নয় বরং পরকালের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত চাকরির কথা বলা হয়েছে। বইটির নাম " আপনি কি জব খুজছেন " বইটির লেখক ড. মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী। যিনি একাধারে একজন লেখক, গবেষক, সুবক্তা ও ইসলামী চিন্তাবিদ।
এক্ষনে আমি বইটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে কিছু আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ-

▶ সার-সংক্ষেপঃ-
দুনিয়ার জীবনে চাকরির পিছনে আমরা হন্যে হয়ে ছুটছি। চাকরি যেন সোনার হরিণ। কত জায়গায় কোচিং করা, কত কৌশল আর চেষ্টা তদবির করছি তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু এর বিপরীতে আরেকটি চাকরি আছে যেটা আল্লাহ প্রদত্ত চাকরি। এখানে যোগ্যতার কোন সীমাবদ্ধতা নেই। নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই চাকরি পাবে।
পরকালে শান্তির আশায় যুবকদের উদ্দেশ্যে করে লেখক ১১ টি অসিয়ত করেছেন। যেগুলো বিভিন্ন ঘটনাবলি ও উপর্যুক্ত আয়াত ও হাদীস দ্বারা সন্নিবেশিত। তার মধ্যে কয়েকটি অসীয়তের সার-সংক্ষেপ হলো-
জীবনকে পরিচালনা করতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, নেক কাজের হাতিয়ার হিসেবে। দুনিয়ার জীবন তো আখিরাতের তুলনায় একেবারেই তুচ্ছ। সুতরাং সবসময় দুনিয়ার উপর আখিরাতকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে। ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে মাগফিরাত কামনা করতে হবে।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আল্লাহ প্রদত্ত দ্বীনের দাওয়াত প্রদান অব্যহত রাখতে হবে।
সর্বাবস্থায় অন্যায়ের প্রতিরোদ করতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে কিভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যায়।
এভাবে অসীয়ত গুলো অধ্যয়ন করলে পাঠক বুঝতে পারবে মানুষের জীবন আসলেই কতটা ক্ষণস্থায়ী। একদিন এই ক্ষনস্থায়ী জীবনের সবকিছু ফেলে পাড়ি জমাতে হবে পরকালের পথে। সেখানেই রয়েছে আমাদের প্রকৃত আবাসস্থল। আর সেখানে থাকতে অনন্তকাল। অতএব যে যেভাবে পারেন, যতটুকু পারেন সবসময় দুনিয়াবী চাকরির পিছনে না ছুটে কিছু সময় আখিরাতের পিছনেও ব্যয় করুন। এর ফলে বেতন হিসেবে পাওয়া যাবে চিরসূখের আবাসস্থল জান্নাত।
.
▶ ব্যক্তিগত অনূভুতিঃ-
 ব্যক্তিগত অনূভুতি যদি বলতে হয় তাহলে বলবো বইটি এককথায় অসাধারন। দামের দিক থেকেও সাশ্রয়ী।
বইটি পড়ার সময় পাঠকের চিন্তায় ভেসে উঠবে দুনিয়ায় আমরা কি করছি? কেনইবা করছি? আখিরাতের অনন্ত জীবনের জন্যই বা কি করেছি?
নিজেকে একজন আদর্শ মুসলিম হিসেবে গড়ে তুলতে এ বই হতে পারে আপনার আদর্শ সঙ্গী। তাই সকল পাঠকের প্রতি অনুরোধ বইটি একবার হলেও পড়ুন।
,

Report Abuse

About Me

Tags

Search This Blog

Categories

Categories

Advertisement

40% Off

Popular Posts