প্যারাডক্সিকাল সাজিদ লেখকঃআরিফ আজাদ
Link will be apear in 15 seconds.
Well done! you have successfully gained access to Decrypted Link.
#ওয়াফিলাইফ
বই - প্যারাডক্সিকাল সাজিদ
লেখক - আরিফ আজাদ
মুদ্রিত মূল্য - ৩০০৳
সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে বেশি আলোচিত বইগুলোর একটা এই বইটা।
সমগ্র বিশ্বেই বিশ্বাসী আর অবিশ্বাসীদের দ্বন্দ্ব চলে আসছে সৃষ্টির প্রাথমিককাল থেকেই। আবার তর্কাতর্কির সূত্র ধরে আস্তিকতা বনাম নাস্তিকতা, ইসলাম বনাম অন্যান্য ধর্ম, ইসলাম বনাম বিজ্ঞান - এগুলো হয়ে ওঠে দ্বন্দ্বের বিষয়বস্তু। স্রষ্টা আসলেই আছেন না নাই, মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআন আসলেই স্রষ্টা নাকি মানব রচিত, - এমন নানাবিধ বিষয়ে মুখরোচক তর্ক প্রায়শই হয়ে থাকে। মুসলিমদের আটকে দেবার মত কিছু প্রশ্ন বিশ্বাসীরা সব সময় পকেটে নিয়ে ঘুরে, আর যখন যেখানে সুযোগ পায়, মুসলিমদের ঘায়েল করার জন্য এই প্রশ্নগুলো ছুড়েও দেয়।
তেমনই বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে এই বইটিতে।
বইটিকে সাজানো হয়েছে গল্পের আকারে, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র অবশ্যই সাজিদ নামক বিজ্ঞানমনস্ক, তুখোড় মেধাবী আর ইসলামিক জ্ঞান সম্পন্ন এক ছেলে। কিছু পার্শ্ব চরিত্র দেখানো হয়েছে, সাজিদের জীবনে যাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই গল্প থেকে সাজিদের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য গুণাবলী লক্ষ্য করা যায়, যা তরুণ মুসলিম সমাজের অনুকরণীয় হতে পারে। সাজিদের নিয়মিত ডাইরী লেখার অভ্যাস লক্ষ্যণীয়। বন্ধু হিসেবে আমরা আসলে কাদের সাথে মিশছি, আর তাদের কি কি প্রভাব আমাদের উপর পরছে, - তা খেয়াল করা উচিত প্রত্যেকের।
সাজিদের ইসলাম-বিজ্ঞান-সাহিত্য সহ অন্যান্য বিষয়ে যে প্রজ্ঞা দেখানো হয়েছে, তা সত্যিই ঈর্ষণীয় হলেও অর্জন করা অসম্ভব নয় বোধোয়।
মুসলিমরা নিজেদের অজ্ঞতার কারণে যেভাবে অবিশ্বাসী-নাস্তিকদের সাথে তর্কে গিয়ে নাকানিচুবানি খায়, ব্যাপারটা সব মুসলিমের জন্যই লজ্জার।
একটা যথোপযুক্ত রোল মডেলের অভাবে দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে ঘোরা হাজারো মুসলিম তরুণের আদর্শ হতে পারে এই সাজিদ চরিত্রটি।
বইটিতে উত্তর দেয়া হয়েছে অনেক প্রশ্নের; 'তাকদির বনাম স্বাধীন ইচ্ছা', 'স্রষ্টা কেন মন্দ কাজের দায় নেন না?', 'মুশরিকদের যেখানেই পাও হত্যা করো.....', 'স্রষ্টাকে সৃষ্টি করলো কে?', 'আল-কুরআন কি মানবরচিত?', 'আয়িশা (রাঃ) ও মুহাম্মদ (সাঃ) এর বিয়ে এবং কথিত নাস্তিকদের কানাঘুষা ', 'স্রষ্টা যদি দয়ালুই হবেন তাহলে জাহান্নাম কেন?', - সহ আরও বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। উত্তর উঠে এসেছে 'আল-কুরআন কি আসলেই সাম্প্রদায়িক নাকি অসাম্প্রদায়িক, বৈজ্ঞানিক নাকি অবৈজ্ঞানিক? ' - এগুলোরও। যেই বিজ্ঞানের যুক্তি দিয়ে কুরআনের ভুল ধরার চেষ্টা করা হয়, সেই বিজ্ঞান যে ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তিত হয়, প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বগুলোও ভুল প্রমাণিত হয়, ধারণা পাল্টে যায়, আর শেষ পর্যন্ত এসে কুরআনের সাথে মিলেও যায়; ১৪০০ বছর আগে কুরআন যা বলেছে বিজ্ঞান এই শতাব্দীতে এসেও এখনো সেগুলোই আবিষ্কার করছে - সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে। অবিশ্বাসীদের দর্পচূর্ণ করেছে সাজিদ, তার যৌক্তিক আর বিজ্ঞানভিত্তিক উত্তরের মাধ্যমে। আবার বিজ্ঞানের আলোচনা এত সহজ-সুন্দরভাবে করা হয়েছে যে, যে কোনো সাধারণ মানুষেরও বুঝতে অসুবিধা হবে না।
শেষে এসে বলা যায়, যারা বুঝতে চায় না, তারা কখনোই বুঝবে না। কারণ ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগানো যায়, জেগে চোখ বন্ধ করে রাখা ব্যক্তিকে না। এই বিষয়েও একটা আলোচনা আছে এই বইতে, ' তাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দেন। সত্যিই কি তাই?'
তবে আপনি বিশ্বাসী হোন বা অবিশ্বাসী, বইটি পড়ে ফেলুন। বিশ্বাসীদের বিশ্বাস আরও পোক্ত হবে, অবিশ্বাসীরা পাবেন নতুন চিন্তার খোরাক।






